বাংলাদেশে এন্ডোমেট্রিওসিস একটি নীরব মহামারী হয়ে উঠেছে, যেখানে সচেতনতার অভাব এবং রোগ নির্ণয়ের চ্যালেঞ্জ নারীদের জীবনকে কঠিন করে তুলছে। এই রোগে জরায়ুর আস্তরণের মতো টিস্যু জরায়ুর বাইরে বৃদ্ধি পায়, যা তীব্র পিরিয়ড ব্যথা, ইনফার্টিলিটি এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য জটিলতার কারণ হয়। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে ইনফার্টিলিটি ভোগা নারীদের মধ্যে ২৫-৫০% এন্ডোমেট্রিওসিসে আক্রান্ত, কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে এই রোগ সম্পর্কে জ্ঞান প্রায় নগণ্য।
বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্টস সোসাইটি (BMSS) এবং এন্ডোমেট্রিওসিস-অ্যাডেনোমায়োসিস সোসাইটি অব বাংলাদেশ (EASB) সম্প্রতি একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে, যার লক্ষ্য ওয়ার্কশপ এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক নির্ণয়ে গড়ে ৭-১০ বছর দেরি হয়, কারণ লক্ষণগুলো প্রায়শই সাধারণ পিরিয়ড ব্যথা হিসেবে ভুল বোঝা হয়। ল্যাপারোস্কপি, যা এন্ডোমেট্রিওসিস নির্ণয়ের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি, বাংলাদেশের বেশিরভাগ হাসপাতালে সহজলভ্য নয়। ঢাকার বাইরে এই সুবিধা আরও সীমিত।
সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, গ্রামীণ এলাকায় ৮০% নারী তীব্র পিরিয়ড ব্যথাকে স্বাভাবিক মনে করেন এবং চিকিৎসকের কাছে যান না। এছাড়া, সামাজিক লজ্জা এবং ট্যাবু এই রোগ নিয়ে খোলাখুলি আলোচনায় বাধা সৃষ্টি করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের গাইনি বিভাগের একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, “এন্ডোমেট্রিওসিস নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে স্কুল-কলেজে শিক্ষা প্রোগ্রাম এবং মিডিয়া ক্যাম্পেইন জরুরি।” এছাড়া, চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন, কারণ অনেকেই এই রোগের জটিলতা সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন।
২০২৫ সালে সরকার এন্ডোমেট্রিওসিসকে জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। এই উদ্যোগে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সাশ্রয়ী মূল্যে ডায়াগনস্টিক সুবিধা বাড়ানোর কথা রয়েছে। এছাড়া, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজে AI-ভিত্তিক স্ক্রিনিং টুলের পাইলট প্রোগ্রাম চালু হয়েছে, যা প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্তে সহায়তা করবে। এই প্রযুক্তি লক্ষণ-ভিত্তিক প্রশ্নপত্র এবং ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা বাড়াতে এবং রোগ নির্ণয়ের গতি বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জরুরি। সামাজিক মাধ্যমে #EndoAwarenessBD ক্যাম্পেইন ইতোমধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যেখানে তরুণীরা তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন। এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সঠিক তথ্য এবং সময়মতো চিকিৎসা নারীদের জীবনমান উন্নত করতে পারে।
