x
d o c t o r s 2 4
19 Nov

হার্ট অ্যাটাক সাধারণত হঠাৎ ঘটে যায়—অনেকে মনে করেন এমনটাই। কিন্তু চিকিৎসা-বিজ্ঞান বলছে, হৃদরোগ শরীরে আগেভাগেই সংকেত পাঠায়। সমস্যা হলো, আমরা সেই লক্ষণগুলোকে সাধারণ ক্লান্তি, হজমের গোলমাল বা স্ট্রেস ভাবতে গিয়ে উপেক্ষা করি। সাম্প্রতিক কার্ডিওলজি গবেষণায় জানা গেছে, হার্ট অ্যাটাকের আগমুহূর্তে নয়, বরং কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ আগেও শরীর সতর্ক করা শুরু করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের ১০টি সিগন্যাল একসঙ্গে বা একটির পর একটি দেখা দিলে হার্টের রিস্ক মূল্যায়ন জরুরি।

১. বুকে চাপ, ভারীভাব বা অস্বস্তি

এটি হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে ক্লাসিক লক্ষণ। তীব্র ব্যথা না হলেও বুকে চাপ লাগা বা বুকের মাঝখানে ভারীভাব কয়েক মিনিট ধরে থাকলে তা উপেক্ষা করা ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে—এই “চেস্ট প্রেশার” অ্যাটাকের ৭–১৫ দিন আগেও শুরু হতে পারে।

২. ঘাড়, চোয়াল বা বাম বাহুতে ব্যথা

হৃদযন্ত্রে রক্তপ্রবাহ কমে গেলে ব্যথা সাধারণত বুক থেকে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বাম কাঁধ, বাহু, এমনকি চোয়াল পর্যন্ত। অনেক নারী রোগীর ক্ষেত্রে এটি প্রধান লক্ষণ হিসেবে দেখা যায়।

৩. অস্বাভাবিক ক্লান্তি—যা সাধারণ ক্লান্তির মতো নয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হার্ট অ্যাটাকের আগে “ডিপ ফ্যাটিগ” দেখা যায়।
এটি এমন ক্লান্তি, যা ঘুম বা বিশ্রামেও ঠিক হয় না। হৃদযন্ত্র দুর্বল হলে শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাঠাতে পারে না, তাই এমন অস্বাভাবিক অবসন্নতা দেখা দেয়।

৪. শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া

অল্প হাঁটতেই দম আটকে যাওয়া, সিঁড়ি ভাঙার সময় নিঃশ্বাস ভারী হয়ে যাওয়া—এগুলো হার্টের রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা কমে যাওয়ার স্পষ্ট সংকেত। ‘সাডেন শর্টনেস অব ব্রিথ’ বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বলে ধরা হয়।

৫. ঠান্ডা ঘাম বা আকস্মিক মাথা হালকা লাগা

ঘাম হওয়া সাধারণ বিষয়, কিন্তু ঠান্ডা ঘাম—বিশেষ করে কোনো শারীরিক পরিশ্রম ছাড়াই—হৃদযন্ত্রে অক্সিজেনের ঘাটতি নির্দেশ করে। এর সঙ্গে মাথা ঘোরা বা হালকা লাগা যুক্ত হলে সতর্ক হওয়া জরুরি।

৬. হজমের সমস্যা বা অম্বলের মতো অনুভূতি

অনেকেই ভুল করেন—হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা প্রায়ই অম্বল বা বদহজম মনে হতে পারে।
স্টার্নামে জ্বালা, ভারীভাব, গ্যাস্ট্রিক ধরনের অস্বস্তি—এসব কখনো কখনো হৃদযন্ত্রের সমস্যা থেকে আসতে পারে।

৭. ঘুমের ব্যাঘাত—রাতের ঘুম ভেঙে যাওয়া বা শ্বাস আটকে আসা

কার্ডিওলজিস্টদের মতে, অনেক রোগী অ্যাটাকের কিছু দিন আগে অস্বাভাবিক ঘুমের সমস্যা অনুভব করেন।
যেমন—রাতে হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, বুক ধড়ফড় করে ঘুম ভেঙে যাওয়া, বা রাতজুড়ে অশান্ত ঘুম।

৮. হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত হওয়া (প্যালপিটেশন)

হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক সিগনাল ব্যাহত হলে হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায় বা অনিয়মিতভাবে ধড়ফড় করে।
এই পরিবর্তন কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হলেও তা হার্টের রক্তপ্রবাহে ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে।

৯. পা বা গোড়ালি ফুলে যাওয়া

হার্ট দুর্বল হলে শরীরে তরল জমা হতে থাকে, যার প্রথম প্রকাশ দেখা যায় পা, গোড়ালি বা পায়ের পাতায় ফোলা দিয়ে।
এই লক্ষণটি হৃদযন্ত্রের পাম্পিং সিস্টেম দুর্বল হওয়ার সরাসরি ইঙ্গিত।

১০. অস্বাভাবিক উদ্বেগ ও অজানা ভয়

মানসিক চাপ অনেকের সমস্যার কারণ হলেও, গবেষণা বলছে—হৃদযন্ত্রে ব্লকেজ বাড়লে মস্তিষ্কও কিছু সংকেত শনাক্ত করে, যা “অকারণে অস্থিরতা”, “ডুম ফিলিং” বা ব্যাখ্যাতীত ভয় হিসেবে প্রকাশ পায়।

হার্ট অ্যাটাক কখনও হঠাৎ নয়—বরং ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে, এবং শরীর আগেই জানান দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ১০টি লক্ষণের প্রতি মানুষ যত দ্রুত মনোযোগ দেবে, ততই হৃদরোগ প্রতিরোধ এবং জীবন বাঁচানোর সুযোগ বাড়বে।

বিশেষ করে যাদের বয়স ৪০-এর বেশি, ধূমপান করেন, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ আছে—তাদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।

Leave A Comment