x
d o c t o r s 2 4
19 Dec

ইটিং ডিসঅর্ডার—যেমন অ্যানোরেক্সিয়া, বুলিমিয়া বা বিঞ্জ ইটিং—অনেকের কাছেই হঠাৎ করে ধরা পড়ে। কিন্তু আধুনিক মনোবিজ্ঞান, নিউট্রিশন সায়েন্স ও নিউরোবায়োলজির গবেষণা বলছে, পূর্ণমাত্রার ইটিং ডিসঅর্ডার তৈরি হওয়ার অন্তত এক বছর আগেই শরীর ও আচরণে কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। সমস্যাটি হলো, এই লক্ষণগুলোকে আমরা প্রায়ই “ডায়েট সচেতনতা” বা “স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়তি ভাবনা” ভেবে উপেক্ষা করি।

ইটিং ডিসঅর্ডার কেন আগাম সংকেত দেয়?

ইটিং ডিসঅর্ডার শুধু খাবারের সমস্যা নয়; এটি আবেগ, নিয়ন্ত্রণবোধ ও আত্মমূল্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, শরীর নিয়ে অসন্তোষ বা পারফেকশনিজম ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড ও স্ট্রেস সিস্টেমে পরিবর্তন আনে। এর প্রভাব প্রথমে শরীর ও দৈনন্দিন আচরণেই প্রকাশ পায়।

১. খাবার নিয়ে অতিরিক্ত মানসিক ব্যস্ততা

ইটিং ডিসঅর্ডারের এক বছর আগে থেকেই খাবার নিয়ে অস্বাভাবিক চিন্তা শুরু হতে পারে। কী খাবেন, কখন খাবেন, কত ক্যালোরি—এই হিসাব সারাক্ষণ মাথায় ঘোরে। অন্যদের খাবার দেখেও নিজের খাবারের সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতা বাড়ে। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এই পর্যায়ে মস্তিষ্কে খাবার-সংক্রান্ত সংকেতের প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা তৈরি হয়।

২. শরীরের ওজন বা আকৃতি নিয়ে বাস্তবতার চেয়ে বেশি অসন্তোষ

আয়নায় নিজেকে দেখলে শরীরের ছোটখাটো পরিবর্তনও বড় সমস্যা মনে হতে শুরু করে। ওজন স্বাভাবিক থাকলেও “মোটা লাগছে” বা “আর একটু কমানো দরকার”—এই চিন্তা জেঁকে বসে। মনোবিজ্ঞানীরা একে “বডি ইমেজ ডিস্টরশন”-এর প্রাথমিক স্তর হিসেবে চিহ্নিত করেন, যা ইটিং ডিসঅর্ডারের একটি শক্ত ভিত্তি।

৩. ক্ষুধা ও তৃপ্তির সংকেত উপেক্ষা করা

এই সময় শরীর কখন ক্ষুধার্ত বা কখন পেট ভরা—এই স্বাভাবিক সংকেতগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা শুরু হয়। কখনো না খেয়ে থাকা, আবার কখনো অতিরিক্ত খাওয়ার পর অপরাধবোধ তৈরি হয়। নিউট্রিশন গবেষণায় দেখা গেছে, এতে শরীরের হরমোনাল ভারসাম্য, বিশেষ করে লেপটিন ও গ্রেলিনের নিঃসরণ ব্যাহত হতে থাকে।

৪. আবেগ নিয়ন্ত্রণে খাবারের ভূমিকা বেড়ে যাওয়া

এক বছর আগে থেকেই খাবার আবেগ সামলানোর হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। মন খারাপ হলে না খাওয়া, আবার উদ্বেগ বা একাকিত্বে অতিরিক্ত খাওয়া—এই চক্র তৈরি হয়। নতুন তথ্য অনুযায়ী, এই পর্যায়ে খাবার মস্তিষ্কে সাময়িক স্বস্তির অনুভূতি তৈরি করে, যা ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হয়।

৫. সামাজিক খাওয়া এড়িয়ে চলার প্রবণতা

পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে খাওয়া অস্বস্তিকর মনে হতে শুরু করে। রেস্তোরাঁয় যাওয়া এড়িয়ে চলা, নানা অজুহাতে খাবারের দাওয়াত বাতিল করা—এসব লক্ষণ দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ইটিং ডিসঅর্ডারের দিকে এগোনোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সংকেত, যা প্রায়ই চোখ এড়িয়ে যায়।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

এই পাঁচটি লক্ষণ যদি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তাহলে সেটিকে ‘ফেজ’ ভেবে উপেক্ষা করা উচিত নয়। সময়মতো কাউন্সেলর, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট বা নিউট্রিশন বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিলে ইটিং ডিসঅর্ডার পুরোপুরি গড়ে ওঠার আগেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

Leave A Comment