x
d o c t o r s 2 4
14 Dec

অনলাইনে “কার্টে অ্যাড” করা বা সেল দেখলে উত্তেজিত হওয়া আজকের দিনে খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু যখন কেনাকাটা আনন্দের সীমা ছাড়িয়ে মানসিক নির্ভরতা হয়ে ওঠে, তখন সেটি রূপ নেয় শপিং অ্যাডিকশন বা কম্পালসিভ বায়িং ডিসঅর্ডার-এ। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আসক্তিও হঠাৎ তৈরি হয় না। বরং প্রায় এক মাস আগেই শরীর ও মস্তিষ্ক কিছু স্পষ্ট সংকেত দিতে শুরু করে—যেগুলো আমরা প্রায়ই উপেক্ষা করি।

নিচে এমন ৫টি আগাম শারীরিক ও স্নায়ুবৈজ্ঞানিক লক্ষণ তুলে ধরা হলো, যা নতুন তথ্য হিসেবে পাঠকদের সচেতন করতে পারে।

১. কেনাকাটার চিন্তায় শরীরে “এক্সাইটমেন্ট রাশ”

শপিং অ্যাডিকশনের এক মাস আগে থেকেই অনেকের মধ্যে কেনাকাটার কথা ভাবলেই বুক ধড়ফড়, হালকা ঘাম বা শরীরে ঝাঁকুনি লাগার মতো অনুভূতি হয়। এটি আনন্দ নয়; বরং ডোপামিন অ্যান্টিসিপেশন রেসপন্স। নিউরোসায়েন্স বলছে, এই পর্যায়ে কেনার আগের উত্তেজনা কেনার আনন্দের চেয়েও বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে—এটাই আসক্তির বীজ।

২. মন খারাপ বা স্ট্রেসে শরীর নিজে থেকেই “কেনার তাগিদ” তৈরি করে

এক মাস আগে থেকেই শরীর শেখে—মন খারাপ হলেই কেনাকাটা মানে সাময়িক স্বস্তি। মাথা ভার, বুক ফাঁকা ফাঁকা লাগা, অস্থিরতা—এই শারীরিক অস্বস্তি কমাতে হঠাৎ অনলাইন ব্রাউজিং শুরু হয়। এটিকে বলা হয় ইমোশনাল রেগুলেশন বাই শপিং, যা খুব কম মানুষই শারীরিক লক্ষণ হিসেবে চিনে নেন।

৩. কেনার পর ক্লান্তি ও অপরাধবোধের শারীরিক প্রতিক্রিয়া

এই পর্যায়ে কেনাকাটার পরই শরীর হঠাৎ নিস্তেজ হয়ে পড়ে—মাথাব্যথা, চোখ ভার, শক্তি কমে যাওয়া দেখা যায়। পাশাপাশি বুক ভারী লাগা বা পেটে অস্বস্তি হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ডোপামিন দ্রুত নেমে যাওয়ার ফল—যাকে ডোপামিন ক্র্যাশ বলা হয়। এই ক্র্যাশ আবার নতুন করে কেনার তাগিদ তৈরি করে।

৪. ঘুমের সমস্যা ও রাতের বেলা শপিং তাগিদ

শপিং অ্যাডিকশনের আগের এক মাসে ঘুমের ছন্দ নষ্ট হতে শুরু করে। রাতে ঘুম আসতে দেরি হয়, মোবাইল হাতে নিলেই শপিং অ্যাপ খুলে যায়। স্ক্রল করতে করতে সময় হারিয়ে যায়—এটি কেবল অভ্যাস নয়, বরং মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেম অতিসক্রিয় হওয়ার লক্ষণ।

৫. সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শরীরের স্ট্রেস রেসপন্স কমে যাওয়া

অদ্ভুত শোনালেও সত্য—এই পর্যায়ে দাম বেশি হলেও শরীরে তেমন স্ট্রেস হয় না। হার্টবিট, চিন্তা বা “ভেবে দেখব” প্রতিক্রিয়া কমে যায়। বিশেষজ্ঞরা একে বলেন ডিসইনহিবিশন রেসপন্স—যেখানে প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে শুরু করে। এটি আসক্তির একটি গুরুতর আগাম চিহ্ন।

কেন এই লক্ষণগুলো এত আগে দেখা দেয়

শপিং অ্যাডিকশন মূলত মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড–স্ট্রেস সাইকেল-এর ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ফল। ক্রমাগত ডিসকাউন্ট, নোটিফিকেশন ও “লিমিটেড অফার” মস্তিষ্ককে ট্রেনিং দেয়—এবং শরীরই প্রথম তার প্রতিক্রিয়া দেখায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই এক মাসের মধ্যে ডিজিটাল ডিটক্স, নোটিফিকেশন বন্ধ করা, কেনার আগে ২৪-ঘণ্টার নিয়ম, এবং স্ট্রেস রিলিজের বিকল্প অভ্যাস (হাঁটা, শ্বাসব্যায়াম) শুরু করলে আসক্তি গভীর হওয়া রোধ করা সম্ভব। CBT-ভিত্তিক থেরাপি প্রাথমিক পর্যায়ে বিশেষ কার্যকর।

যদি এই ৫টি লক্ষণের একাধিক ২–৪ সপ্তাহ ধরে বাড়তে থাকে এবং আর্থিক বা মানসিক চাপ তৈরি করে, তবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া জরুরি।

Leave A Comment