x
d o c t o r s 2 4
06 Jan

মানবদেহের সুস্থতা অনেকটাই নির্ভর করে ক্ষুদ্র কিন্তু শক্তিশালী কিছু খনিজের ওপর। আয়োডিন তেমনই একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট, যা সরাসরি থাইরয়েড গ্রন্থি ও শরীরের বিপাক প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত।

আয়োডিন ছাড়া থাইরয়েড হরমোন তৈরি সম্ভব নয়, আর এই হরমোনই আমাদের দেহের শক্তি উৎপাদন, ওজন নিয়ন্ত্রণ, তাপমাত্রা সামঞ্জস্য ও মানসিক সক্রিয়তা নিয়ন্ত্রণ করে। তবুও আধুনিক জীবনযাত্রায় আয়োডিন ঘাটতি এখনো একটি নীরব জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।

থাইরয়েড গ্রন্থি গলার সামনের অংশে অবস্থিত একটি প্রজাপতি-আকৃতির গ্রন্থি। এটি আয়োডিন ব্যবহার করে T3 (ট্রাই-আয়োডোথাইরোনিন) ও T4 (থাইরক্সিন) নামক দুটি হরমোন তৈরি করে। এই হরমোনগুলো শরীরের প্রতিটি কোষে বিপাকের গতি নির্ধারণ করে। আয়োডিনের ঘাটতি হলে হরমোন উৎপাদন কমে যায়, যার ফল হিসেবে দেখা দেয় হাইপোথাইরয়েডিজম। এতে ওজন বেড়ে যাওয়া, ক্লান্তি, ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা, কোষ্ঠকাঠিন্য, চুল পড়া এবং মনোযোগের অভাব দেখা দিতে পারে।

নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, আয়োডিনের প্রভাব শুধু থাইরয়েডেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি মস্তিষ্কের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে গর্ভাবস্থায়। গর্ভবতী মায়ের আয়োডিন ঘাটতি হলে শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, হালকা থেকে মাঝারি আয়োডিন ঘাটতিও শিশুদের আইকিউ স্কোর কমাতে পারে। এ কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মায়েদের জন্য আয়োডিন গ্রহণের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।

বিপাকের দিক থেকে আয়োডিনের ভূমিকা আরও গভীর। থাইরয়েড হরমোন শরীরের বেসাল মেটাবলিক রেট (BMR) নিয়ন্ত্রণ করে, অর্থাৎ বিশ্রাম অবস্থায় শরীর কত দ্রুত শক্তি ব্যয় করবে তা নির্ধারণ করে।

আয়োডিন পর্যাপ্ত থাকলে বিপাক স্বাভাবিক থাকে, খাবার থেকে শক্তি উৎপাদন সঠিকভাবে হয় এবং অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি কমে। বিপরীতে, আয়োডিনের অভাবে বিপাক ধীর হয়ে যায়, ফলে সামান্য খাবারেও ওজন বাড়তে পারে।

বাংলাদেশসহ অনেক দেশে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারের মাধ্যমে এই ঘাটতি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে দেখা যায়, রান্নার সময় বেশি তাপে লবণ ব্যবহার করলে আয়োডিন নষ্ট হয়ে যায়।

এছাড়া খোলা লবণ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করলেও আয়োডিনের মাত্রা কমে যায়। নতুন তথ্য অনুযায়ী, রান্নার একেবারে শেষ পর্যায়ে আয়োডিনযুক্ত লবণ যোগ করলে এর কার্যকারিতা বেশি বজায় থাকে।

খাদ্য উৎসের দিক থেকেও আয়োডিন সমৃদ্ধ খাবারের তালিকা জানা জরুরি। সামুদ্রিক মাছ, শৈবাল, চিংড়ি, দুধ, ডিম এবং কিছু দুগ্ধজাত খাবারে প্রাকৃতিকভাবে আয়োডিন থাকে। তবে যারা নিরামিষভোজী বা সামুদ্রিক খাবার কম খান, তাদের মধ্যে আয়োডিন ঘাটতির ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

Leave A Comment