কপার (তামা) শরীরের জন্য একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেস মিনারেল। অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হলেও এটি হিমোগ্লোবিন তৈরিতে, লৌহ শোষণে, স্নায়ুতন্ত্রের সুরক্ষায়, কোলাজেন গঠনে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন কপার ঘাটতি থাকলে অ্যানিমিয়া, স্নায়বিক জটিলতা এবং ইমিউন দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুতর সমস্যা শুরু হওয়ার প্রায় এক মাস আগেই শরীর কিছু সতর্কবার্তা দেয়।
নিচে কপার ঘাটতির সম্ভাব্য ৫টি প্রাথমিক লক্ষণ তুলে ধরা হলো—
১. অকারণ ক্লান্তি ও রক্তস্বল্পতার লক্ষণ
কপার লৌহ (আয়রন) বিপাকে সহায়তা করে। ঘাটতি হলে শরীর পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে পারে না, ফলে অ্যানিমিয়ার মতো উপসর্গ—দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, ত্বক ফ্যাকাশে হওয়া—দেখা দিতে পারে। অনেক সময় আয়রন সাপ্লিমেন্ট খেয়েও উন্নতি না হলে কপার ঘাটতি সন্দেহ করা হয়।
২. হাত–পায়ে ঝিনঝিনি ও ভারসাম্যহীনতা
কপার স্নায়ুর মাইলিন শিথ রক্ষণাবেক্ষণে ভূমিকা রাখে। ঘাটতি হলে নিউরোপ্যাথির মতো লক্ষণ দেখা দেয়—আঙুলে ঝিনঝিনি, পায়ে অবশ ভাব, হাঁটার সময় ভারসাম্য হারানো। এক মাস আগেই এসব সূক্ষ্ম পরিবর্তন শুরু হতে পারে।
৩. ঘন ঘন সংক্রমণ
রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থায় কপার গুরুত্বপূর্ণ। এর অভাবে শ্বেত রক্তকণিকার কার্যকারিতা কমে যায়, ফলে সহজে সর্দি–কাশি বা ছোট সংক্রমণেও দীর্ঘদিন ভোগার প্রবণতা দেখা দেয়। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি বেশি লক্ষণীয়।
৪. চুল পাতলা হওয়া বা রঙ ফিকে হয়ে যাওয়া
কপার মেলানিন তৈরিতে সহায়ক, যা চুল ও ত্বকের রঙ নির্ধারণ করে। ঘাটতি হলে চুল দ্রুত সাদা হয়ে যাওয়া, রঙ ফিকে হওয়া বা চুল পড়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
৫. হাড় ও জয়েন্টে অস্বস্তি
কোলাজেন গঠনে কপার ভূমিকা রাখে। এর অভাবে হাড় দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং জয়েন্টে ব্যথা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি হাড় ভাঙার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
- অপুষ্টিতে ভোগা ব্যক্তি
- দীর্ঘদিন জিঙ্ক সাপ্লিমেন্ট অতিরিক্ত গ্রহণকারী (কারণ জিঙ্ক কপার শোষণ কমায়)
- গ্যাস্ট্রিক বাইপাস সার্জারি করা রোগী
- অন্ত্রের শোষণ সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি
- দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়ায় ভোগা মানুষ
কেন আগাম শনাক্ত জরুরি?
কপার ঘাটতি দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলে গুরুতর অ্যানিমিয়া, স্নায়বিক ক্ষতি এবং স্থায়ী ভারসাম্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি ভিটামিন B12 ঘাটতির মতো উপসর্গ সৃষ্টি করে, যা বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে। তাই সন্দেহ হলে রক্ত পরীক্ষা জরুরি।
প্রতিরোধে করণীয়
- বাদাম, কাজু, তিল, ডাল, সামুদ্রিক মাছ ও গোটা শস্য নিয়মিত খাওয়া
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রায় জিঙ্ক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করা
- দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা বা স্নায়বিক সমস্যা হলে পরীক্ষা করা
বিশেষজ্ঞদের মতে, কপার ঘাটতি তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও সঠিকভাবে শনাক্ত না হলে বড় জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
