x
d o c t o r s 2 4
23 Dec

রাতে ঘুমাতে গেলেই পায়ে অদ্ভুত অস্বস্তি, নড়াচড়া না করলে যেন স্বস্তি মিলছে না—এই পরিচিত সমস্যাটির নাম রেস্টলেস লেগ সিন্ড্রোম (RLS)। অনেকেই মনে করেন এটি হঠাৎ শুরু হয়, কিন্তু স্নায়ু ও ঘুম বিশেষজ্ঞদের মতে বাস্তবে রেস্টলেস লেগ সিন্ড্রোমের প্রায় এক মাস আগেই শরীর কিছু সূক্ষ্ম লক্ষণ দেখাতে শুরু করে। এই আগাম সংকেতগুলো বুঝতে পারলে রোগের তীব্রতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

রেস্টলেস লেগ সিন্ড্রোম কী এবং কেন হয়?

রেস্টলেস লেগ সিন্ড্রোম একটি স্নায়বিক সমস্যা, যেখানে বিশ্রামের সময়—বিশেষ করে রাতে—পায়ে অস্বস্তিকর অনুভূতি হয় এবং পা নাড়ানোর তাগিদ তৈরি হয়। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কের ডোপামিনের ভারসাম্যহীনতা, আয়রনের ঘাটতি, দীর্ঘ সময় বসে থাকা এবং অনিয়মিত ঘুম এই সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। তরুণদের মধ্যেও এখন এই সমস্যা বাড়ছে, যার একটি বড় কারণ লাইফস্টাইল।

লক্ষণ ১: সন্ধ্যার পর পায়ে অজানা অস্বস্তি

রেস্টলেস লেগ সিন্ড্রোমের সবচেয়ে আগাম সংকেত হলো সন্ধ্যা বা রাতে পায়ে অস্বাভাবিক অনুভূতি। এটি ব্যথা নয়, আবার পুরোপুরি চুলকানিও নয়—অনেকেই এটিকে “ভেতর থেকে কেমন যেন লাগা” বলে বর্ণনা করেন। নতুন তথ্য হলো, এই পর্যায়ে হাঁটাহাঁটি করলে সাময়িক স্বস্তি মিললেও বিশ্রামে ফিরলেই অস্বস্তি ফিরে আসে।

লক্ষণ ২: ঘুমের মান ধীরে ধীরে খারাপ হওয়া

এক মাস আগে থেকেই অনেকের ঘুম ভাঙা ভাঙা হতে শুরু করে। ঘুমাতে দেরি হয়, মাঝরাতে বারবার জেগে উঠতে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়ে শরীর গভীর ঘুমে যেতে পারে না, যদিও মোট ঘুমের সময় খুব একটা কমে না। সাম্প্রতিক ঘুম-গবেষণায় দেখা গেছে, RLS-এর আগের পর্যায়ে “মাইক্রো-অ্যারাউজাল” বা খুব ক্ষণস্থায়ী ঘুম ভাঙার ঘটনা বেড়ে যায়।

লক্ষণ ৩: দিনের বেলা ক্লান্তি ও মনোযোগের সমস্যা

রাতে ঠিকমতো বিশ্রাম না হওয়ার প্রভাব পড়ে দিনের বেলায়। অকারণ ক্লান্তি, মাথা ঝিমুনি ও মনোযোগ কমে যাওয়া—এই লক্ষণগুলো অনেকেই কাজের চাপ ভেবে উপেক্ষা করেন। নতুন দিকটি হলো, গবেষকরা দেখেছেন এই সময়ে প্রতিক্রিয়ার গতি কমে যায়, ফলে পড়াশোনা বা কাজে ছোট ছোট ভুল বেড়ে যায়।

লক্ষণ ৪: দীর্ঘ সময় বসে থাকলে পা নাড়ানোর তাগিদ

এক মাস আগে থেকেই দেখা যেতে পারে, সিনেমা দেখা, অনলাইন ক্লাস বা দীর্ঘ ভ্রমণের সময় বারবার পা নাড়ানোর প্রবণতা। বসে থাকলেই অস্বস্তি বাড়ে, দাঁড়ালে বা হাঁটলে কিছুটা কমে। বিশেষজ্ঞরা এটিকে RLS-এর “আর্লি বিহেভিয়ারাল সাইন” হিসেবে চিহ্নিত করছেন, যা অনেক সময় মানসিক অস্থিরতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়।

কেন আগেভাগে শনাক্ত করা জরুরি?

রেস্টলেস লেগ সিন্ড্রোম দীর্ঘদিন অবহেলিত হলে অনিদ্রা, মানসিক চাপ ও জীবনের গুণগত মান কমিয়ে দিতে পারে। নতুন গবেষণায় আরও দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি RLS হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

ঝুঁকি কমাতে কী করবেন?

  • নিয়মিত ঘুম ও জাগরণের সময় মেনে চলুন
  • দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় আয়রনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন
  • দীর্ঘ সময় বসে থাকলে বিরতি নিয়ে হাঁটুন
  • ক্যাফেইন ও অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম কমান

শরীরের এই চারটি আগাম সংকেতকে অবহেলা না করে সময়মতো ব্যবস্থা নিলে রেস্টলেস লেগ সিন্ড্রোমকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সচেতন থাকাই এখানে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।

Leave A Comment