x
d o c t o r s 2 4
09 Oct

গ্লুটেন ফ্রি ডায়েট বর্তমানে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মধ্যে একটি জনপ্রিয় ট্রেন্ড হয়ে উঠেছে। গ্লুটেন, যা গম, বার্লি এবং রাইয়ের মতো শস্যে পাওয়া একটি প্রোটিন, কিছু মানুষের জন্য হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশে সিলিয়াক রোগ এবং গ্লুটেন সংবেদনশীলতার প্রকোপ বাড়ায় এই ডায়েটের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। তবে এই ডায়েট সবার জন্য নয়। আসুন জেনে নিই গ্লুটেন ফ্রি ডায়েট কাদের জন্য প্রয়োজন, এর উপকারিতা এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর প্রয়োগ।

গ্লুটেন ফ্রি ডায়েট এমন একটি খাদ্যাভ্যাস, যেখানে গ্লুটেনযুক্ত খাবার যেমন গম, রুটি, পাস্তা, কেক এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার বাদ দেওয়া হয়। এর পরিবর্তে ভাত, ভুট্টা, কুইনোয়া, মিলেট এবং স্থানীয় শাকসবজির উপর নির্ভর করা হয়। বাংলাদেশে ভাত ও ডাল কেন্দ্রিক খাদ্যাভ্যাসের কারণে এই ডায়েট অনেকাংশে সহজে গ্রহণযোগ্য। তবে সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া এটি পুষ্টির ঘাটতি সৃষ্টি করতে পারে।

কাদের জন্য প্রয়োজন?

গ্লুটেন ফ্রি ডায়েট প্রধানত তিন ধরনের মানুষের জন্য প্রয়োজনীয়:

সিলিয়াক রোগ: এটি একটি অটোইমিউন রোগ, যেখানে গ্লুটেন খেলে পাকস্থলীর ক্ষতি হয়। বাংলাদেশে প্রায় ১% জনগোষ্ঠী সিলিয়াক রোগে ভুগছেন, যদিও অনেক ক্ষেত্রে নির্ণয় হয় না। জাতীয় পুষ্টি ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ১৫,০০০ নতুন কেস সনাক্ত হচ্ছে।

গ্লুটেন সংবেদনশীলতা: সিলিয়াক রোগ না থাকলেও কিছু মানুষ গ্লুটেনে সংবেদনশীল, যার ফলে পেট ফাঁপা, ডায়ারিয়া বা ক্লান্তি দেখা দেয়। এটি প্রায় ৬% মানুষের মধ্যে দেখা যায়।

গম অ্যালার্জি: গমের প্রোটিনে অ্যালার্জির কারণে কিছু মানুষ গ্লুটেন এড়িয়ে চলেন।

এছাড়া, কিছু মানুষ ওজন কমানো বা হজমশক্তি উন্নত করতে গ্লুটেন ফ্রি ডায়েট গ্রহণ করেন, যদিও এর স্বাস্থ্য উপকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে সীমিত।

উপকারিতা

গ্লুটেন ফ্রি ডায়েট নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য উল্লেখযোগ্য উপকার বয়ে আনে:

হজমশক্তি উন্নতি: সিলিয়াক রোগীদের ক্ষেত্রে পেট ফাঁপা, ডায়ারিয়া এবং পুষ্টির শোষণে সমস্যা ৮০% কমে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ডায়েটে পাকস্থলীর ক্ষতি নিরাময় হয়।

শক্তি বৃদ্ধি: গ্লুটেন সংবেদনশীল ব্যক্তিদের মধ্যে ক্লান্তি এবং মাথাব্যথা ৬০% কমে।

ইনফ্লেমেশন হ্রাস: গ্লুটেন ফ্রি ডায়েট শরীরের ইনফ্লেমেশন কমায়, যা হৃদরোগ এবং জয়েন্ট ব্যথার ঝুঁকি হ্রাস করে।

স্বাস্থ্য সচেতনতা: এই ডায়েট স্থানীয় সবজি, ফল এবং গ্লুটেনমুক্ত শস্যের ব্যবহার বাড়ায়, যা সামগ্রিক পুষ্টি উন্নত করে।

বাংলাদেশে ভাত, ভুট্টা, ডাল এবং শাকসবজি সহজলভ্য হওয়ায় গ্লুটেন ফ্রি ডায়েট গ্রহণ তুলনামূলক সহজ। স্থানীয় খাবার যেমন চালের রুটি, কলার পিঠা এবং মুগ ডাল এই ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। তবে প্রক্রিয়াজাত খাবার, যেমন বিস্কুট বা নুডলস, এড়িয়ে চলতে হয়, কারণ এতে লুকানো গ্লুটেন থাকতে পারে। ঢাকার সুপারশপগুলোতে গ্লুটেন ফ্রি পণ্য যেমন কুইনোয়া এবং গ্লুটেনমুক্ত আটা পাওয়া যাচ্ছে, তবে এগুলো ব্যয়বহুল।

গ্লুটেন ফ্রি ডায়েট সিলিয়াক রোগী এবং গ্লুটেন সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য জীবন রক্ষাকারী হতে পারে। তবে এটি শুরু করার আগে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বাংলাদেশে স্থানীয় খাবার ব্যবহার করে এই ডায়েট সাশ্রয়ী করা সম্ভব। সচেতনতা এবং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে গ্লুটেন ফ্রি ডায়েট সুস্থ জীবনের পথ প্রশস্ত করবে।

 

Leave A Comment