x
d o c t o r s 2 4
23 Dec

মিসক্যারেজ বা গর্ভপাত একটি সাধারণ কিন্তু মানসিকভাবে কষ্টদায়ক ঘটনা, যা গর্ভাবস্থার প্রথম ২০ সপ্তাহের মধ্যে ঘটে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনেকোলজিস্টস (ACOG)-এর তথ্য অনুসারে, পরিচিত গর্ভাবস্থার ১০-২০% ক্ষেত্রে মিসক্যারেজ হয়, এবং প্রথম ত্রৈমাসিকে (১২ সপ্তাহের মধ্যে) এর ৮০% ঘটে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি ক্রোমোজোমাল অস্বাভাবিকতার কারণে হয়, যা মা-বাবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক মিসক্যারেজ (বিশেষ করে মিসড মিসক্যারেজ) হঠাৎ ঘটলেও, কিছু ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ গর্ভপাতের ১ সপ্তাহ আগে শরীরে কিছু আগাম সংকেত দেখা দিতে পারে। এগুলো চিহ্নিত করলে প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিত্সকের সাহায্য নেওয়া যায়, যা কখনো কখনো গর্ভ রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে বা অন্তত মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব।

ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুসারে, অর্ধেক মিসক্যারেজে কোনো লক্ষণ থাকে না, কিন্তু যেগুলোতে থাকে, সেগুলোর মধ্যে গর্ভাবস্থার লক্ষণগুলো হঠাৎ কমে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।

মিসক্যারেজ কী এবং কেন প্রাথমিক সনাক্তকরণ জরুরি?

মিসক্যারেজ হলো গর্ভস্থ ভ্রূণের স্বাভাবিকভাবে মৃত্যু বা বহিষ্কার। এটি প্রায়শই প্রথম ত্রৈমাসিকে ঘটে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জেনেটিক সমস্যার কারণে। মায়ো ক্লিনিকের মতে, স্ট্রেস, ব্যায়াম বা যৌনমিলন মিসক্যারেজের কারণ নয়। কিন্তু বয়স (৩৫-এর উপরে ঝুঁকি বাড়ে), ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল বা কিছু রোগ (যেমন থাইরয়েড বা ডায়াবেটিস) ঝুঁকি বাড়াতে পারে। প্রাথমিক সনাক্তকরণ জরুরি কারণ কিছু ক্ষেত্রে (যেমন থ্রেটেন্ড মিসক্যারেজ) বিশ্রাম বা প্রোজেস্টেরন ওষুধ দিয়ে গর্ভ রক্ষা করা সম্ভব। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথমদিকে রক্তপরীক্ষায় hCG হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়া মিসক্যারেজের আগাম সংকেত হতে পারে।

গর্ভপাতের ১ সপ্তাহ আগে দেখা দেয়া ৫টি প্রধান লক্ষণ

গবেষণা (যেমন ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক, ACOG এবং রোগীদের অভিজ্ঞতা থেকে) অনুসারে, পূর্ণাঙ্গ মিসক্যারেজ (ভারী রক্তপাত ও ক্র্যাম্প) শুরুর প্রায় ১ সপ্তাহ আগে নিম্নলিখিত ৫টি লক্ষণ দেখা যেতে পারে। এগুলো সবসময় মিসক্যারেজ নির্দেশ করে না, কিন্তু উপেক্ষা করা উচিত নয়:

  • গর্ভাবস্থার লক্ষণগুলো হঠাৎ কমে যাওয়া: স্তনের সংবেদনশীলতা, বমি বমি ভাব বা অতিরিক্ত ক্লান্তি কমে যাওয়া। এটি মিসড মিসক্যারেজের প্রথম সংকেত।
  • হালকা স্পটিং বা ব্রাউন ডিসচার্জ: হালকা রক্তপাত বা কফি গ্রাউন্ডের মতো ডিসচার্জ, যা পুরনো রক্তের লক্ষণ। প্রথম ত্রৈমাসিকে ৩০% গর্ভে এটি হয়, কিন্তু অর্ধেক ক্ষেত্রে মিসক্যারেজ হয়।
  • হালকা পেটে ব্যথা বা লোয়ার ব্যাক পেইন: মাসিকের মতো হালকা ক্র্যাম্প বা পিঠে ব্যথা, যা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।
  • অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা মাথাব্যথা: অহেতুক অতিরিক্ত ক্লান্তি বা মাইগ্রেন-জাতীয় মাথাব্যথা, যা হরমোনাল পরিবর্তনের সাথে যুক্ত।
  • হালকা ওয়াটারি ডিসচার্জ বা অস্থিরতা: অস্বাভাবিক তরল নির্গমন বা মেজাজের পরিবর্তন, যা কিছু রোগীর অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে।

এই লক্ষণগুলো অন্য কারণেও হতে পারে, তাই আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Leave A Comment