x
d o c t o r s 2 4
21 Nov

শরীরের ওজন কমে যাওয়া অনেক সময় মানুষ উপেক্ষা করে যায়, বিশেষ করে যারা “পাতলা” বা “স্লিম” থাকতে চান। কিন্তু যখন ওজন স্বাভাবিক মাত্রার নিচে নেমে যায়, তখন সেটিকে চিকিৎসা পরিভাষায় বলা হয় আন্ডারওয়েট (Underweight)।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্ডারওয়েট অবস্থায় শুধু চেহারা নয়, বরং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, হরমোনের ভারসাম্য ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই অবস্থায় পৌঁছানোর অন্তত তিন মাস আগেই শরীর কিছু স্পষ্ট সংকেত দিতে শুরু করে, যা চিনে আগেভাগে ব্যবস্থা নিলে ভবিষ্যতের ঝুঁকি এড়ানো যায়।

নিচে আন্ডারওয়েট হওয়ার ৩ মাস আগে শরীরে দেখা দিতে পারে এমন ৭টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ তুলে ধরা হলো—

১. ক্ষুধামন্দা বা খাবারে অনাগ্রহ

আন্ডারওয়েট হওয়ার প্রথম লক্ষণ হলো ক্ষুধা হ্রাস। অনেকেই খাওয়ার সময় দ্রুত পেট ভরে যায়, কিংবা খাবারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।
পুষ্টিবিদদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস, হরমোনাল পরিবর্তন বা গ্যাস্ট্রিক সমস্যা শরীরের “হাঙ্গার হরমোন” ঘ্রেলিন (Ghrelin)-এর ভারসাম্য নষ্ট করে, যার ফলে ধীরে ধীরে ওজন কমতে শুরু করে।

২. ক্লান্তি ও শক্তিহীনতা

ওজন কমে যাওয়ার আগেই শরীরের পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলে দৈনন্দিন কাজকর্মে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা ও শক্তির অভাব অনুভূত হয়।
বিশেষ করে প্রোটিন ও আয়রনের ঘাটতি থাকলে শরীরের কোষে অক্সিজেন পরিবহন ব্যাহত হয়, যা ক্রনিক ক্লান্তির কারণ হতে পারে।

৩. চুল, ত্বক ও নখের পরিবর্তন

আন্ডারওয়েট হওয়ার আগে শরীরের ভিটামিন ও মিনারেল শোষণের হার কমে যায়। ফলস্বরূপ—

  • চুল ঝরে পড়ে, ভঙ্গুর হয়ে যায়,
  • ত্বক শুষ্ক ও ফ্যাকাসে হয়ে পড়ে,
  • এবং নখে সাদা দাগ বা ভাঁজ দেখা দেয়।
    এগুলো শরীরের “পুষ্টিহীনতা”র আগাম বার্তা।

৪. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা

আন্ডারওয়েট হওয়ার তিন মাস আগে থেকেই শরীরে হরমোন পরিবর্তন শুরু হয়। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিক অনিয়ম, হরমোনজনিত ব্রণ বা চুল পড়া দেখা দিতে পারে।
পুরুষদের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন কমে গিয়ে পেশিশক্তি হ্রাস ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দেয়।

৫. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া

আন্ডারওয়েট হওয়ার আগে শরীরে ইমিউন কোষ (White Blood Cells) উৎপাদন ধীর হয়ে যায়। ফলে ঠান্ডা-কাশি, ফ্লু বা ভাইরাল সংক্রমণ ঘন ঘন হয়।
চিকিৎসকদের মতে, এটি এক ধরনের “ইমিউন বার্নআউট”—যেখানে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে।

৬. হজমের সমস্যা ও মলত্যাগের অনিয়ম

আন্ডারওয়েট অবস্থার আগে থেকেই হজমের সমস্যা দেখা দেয়—যেমন: গ্যাস, অম্বল, বা পেট ফাঁপা।
ফাইবার ও প্রোটিনের অভাবে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয়, যার ফলে শরীর খাবার থেকে সঠিকভাবে পুষ্টি শোষণ করতে পারে না।

৭. মনোভাব ও মানসিক পরিবর্তন

ওজন হ্রাসের আগে মানসিক পরিবর্তনও দেখা যায়। অনেকেই হতাশ, উদ্বিগ্ন বা রাগান্বিত হয়ে পড়েন।
এর কারণ হলো শরীরে “সেরোটোনিন” ও “ডোপামিন” নামক সুখ-সংক্রান্ত রাসায়নিকের ঘাটতি, যা পুষ্টিহীনতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

প্রতিরোধ ও করণীয়

  • নিয়মিত খাবারের সময় মেনে চলুন এবং প্রতিদিন পর্যাপ্ত ক্যালরি গ্রহণ করুন।
  • প্রোটিন, ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেটের ভারসাম্য বজায় রাখুন।
  • মানসিক চাপ বা উদ্বেগ থাকলে পরামর্শ নিন।
  • রক্তপরীক্ষার মাধ্যমে আয়রন, ভিটামিন বি১২ ও থাইরয়েড ফাংশন পরীক্ষা করুন।
  • শরীরচর্চা বা ব্যায়ামের মাধ্যমে পেশিশক্তি ও ক্ষুধা বাড়ান।

Leave A Comment