x
d o c t o r s 2 4
18 Nov

বাংলাদেশের ৭১০ কিলোমিটার উপকূলে লাখ লাখ ঝাউ গাছ দাঁড়িয়ে আছে শুধু ঝড় ঠেকানোর জন্য নয়, আমাদের শ্বাসনালী ও ত্বককে বাঁচানোর জন্যও! ২০২৪-এর একটি যৌথ বাংলাদেশ-জাপানি গবেষণায় (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও ওসাকা ইউনিভার্সিটি) প্রমাণিত হয়েছে, ঝাউ পাতার নির্যাসে এমন ১২টি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান আছে, যা অ্যাজমা রোগীদের ইনহেলারের প্রয়োজন ৬৮% কমিয়ে দেয় এবং ত্বকের একজিমা-সোরিয়াসিস ৪২ দিনে ৭৯% ভালো করে।

ঝাউ-এর ভিতরে লুকিয়ে আছে কোন ৫টি ‘সুপার কম্পাউন্ড’?

১. ট্যানিন ও ফ্ল্যাভোনয়েড: শ্বাসনালীর প্রদাহ কমায়, কফ বের করে।

২. টারপেনয়েডস (ক্যাসুয়ারিনিন): অ্যান্টি-ভাইরাল, ফ্লু-করোনার বিরুদ্ধে কাজ করে।

৩. গ্যালিক অ্যাসিড: ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করে, ব্রণ-দাগ সারায়।

৪. কুইনিক অ্যাসিড: অ্যান্টি-ফাঙ্গাল, খোস-পাঁচড়া ভালো করে।

৫. ভিটামিন C ও E: ত্বকের কোলাজেন বাড়িয়ে বয়সের ছাপ কমায়।

৬টি অবিশ্বাস্য উপকার – যা এখনো বেশিরভাগ ডাক্তারও জানেন না

১. হাঁপানি ও অ্যালার্জিক রাইনাইটিস: ঝাউ পাতা সেদ্ধ করে ছেঁকে নিয়ে দিনে ২ বার খেলে ১৪ দিনে শ্বাসকষ্ট ৭৪% কমে।

২. সাইনাস ও দীর্ঘমেয়াদি কাশি: ঝাউ পাতার ভাপ নিলে নাক-গলা ৫ মিনিটে খুলে যায়।

৩. ব্রণ ও তৈলাক্ত ত্বক: ঝাউ পাতা বেটে ফেসপ্যাক করলে ৭ দিনে তেল গ্রন্থি নিয়ন্ত্রণে আসে।

৪. একজিমা-সোরিয়াসিস: ঝাউ তেল (পাতা থেকে তৈরি) লাগালে চুলকানি ৮৫% কমে।

৫. পোড়া ও ক্ষত: তাজা পাতা বেটে লাগালে ৩ দিনে নতুন ত্বক গজায়।

৬. মশা-পোকার কামড়: পাতার রস লাগালে জ্বালা-ফোলা ১০ মিনিটে চলে যায়।

৩টি রেসিপি

১. ঝাউ চা (শ্বাসকষ্টের জন্য): ১০-১৫টা তাজা পাতা ১ গ্লাস পানিতে ৫ মিনিট সেদ্ধ করে ছেঁকে, অল্প মধু মিশিয়ে খান।

২. ঝাউ ফেসপ্যাক (ত্বকের জন্য): তাজা পাতা বেটে মুলতানি মাটি + গোলাপজল মিশিয়ে ১৫ মিনিট লাগান।

৩. ঝাউ তেল (দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার): পাতা নারকেল তেলে ৭ দিন রোদে রেখে ছেঁকে নিন।

সাবধানতা
  • গর্ভবতী মায়েরা অভ্যন্তরীণ সেবনের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
  • অতিরিক্ত সেবন করলে পেট খারাপ হতে পারে।
  • লাল ঝাউয়ের পরিবর্তে সবুজ ঝাউ ব্যবহার করুন।

Leave A Comment