আলসারেটিভ কোলাইটিস (Ulcerative Colitis) হলো একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত রোগ, যা মূলত বড় অন্ত্র বা কোলনকে প্রভাবিত করে। রোগটি হঠাৎ দেখা দেয় না; বরং শরীর ধীরে ধীরে সতর্ক সংকেত পাঠাতে শুরু করে, যা অনেক সময় অবহেলা করা হয়। সাম্প্রতিক চিকিৎসা গবেষণা বলছে, রোগ প্রকাশের প্রায় ২ মাস আগে থেকেই কিছু লক্ষণ চোখে পড়ে, যা সময়মতো শনাক্ত হলে চিকিৎসা শুরু করা এবং জটিলতা কমানো সম্ভব।
আলসারেটিভ কোলাইটিস কেন হয়
এই রোগের মূল কারণ সম্পূর্ণভাবে বোঝা যায়নি, তবে জেনেটিক ঝুঁকি, ইমিউন সিস্টেমের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া এবং অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্যহীনতাকে মূল কারণ হিসেবে ধরা হয়। স্ট্রেস, ধূমপান এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসও রোগকে ট্রিগার করতে পারে।
২ মাস আগে দেখা দেয় এমন ৫টি লক্ষণ
১. দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া
রোগ প্রকাশের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে পাতলা পায়খানা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে। অনেক সময় রক্ত বা শ্লেষ্মা মিশ্রিত ডায়রিয়া দেখা যায়। সাধারণ সংক্রমণজনিত ডায়রিয়ার মতো এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেরে যায় না। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ডায়রিয়া থাকলে অন্ত্রের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ দ্রুত বাড়তে পারে।
২. পেটের ক্র্যাম্প ও ব্যথা
আলসারেটিভ কোলাইটিসে পেটের নীচের অংশে ক্র্যাম্প বা ধীরে ধীরে বেড়ে যাওয়া ব্যথা অনুভূত হয়। হঠাৎ তীব্র ব্যথা কমই দেখা যায়, বরং ধীরে ধীরে হালকা থেকে মাঝারি ব্যথা বারবার অনুভূত হয়। এটি অনেক সময় সাধারণ হজমজনিত সমস্যা মনে করা হয়।
৩. রক্তক্ষরণ
মলদ্বারে বা পায়খানায় রক্ত দেখা প্রাথমিক সতর্কতামূলক সংকেত। এটি প্রায়শই হালকা ফোঁটা বা লাল দাগের আকারে শুরু হয়, তবে সময়ে সময়ে তা বৃদ্ধি পেতে পারে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, রক্তপাত এড়াতে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
৪. ক্লান্তি ও দুর্বলতা
রোগ প্রকাশের কয়েক মাস আগে অনেকেই অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভব করেন। প্রচুর পরিশ্রম না করলেও শারীরিক শক্তি হ্রাস পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণ ও পুষ্টি ঘাটতি এই ক্লান্তির কারণ।
৫. ওজন কমে যাওয়া
যথেষ্ট খাবার গ্রহণের পরও ধীরে ধীরে ওজন কমতে শুরু করে। এর মূল কারণ হলো খাদ্যদ্রব্যের যথাযথ শোষণ ব্যাহত হওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী অন্ত্রের প্রদাহ। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ওজন হ্রাস প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় রোগের প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হয়।
কখন সতর্ক হওয়া জরুরি
উপরের একাধিক লক্ষণ যদি ২–৩ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, বিশেষ করে রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া দেখা দিলে দ্রুত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। রক্ত পরীক্ষা, স্টুল টেস্ট এবং কোলনোস্কোপির মাধ্যমে আলসারেটিভ কোলাইটিস নির্ণয় করা সম্ভব।
সতর্কতা ও জীবনযাত্রার পরামর্শ
রোগ নির্ণয়ের পর চিকিৎসা ও ওষুধ গ্রহণের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ এবং স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু ক্ষেত্রে, নির্দিষ্ট খাবার যেমন অতিরিক্ত ফ্যাটযুক্ত বা প্রক্রিয়াজাত খাবার উপসর্গ বাড়াতে পারে, তাই খাদ্যাভ্যাসে সতর্কতা থাকা দরকার।
