x
d o c t o r s 2 4
06 Dec

সেপসিস একটি জীবনঘাতী অবস্থা, যেখানে শরীরের কোনো সংক্রমণের কারণে স্বাভাবিক প্রদাহ প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং একাধিক অঙ্গ অচল হতে শুরু করে। এই অবস্থা সাধারণত হঠাৎ প্রকাশ পায় বলে মনে হলেও, চিকিৎসা গবেষণায় দেখা গেছে যে সেপসিসের পূর্ণরূপে বিকশিত হওয়ার ঠিক একদিন আগে শরীরে অষ্টটি প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকে।

এই লক্ষণগুলি সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের প্রদাহ প্রতিক্রিয়ার অতিরিক্ত এবং অসংযত রূপের প্রথম পরিচায়ক। এই প্রাক-লক্ষণগুলি সময়মতো চিহ্নিত করলে সেপসিসের বিকাশ রোধ করা এবং অঙ্গের ব্যর্থতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সেপসিসের বিকাশের পূর্বাভাস দেয় এমন অষ্টটি প্রাথমিক লক্ষণ নিম্নরূপ:

১. শরীরের তাপমাত্রার অস্বাভাবিক ওঠানামা: সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শরীরের তাপমাত্রা বারবার বেড়ে ৩৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে এবং তারপর হঠাৎ কমে যায়। এই তাপমাত্রার ওঠানামা সাইটোকাইনের অতিরিক্ত নিঃসরণের ফলে ঘটে।

২. হৃদস্পন্দনের বৃদ্ধি: বিশ্রামের অবস্থায় হৃদস্পন্দন ৯০ বার প্রতি মিনিটের বেশি হয়ে যায়। এই টাকিকার্ডিয়া প্রদাহ প্রতিক্রিয়ার কারণে হৃদপিণ্ডের উপর অতিরিক্ত চাপের ফলে সৃষ্টি হয়।

৩. শ্বাসকষ্ট এবং দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস: শ্বাসের হার ২২ বার প্রতি মিনিটের বেশি হয় এবং হালকা শ্বাসকষ্ট অনুভূত হয়। এটি ফুসফুসের কার্যকারিতার প্রাথমিক প্রভাব এবং সিস্টেমিক প্রদাহের লক্ষণ।

৪. মানসিক অবস্থার পরিবর্তন: স্বাভাবিক মানসিক অবস্থায় অস্পষ্টতা, বিভ্রান্তি বা হালকা অস্থিরতা দেখা যায়। এই লক্ষণটি মস্তিষ্কে প্রদাহমূলক মিডিয়েটরের প্রভাবের কারণে ঘটে এবং সেপটিক এনসেফালোপ্যাথির প্রথম পরিচায়ক।

৫. শরীরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি: সাধারণ কার্যকলাপের জন্যও অতিরিক্ত ক্লান্তি বা শক্তির অভাব অনুভূত হয়। এটি কোষস্তরে অক্সিজেন সরবরাহের অপর্যাপ্ততা এবং প্রাথমিক টিস্যু হাইপোপারফিউশনের ফলে সৃষ্টি হয়।

৬. ত্বকের তাপমাত্রার অসমতা: ত্বকের কিছু অংশ অতিরিক্ত উষ্ণ হয়ে যায় এবং অন্য অংশ ঠান্ডা হয়ে যায়। এই অসমতা সিস্টেমিক ভাসকুলার প্রতিরোধের অস্থিরতা এবং প্রদাহের কারণে রক্তপ্রবাহের অসম বিতরণের ফলে ঘটে।

৭. মূত্রপ্রবাহের হ্রাস: স্বাভাবিকের তুলনায় প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়, যা কিডনির প্রারম্ভিক ডিসফাংশনের লক্ষণ। এটি প্রদাহের কারণে গ্লোমেরুলার ফিলট্রেশন রেটের হ্রাসের ফলে ঘটে।

৮. শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় অস্বস্তি: গভীর শ্বাস নেওয়ার সময় হালকা ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হয়, যা ফুসফুসের প্রদাহমূলক প্রক্রিয়ার প্রথম লক্ষণ।

এই অষ্টটি লক্ষণ যদি একত্রে বা একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দেয় এবং একদিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হয়, তবে সেপসিসের বিকাশের সম্ভাবনা থাকে। এই প্রাথমিক পর্যায়ে অবিলম্বে চিকিৎসা সহায়তা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

প্রধান ব্যবস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে দ্রুত সংক্রমণের উৎস নির্ণয় এবং উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা শুরু করা, পর্যাপ্ত তরল প্রদান এবং গুরুতর ক্ষেত্রে ভাসোপ্রেসার সহায়তা প্রদান।

এই প্রাক-লক্ষণগুলি প্রায়শই সাধারণ সংক্রমণের সাথে যুক্ত বলে উপেক্ষা করা হয়, যা পরবর্তীতে সেপটিক শক, বহু অঙ্গ ব্যর্থতা এবং মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রাথমিক লক্ষণ চিহ্নিত করে প্রথম ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করলে সেপসিসজনিত মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

Leave A Comment