x
d o c t o r s 2 4
18 Sep

ডিমেনশিয়া, যা সাধারণত স্মৃতিভ্রংশ নামে পরিচিত, একটি জটিল স্নায়বিক অবস্থা যা স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন মানুষ ডিমেনশিয়ায় ভুগছেন, এবং বাংলাদেশেও এই সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। ২০২৫ সালে নতুন গবেষণা এবং উন্নত যত্নের পদ্ধতি এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

ডিমেনশিয়ার কারণ

ডিমেনশিয়া একটি একক রোগ নয়, বরং বিভিন্ন অবস্থার সমষ্টি যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা হ্রাস করে। এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ হলো আলঝাইমার রোগ, যা ডিমেনশিয়ার প্রায় ৬০-৭০% ক্ষেত্রে দায়ী। অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • ভাস্কুলার ডিমেনশিয়া: মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহে সমস্যার কারণে।
  • লুই বডি ডিমেনশিয়া: মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক প্রোটিন জমার ফলে।
  • ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়া: মস্তিষ্কের সামনের অংশে ক্ষতির কারণে।
  • ঝুঁকির কারণ: উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, এবং জিনগত প্রবণতা।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের সমস্যা এবং বায়ু দূষণের সংস্পর্শে থাকাও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে, ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, মাইক্রোপ্লাস্টিকের মতো দূষণকারী মস্তিষ্কের প্রদাহ বাড়িয়ে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

প্রতিরোধের উপায়

যদিও ডিমেনশিয়ার কোনো নির্দিষ্ট নিরাময় নেই, তবে জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং প্রাথমিক হস্তক্ষেপ এর ঝুঁকি কমাতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন:

  • স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: মেডিটারেনিয়ান ডায়েট, যেখানে ফল, শাকসবজি, ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ এবং বাদাম রয়েছে, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক।
  • শারীরিক কার্যকলাপ: সপ্তাহে ১৫০ মিনিট মাঝারি ব্যায়াম মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়।
  • মানসিক উদ্দীপনা: ধাঁধা, পড়াশোনা, বা নতুন দক্ষতা শেখা মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে।
  • সামাজিক সংযোগ: নিয়মিত পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
  • ঘুমের গুণগত মান: প্রতি রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ভালো ঘুম মস্তিষ্কের কোষ পুনর্জননে সহায়তা করে।

২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণা জানিয়েছে, নিয়মিত ধ্যান এবং মাইন্ডফুলনেস অনুশীলন মস্তিষ্কের হিপ্পোক্যাম্পাসের কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে, যা স্মৃতিশক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ডিমেনশিয়ার চিকিৎসায় সাম্প্রতিক অগ্রগতি রোগীদের জীবনমান উন্নত করছে। ২০২৫ সালে, নতুন ওষুধ যেমন লেকানেম্যাব (Lecanemab) এবং ডোনানেম্যাব (Donanemab) আলঝাইমারের প্রাথমিক পর্যায়ে মস্তিষ্কে অ্যামিলয়েড প্লাক কমাতে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।

Leave A Comment