এন্ডোমেট্রিওসিস, একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ যা বাংলাদেশে লক্ষাধিক নারীর জীবনকে প্রভাবিত করছে, এখনও অনেকের কাছে অজানা। এই রোগে জরায়ুর আস্তরণের মতো টিস্যু শরীরের অন্যান্য অংশে বৃদ্ধি পায়, যা তীব্র ব্যথা ও ইনফার্টিলিটির কারণ হয়। সেপ্টেম্বরে, এন্ডোমেট্রিওসিস সচেতনতা মাস উপলক্ষে বাংলাদেশে বিভিন্ন স্থানীয় ক্যাম্পেইন এবং ইভেন্টের আয়োজন করা হচ্ছে, যাতে নারীরা এই রোগ সম্পর্কে জানতে পারে এবং সময়মতো চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত হয়। এই আন্দোলনে অংশ নিয়ে আপনিও পরিবর্তনের অংশ হতে পারেন।
এন্ডোমেট্রিওসিস-অ্যাডেনোমায়োসিস সোসাইটি অব বাংলাদেশ (EASB) এবং বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্টস সোসাইটি (BMSS) যৌথভাবে সেপ্টেম্বর জুড়ে সচেতনতা ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট এবং রাজশাহীতে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য শিবির, সেমিনার এবং ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়েছে। এই বছরের নতুন সংযোজন হলো AI-ভিত্তিক স্ক্রিনিং কর্মশালা, যা কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই প্রযুক্তি লক্ষণ-ভিত্তিক প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে প্রাথমিক নির্ণয়ে সহায়তা করে এবং ইতোমধ্যে ৫০০ জন নারীকে স্ক্রিনিং করেছে।
স্থানীয় কমিউনিটি ক্যাম্পেইনে অংশ নিতে আপনি EASB-এর ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন, যেখানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ঢাকার ধানমন্ডিতে ২০ সেপ্টেম্বর একটি “ইয়েলো ওয়াক ফর এন্ডো” ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে হলুদ পোশাক পরে হাঁটার মাধ্যমে সচেতনতা ছড়ানো হবে। এছাড়া, সামাজিক মাধ্যমে #EndoAwarenessBD ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে আপনি আপনার গল্প, তথ্য বা সচেতনতামূলক পোস্ট শেয়ার করতে পারেন। EASB জানিয়েছে, গত বছর এই ক্যাম্পেইন ১০ লাখেরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে।
চট্টগ্রামে, একটি নতুন উদ্যোগ হিসেবে স্থানীয় কলেজে “এন্ডো এডুকেশন ড্রাইভ” চালু হয়েছে, যেখানে তরুণীদের এন্ডোমেট্রিওসিসের লক্ষণ ও প্রাথমিক নির্ণয় সম্পর্কে শেখানো হচ্ছে। সিলেটে, একটি বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে গাইনোকোলজিস্টরা বিনামূল্যে পরামর্শ দেবেন। এই ইভেন্টগুলোতে অংশ নিতে আপনি স্থানীয় হাসপাতাল বা EASB-এর ফেসবুক পেজে যোগাযোগ করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে এন্ডোমেট্রিওসিস নির্ণয়ে গড়ে ৭-৮ বছর দেরি হয়, যা সচেতনতার অভাবের কারণে। সেপ্টেম্বরের এই ক্যাম্পেইনগুলো এই ব্যবধান কমাতে কাজ করছে।
EASB-এর সভাপতি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি নারীকে এই রোগ সম্পর্কে সচেতন করা এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা।” স্থানীয়ভাবে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগ দিয়ে, পোস্টার বিতরণ করে বা ইভেন্টে অংশ নিয়ে আপনি এই আন্দোলনের অংশ হতে পারেন। এই সচেতনতা নারীদের জীবনমান উন্নত করতে পারে এবং সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
