গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময় মায়ের পুষ্টির ওপর ভিত্তি করেই শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে। অনেকেই মনে করেন ‘দুজনের খাবার’ খেতে হবে, কিন্তু আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, খাবারের পরিমাণের চেয়ে গুণগত মান বেশি জরুরি।
ফলিক অ্যাসিডের অপরিহার্যতা:
গর্ভধারণের পরিকল্পনা করার সময় থেকেই এবং গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস ফলিক অ্যাসিড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শিশুর ‘নিউরাল টিউব ডিফেক্ট’ বা জন্মগত মেরুদণ্ড ও মস্তিষ্কের ত্রুটি প্রতিরোধ করে। সবুজ শাকসবজি, ডাল এবং সাইট্রাস ফলে ফলিক অ্যাসিড পাওয়া যায়।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি:
-
আয়রন: গর্ভাবস্থায় রক্তে হিমোগ্লোবিনের চাহিদা বাড়ে। আয়রনের অভাবে রক্তশূন্যতা হলে শিশুর ওজন কম হতে পারে। কচুশাক, লাল মাংস, এবং খেজুর আয়রনের ভালো উৎস। আয়রন শোষণের জন্য সাথে ভিটামিন সি (লেবু) খাওয়া উচিত।
-
ক্যালসিয়াম: শিশুর হাড় ও দাঁত গঠনের জন্য মায়ের শরীর থেকে ক্যালসিয়াম সরবরাহ হয়। তাই মা পর্যাপ্ত দুধ বা দই না খেলে ভবিষ্যতে মায়ের অস্টিওপরোসিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
-
কোলাইন (Choline): শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে কোলাইন একটি জাদুকরী উপাদান। ডিমের কুসুম এবং ব্রোকলিতে এটি প্রচুর পরিমাণে থাকে।
সতর্কতা:
গর্ভাবস্থায় কাঁচা বা আধা সেদ্ধ মাছ-মাংস, অতিরিক্ত ক্যাফেইন এবং পারদযুক্ত বড় সামুদ্রিক মাছ এড়িয়ে চলা উচিত।
