বড় হচ্ছে মস্তিষ্ক, কমছে বুদ্ধিমত্তা
জেনারেশন জেড (১৯৯৭-২০১২ সালে জন্মগ্রহণকারী) এবং জেনারেশন আলফা (২০১০-২০২৫ সালে জন্মগ্রহণকারী) ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের আকার আগের প্রজন্মের তুলনায় বড় হলেও তাদের আইকিউ স্কোর উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় এই আকর্ষণীয় তথ্য উঠে এসেছে, যা বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন কারণে মস্তিষ্কের আকার বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহার আইকিউ হ্রাসের জন্য দায়ী।
গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?
ইউসি ডেভিস হেলথ রিসার্সার্সের বিজ্ঞানীরা ১৯৩০ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া মানুষের মস্তিষ্কের আকার নিয়ে একটি বিস্তৃত সমীক্ষা চালিয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, নীরব প্রজন্ম (১৯২৮-১৯৪৬ সালে জন্মগ্রহণকারী) এবং জেনারেশন এক্স (১৯৬৫-১৯৮০ সালে জন্মগ্রহণকারী) এর তুলনায় নতুন প্রজন্মের মস্তিষ্কের আকার ৬.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৩০-এর দশকে জন্ম নেওয়া মানুষের মস্তিষ্কের গড় আকার ছিল ১২৩৪ মিলি, যেখানে বর্তমান প্রজন্মের মস্তিষ্কের গড় আকার প্রায় ১৪০০ মিলি।
মস্তিষ্কের আকার বৃদ্ধির কারণ
গবেষকরা মনে করছেন, শিক্ষার মান উন্নতি, স্বাস্থ্যসেবার অগ্রগতি, এবং সামাজিক ও পুষ্টি সংক্রান্ত উন্নয়ন মস্তিষ্কের আকার বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়াও, বড় মস্তিষ্কের কারণে স্মৃতিশক্তি সংরক্ষণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বয়সজনিত ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমতে পারে। তবে, মস্তিষ্কের আকার বুদ্ধিমত্তার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে না বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।
আইকিউ হ্রাসের কারণ কী?
গবেষণায় দেখা গেছে, জেনারেশন জেড এবং আলফার আইকিউ স্কোর পূর্ববর্তী প্রজন্মের তুলনায় কম। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহারকে দায়ী করা হচ্ছে। ডিজিটাল ডিভাইসের উপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা এবং স্ক্রিন টাইম বৃদ্ধির ফলে মানুষের মানসিক বিকাশ ও জ্ঞানীয় ক্ষমতার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা হ্রাস পাচ্ছে বলে গবেষকরা মনে করেন।
মস্তিষ্কের আকার ও বুদ্ধিমত্তার সম্পর্ক
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মস্তিষ্কের আকার এবং বুদ্ধিমত্তার মধ্যে খুব সামান্য সম্পর্ক রয়েছে। বড় মস্তিষ্ক মানুষকে আরও তথ্য সংরক্ষণ করতে সাহায্য করলেও এটি সরাসরি আইকিউ বা জ্ঞানীয় ক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলে না। তবে, মস্তিষ্কের অতিরিক্ত ওজন বা আয়তন স্মৃতিশক্তি এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা সুবিধা প্রদান করতে পারে।
ভবিষ্যতের জন্য পরামর্শ
গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন, ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার সীমিত করে এবং মানসিক বিকাশের জন্য শিক্ষামূলক ও সৃজনশীল কার্যক্রমে মনোযোগ দেওয়া উচিত। শিক্ষাব্যবস্থায় সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হলে নতুন প্রজন্মের আইকিউ হ্রাসের প্রবণতা কমানো সম্ভব হতে পারে।
