চোখের একাধিক রোগের মধ্যে অন্যতম হুমকিস্বরূপ হলো গ্লুকোমা (Glaucoma)। এটি এমন একটি রোগ, যেখানে চোখের অভ্যন্তরে চাপ বৃদ্ধি পায় এবং ধীরে ধীরে অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসা না করলে দৃষ্টি কমে যাওয়া বা অন্ধত্বের ঝুঁকি থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্লুকোমা হঠাৎ দেখা দেয় না। প্রকৃতপক্ষে, ২ বছর আগেই শরীরে কিছু প্রাথমিক সংকেত প্রকাশ পায়, যা উপেক্ষা করলে পরবর্তীতে বিপদ ঘটতে পারে।
সচেতনতা ও প্রাথমিক চিহ্ন চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে রোগের অগ্রগতি ধীর করা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক—গ্লুকোমার ২ বছর আগে শরীরে দেখা দিতে পারে এমন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ:
১. দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে হ্রাস পাওয়া
গ্লুকোমার প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো দৃষ্টিশক্তির ধীরে ধীরে কমে যাওয়া।
- সাধারণত বাইরের প্রান্ত বা পার্শ্বদৃষ্টি প্রথমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়
- ধীরে ধীরে কেন্দ্র দৃষ্টিতেও প্রভাব পড়তে পারে
- একবার দৃষ্টি নষ্ট হলে তা স্বাভাবিকভাবে ফিরে আসে না
অনেকেই এটিকে সাধারণ ক্লান্তি বা চোখের সমস্যা হিসেবে উপেক্ষা করেন, যা বিপজ্জনক।
২. আলোতে বা রাতে অস্পষ্ট দৃষ্টি
গ্লুকোমায় চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় আলোতে বা রাতে দৃষ্টি অস্পষ্ট হতে শুরু করে।
- রাতের বেলায় ড্রাইভিং বা আলোতে চোখে সমস্যা
- আলোতে হালকা ঝাপসা বা দৃষ্টিভ্রান্তি
- চোখ দ্রুত ক্লান্তি অনুভব করা
প্রাথমিক পর্যায়ে এই সমস্যা শনাক্ত করা গেলে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব।
৩. চোখে ব্যথা বা চাপের অনুভূতি
গ্লুকোমায় চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ বৃদ্ধি পেলে চোখে চাপ বা ব্যথা অনুভূত হয়।
- চোখের চারপাশে ভার বা চাপের অনুভূতি
- হালকা মাথাব্যথা বা চোখে টান
- কখনও কখনও চোখ লাল হওয়া বা জল পড়া
এই লক্ষণ প্রাথমিক পর্যায়ে খুব সূক্ষ্ম হতে পারে, তাই এটি উপেক্ষা করা যায় না।
৪. হঠাৎ চোখে ঝাপসা বা দৃষ্টির দাগ দেখা
কিছু ক্ষেত্রে গ্লুকোমার প্রাথমিক ধাপে হঠাৎ ঝাপসা বা চোখে দাগ দেখা দিতে পারে।
- হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হওয়া
- চোখের সামনে কালো বা ধূসর ছায়া দেখা
- দৃষ্টির ফোকাস রাখতে সমস্যা
এই ধরনের পরিবর্তন থাকলে অবিলম্বে চোখের বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
বাংলাদেশ আই কেয়ার সোসাইটি ও আন্তর্জাতিক চোখ সংস্থা (WHO) জানাচ্ছে, গ্লুকোমা প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত করা গেলে দৃষ্টিশক্তি সংরক্ষণ এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা সম্ভব।
পরামর্শ:
- প্রতি ৬ মাস বা বছরে একবার চোখের পূর্ণ পরীক্ষা (Eye Checkup) করানো
- চোখে লালা বা চাপ অনুভূত হলে অবিলম্বে ডাক্তার দেখানো
- রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা
- চোখে দীর্ঘ সময় ধরে স্ট্রেস কমানো, যেমন কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহারে বিরতি নেওয়া
- প্রয়োজন অনুযায়ী চোখের ড্রপ বা চিকিৎসা শুরু করা
গ্লুকোমা ধীরে ধীরে চোখকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই এই ৪টি সতর্ক সংকেত দেখা দিলে তা উপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রাথমিক ধাপে শনাক্তকরণ জীবনবাঁচানো এবং স্থায়ী দৃষ্টি ক্ষতি রোধ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
