x
d o c t o r s 2 4
25 Sep

করোনারি হার্ট ডিজিজ (Coronary Heart Disease) হলো এমন একটি অবস্থা যখন হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী করোনারি ধমনীগুলো সরু বা বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে হৃৎপিণ্ডে রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায়, যা বিভিন্ন জটিলতার কারণ হতে পারে। এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা এবং সময়মতো চিকিৎসা জীবন বাঁচাতে পারে।

করোনারি হার্ট ডিজিজের কারণ

করোনারি ধমনীতে চর্বি, কোলেস্টেরল বা অন্যান্য পদার্থ জমে প্লাক তৈরি করে, যা ধমনীকে সরু করে। এই অবস্থাকে বলা হয় অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস। ঝুঁকির কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • উচ্চ রক্তচাপ
  • উচ্চ কোলেস্টেরল
  • ধূমপান
  • ডায়াবেটিস
  • স্থূলতা
  • পারিবারিক ইতিহাস
  • অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা

লক্ষণ

  • বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি (এনজাইনা)
  • শ্বাসকষ্ট
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি
  • বুক, কাঁধ, বাহু, ঘাড় বা চোয়ালে ব্যথা
  • হার্ট অ্যাটাক (তীব্র ক্ষেত্রে)

করোনারি এনজিওগ্রাম ও এনজিওপ্লাস্টি

করোনারি এনজিওগ্রাম হলো করোনারি হার্ট ডিজিজ নির্ণয়ের একটি কার্যকর পদ্ধতি। এই প্রক্রিয়ায়:

  • হাতের বাহু বা ঊরুর রক্তনালিতে একটি সরু টিউব (ক্যাথেটার) প্রবেশ করানো হয়।
  • ক্যাথেটারের মাধ্যমে ডাই ইনজেক্ট করে এক্স-রে মনিটরে ধমনীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
  • ব্লক শনাক্ত হলে এনজিওপ্লাস্টি করে ধমনী খুলে দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় একটি বেলুন বা স্টেন্ট ব্যবহার করা হয়।

এনজিওপ্লাস্টি কেন করা হয়?

  • বুকে ব্যথা নিয়ন্ত্রণ: ধমনীতে ব্লকের কারণে বুকে ব্যথা হলে এনজিওপ্লাস্টি রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক করে।
  • হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ: হার্ট অ্যাটাকের সময় বা পরে হৃৎপিণ্ডের পেশির ক্ষতি কমাতে এবং পুনরায় হার্ট অ্যাটাক রোধ করতে।

ঝুঁকি

এনজিওগ্রাম ও এনজিওপ্লাস্টি সাধারণত নিরাপদ, তবে কিছু ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত সমস্যা হতে পারে:

  • কুঁচকিতে রক্তপাত বা লালভাব।
  • এলার্জির প্রতিক্রিয়া।
  • বিরল ক্ষেত্রে ধমনীর ক্ষতি বা হার্ট অ্যাটাক।
  • স্টেন্ট বসানোর স্থানে পুনরায় ব্লক হওয়া (বিশেষত প্রথম ৩-৬ মাসে)। তবে আধুনিক মেডিকেটেড স্টেন্ট এই ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দিয়েছে।

পুনরায় ব্লক হলে করণীয়

পুনরায় ব্লক হলে আবার বেলুনিং বা স্টেন্ট বসানোর মাধ্যমে চিকিৎসা করা যায়। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ এবং ওষুধ সেবন এই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

নিম্নলিখিত লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:

  • ক্ষতস্থানে রক্ত জমাট বাঁধা বা ফুলে যাওয়া।
  • তীব্র ব্যথা, লালভাব বা ক্ষতস্থান থেকে নিঃসরণ।
  • জ্বর বা উচ্চ তাপমাত্রা।
  • কুঁচকি থেকে রক্তপাত হলে শুয়ে পড়ে রক্তপাতের স্থানে ১০ মিনিট চাপ দিন। বন্ধ না হলে দ্রুত হাসপাতালে যান।

প্রতিরোধের উপায়

  • স্বাস্থ্যকর খাদ্য: চর্বি ও কোলেস্টেরল কম এমন খাবার গ্রহণ।
  • নিয়মিত ব্যায়াম: হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে।
  • ধূমপান ত্যাগ: ধূমপান হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ।
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা।

করোনারি হার্ট ডিজিজ সম্পর্কে সচেতনতা এবং সময়মতো চিকিৎসা হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে সহায়ক। বুকে ব্যথা বা অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Leave A Comment