x
d o c t o r s 2 4
ডাউন সিন্ড্রোমের ঝুঁকি বুঝতে ১ বছর আগে শরীরে দেখা দিতে পারে ৫ লক্ষণ
05 Feb

ডাউন সিন্ড্রোম সাধারণত জন্মগত একটি জেনেটিক অবস্থা, যা শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে প্রভাব ফেলে। অনেকেই মনে করেন, এটি সম্পূর্ণ হঠাৎ বা অনিবার্যভাবে ঘটে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে—গর্ভধারণের আগেই মায়ের শরীরে কিছু ঝুঁকির ইঙ্গিত বা স্বাস্থ্যগত পরিবর্তন দেখা দিতে পারে, যা ভবিষ্যতে ডাউন সিন্ড্রোমে আক্রান্ত শিশুর জন্মের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পিত মাতৃত্ব ও আগাম স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

চিকিৎসকদের মতে, গর্ভধারণের অন্তত এক বছর আগে থেকেই শরীরের কিছু পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। নিচে এমন ৫টি লক্ষণ বা ঝুঁকির বিষয় তুলে ধরা হলো—

১. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা

থাইরয়েড সমস্যা, পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS) বা দীর্ঘদিনের মাসিক অনিয়ম শরীরের হরমোনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। এসব সমস্যা ডিম্বাণুর গুণগত মান কমিয়ে দিতে পারে, যা ক্রোমোজোম বিভাজনে ত্রুটি ঘটিয়ে ডাউন সিন্ড্রোমের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই নিয়মিত হরমোন পরীক্ষা জরুরি।

২. বয়সজনিত প্রজনন ঝুঁকি

৩৫ বছরের বেশি বয়সে মা হওয়ার পরিকল্পনা করলে ডাউন সিন্ড্রোমের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাণুর ক্রোমোজোম বিভাজনে ত্রুটি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০–৩৫ বছরের মধ্যে সন্তান নেওয়া তুলনামূলক নিরাপদ।

৩. পুষ্টিহীনতা ও ফোলিক অ্যাসিডের ঘাটতি

দীর্ঘদিন আয়রন, ভিটামিন বি১২ ও ফোলিক অ্যাসিডের অভাব থাকলে ডিএনএ গঠনে সমস্যা দেখা দেয়। ফোলিক অ্যাসিড বিশেষভাবে ক্রোমোজোমের সঠিক বিকাশে ভূমিকা রাখে। গর্ভধারণের কমপক্ষে এক বছর আগে থেকেই পুষ্টিকর খাবার ও সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

৪. দীর্ঘমেয়াদি রোগ ও ওষুধের প্রভাব

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা বা অটোইমিউন রোগ থাকলে গর্ভধারণের আগে সেগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। কিছু ওষুধ ডিম্বাণুর গুণগত মানে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ওষুধ গ্রহণ করা ঝুঁকিপূর্ণ।

৫. পারিবারিক জেনেটিক ইতিহাস

পরিবারে আগে ডাউন সিন্ড্রোম বা অন্য জেনেটিক রোগের ইতিহাস থাকলে জেনেটিক কাউন্সেলিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের অজান্তেই ক্রোমোজোমাল ‘ট্রান্সলোকেশন’ থাকতে পারে, যা ভবিষ্যৎ সন্তানের ঝুঁকি বাড়ায়।

কী করবেন?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—

  • গর্ভধারণের আগে পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা (Preconception Check-up)
  • নিয়মিত রক্ত ও হরমোন টেস্ট
  • সুষম খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়াম
  • ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার
  • জেনেটিক কাউন্সেলিং ও স্ক্রিনিং

স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা ও আগাম প্রস্তুতিই হতে পারে নিরাপদ মাতৃত্বের চাবিকাঠি। ডাউন সিন্ড্রোম সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও, ঝুঁকি কমাতে জীবনযাপন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বড় ভূমিকা রাখে। তাই মা হতে চাইলে শুধু গর্ভধারণ নয়, তার অন্তত এক বছর আগেই নিজের শরীরের প্রতি যত্নশীল হওয়া জরুরি।

Leave A Comment