x
d o c t o r s 2 4
14 Nov

কুশিং সিন্ড্রোম—একটি নীরব হরমোনাল ঝড়, যা শরীরে কর্টিসলের অতিরিক্ত মাত্রা থেকে উদ্ভূত হয়। এটি পিটুইটারি গ্ল্যান্ডের টিউমার, অ্যাড্রেনাল গ্ল্যান্ডের সমস্যা বা দীর্ঘমেয়াদি স্টেরয়েড ব্যবহার থেকে হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগ নির্ণয়ের পূর্ণাঙ্গ লক্ষণ দেখা যাওয়ার দুই মাস আগেই শরীরে কিছু সূক্ষ্ম সংকেত প্রকাশ পায়, যা উপেক্ষা করলে পরে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন বা এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।

The Lancet Diabetes & Endocrinology-এর ২০২৫-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, কুশিং-এর রোগীদের ৭৫% ক্ষেত্রে নির্ণয়ের আগে ৬-১২ মাস ধরে লক্ষণ থাকে, কিন্তু প্রাথমিক সংকেত চিহ্নিত করলে চিকিত্সা সফলতা ৮৫% পর্যন্ত বাড়ে। আজকের এই নিবন্ধে আমরা এই ৬টি লক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব, সাথে সাম্প্রতিক গবেষণা ও প্রতিরোধের উপায়।

কুশিং সিন্ড্রোম কী এবং কেন হয়?

কুশিং সিন্ড্রোম হলো কর্টিসল হরমোনের অতিরিক্ত উৎপাদনের ফল, যা মেটাবলিজম, ইমিউন সিস্টেম ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করে। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের মতে, এটি প্রতি বছর ১০-১৫ মিলিয়ন মানুষকে প্রভাবিত করে।

১. অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় স্থূলতা

পেট, কোমর ও ঘাড়ে হঠাৎ চর্বি জমা, কিন্তু হাত-পা সরু হয়ে যাওয়া—এটি কর্টিসলের ফ্যাট রিডিস্ট্রিবিউশনের ফল।।

২. মুখ গোলাকার হয়ে যাওয়া (মুন ফেস)

মুখ ফুলে গোল হয়ে যাওয়া, যাকে ‘মুন ফেস’ বলে—এটি প্রথম দৃশ্যমান লক্ষণ।

৩. চামড়ায় পাতলা হয়ে যাওয়া এবং সহজে ক্ষত

চামড়া পাতলা হয়ে যাওয়া, সহজে কেটে যাওয়া বা লাল স্ট্রেচ মার্ক—কর্টিসল কোলাজেন ভাঙে।

৪. ক্লান্তি এবং পেশির দুর্বলতা

সারাদিন ক্লান্তি, সিড়ি ওঠায় অসুবিধা—কর্টিসল পেশি ভাঙে।

৫. মেজাজের পরিবর্তন এবং উদ্বেগ

হঠাৎ রাগ, হতাশা বা উদ্বেগ—কর্টিসল মস্তিষ্কের সেরোটোনিন নিয়ন্ত্রণ করে।

 ৬. রক্তচাপের বৃদ্ধি এবং হরমোনাল অসমতুল্যতা

হাইপারটেনশন বা মহিলাদের মাসিক অনিয়ম—কর্টিসল রক্তচাপ বাড়ায়।

প্রতিরোধ এবং চিকিত্সা:

লক্ষণ দেখলে ডাক্তার দেখান—রক্তপরীক্ষা, ইউরিন টেস্ট বা MRI দিয়ে নির্ণয়। চিকিত্সায় সার্জারি, রেডিয়েশন বা ওষুধ।

Leave A Comment