x
d o c t o r s 2 4
হাইপারক্যালসেমিয়ার ১ সপ্তাহ আগে শরীরে দেখা দেয় ৫টি লক্ষণ
19 Feb

শরীরে ক্যালসিয়াম শুধু হাড় মজবুত রাখে না—হৃদযন্ত্রের স্পন্দন, স্নায়ুর কার্যক্রম এবং পেশির সংকোচনেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে তৈরি হয় জটিল অবস্থা—Hypercalcemia বা হাইপারক্যালসেমিয়া। চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যা ধরা পড়ার প্রায় এক সপ্তাহ আগে শরীর কিছু সূক্ষ্ম লক্ষণ দেখাতে শুরু করে, যা অনেকেই গুরুত্ব দেন না।

হাইপারক্যালসেমিয়া কী?

স্বাভাবিকভাবে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে। যখন তা ১০.৫ mg/dL-এর বেশি হয়, তখন তাকে হাইপারক্যালসেমিয়া বলা হয়। এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যেমন—প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থির অতিরিক্ত কার্যকলাপ, কিছু ক্যান্সার, অতিরিক্ত ভিটামিন ডি গ্রহণ বা দীর্ঘদিন বিছানায় শুয়ে থাকা।

বিশেষ করে Primary hyperparathyroidism এই সমস্যার অন্যতম সাধারণ কারণ। এতে প্যারাথাইরয়েড হরমোন বেশি নিঃসৃত হয়, যা রক্তে ক্যালসিয়াম বাড়িয়ে দেয়।

১ সপ্তাহ আগে যে ৫টি লক্ষণ দেখা দিতে পারে

১. অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা

রক্তে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম স্নায়ু ও পেশির স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত করে। ফলে শরীর ভারী লাগা, শক্তি কমে যাওয়া এবং অল্প কাজেই ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।

২. ঘন ঘন প্রস্রাব ও অতিরিক্ত তৃষ্ণা

ক্যালসিয়াম বেশি হলে কিডনির কার্যক্ষমতা প্রভাবিত হয়। ফলে বেশি প্রস্রাব হয় এবং শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তৃষ্ণা বেড়ে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ আগাম লক্ষণ।

৩. কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেটের অস্বস্তি

হাইপারক্যালসেমিয়ায় অন্ত্রের গতিশীলতা কমে যায়। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটব্যথা বা বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে।

৪. মনোযোগের ঘাটতি ও মানসিক পরিবর্তন

রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে গেলে মস্তিষ্কের কার্যক্রমে প্রভাব পড়ে। ফলে মনোযোগ কমে যাওয়া, অবসাদ, বিরক্তি বা বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে।

৫. হৃদস্পন্দনে অনিয়ম

ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হলে হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতীও হতে পারে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

  • প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যায় ভোগা ব্যক্তি
  • দীর্ঘদিন ভিটামিন ডি বা ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকারী
  • কিছু ক্যান্সার রোগী
  • বয়স্ক ও দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী ব্যক্তি

চিকিৎসকদের মতে, অনেক সময় নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা না করলে রোগটি দীর্ঘদিন অজানা থেকে যায়।

কীভাবে শনাক্ত ও চিকিৎসা?

রক্ত পরীক্ষায় ক্যালসিয়ামের মাত্রা পরিমাপ করেই রোগ নির্ণয় করা হয়। পাশাপাশি প্যারাথাইরয়েড হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করা হতে পারে। চিকিৎসায় প্রাথমিকভাবে শিরায় স্যালাইন দিয়ে শরীরের পানিশূন্যতা দূর করা হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে বিশেষ ওষুধ বা অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে।

প্রতিরোধে করণীয়

  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট না নেওয়া
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
  • পর্যাপ্ত পানি পান
  • দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি বা মানসিক পরিবর্তন হলে দ্রুত পরীক্ষা করানো

সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন

হাইপারক্যালসেমিয়া অনেক সময় ধীরে ধীরে বাড়ে এবং প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ অসুস্থতার মতো মনে হতে পারে। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে যদি অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ক্লান্তি বা হজমের সমস্যা দেখা দেয়, তবে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Leave A Comment