x
d o c t o r s 2 4
07 Jul

সুইডেনের গবেষকরা সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, যারা ঘুমের মধ্যে নাক ডাকেন, তাদের ক্যানসার Ascending, সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল বারসেলোনার একটি বিজ্ঞান সম্মেলনে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, নাক ডাকার সমস্যা, বিশেষ করে ‘অবসট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’ (ওএসএ)-এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্যানসারের ঝুঁকি অনেক বেশি।

নাক ডাকার কারণ কী?

নাক ডাকার প্রধান কারণ হলো ‘অবসট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’ বা ওএসএ। এই সমস্যার কারণে ঘুমের সময় শ্বাসনালীতে বাধা সৃষ্টি হয়, যার ফলে বায়ুপ্রবাহ ব্যাহত হয় এবং নাক ডাকার শব্দ সৃষ্টি হয়। এটি শুধু ঘুমের মানই খারাপ করে না, বরং শরীরে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যাও তৈরি করতে পারে।

গবেষণার ফলাফল

৪,২০০ জন ওএসএ রোগীর উপর চালানো এই গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক রোগী গত পাঁচ বছরের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। গবেষকরা জানিয়েছেন, ওএসএ-তে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে স্থূলতা, ডায়াবিটিস এবং হৃদরোগের মতো সমস্যা প্রায়ই দেখা যায়। পূর্বে ধারণা করা হতো, এই সমস্যাগুলোই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় নতুন তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ওএসএ-তে আক্রান্তদের রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমে যায়, বিশেষ করে ঘুমের সময়। এই অক্সিজেনের ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে কোষের ক্ষতি করে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া, ঘুমের সময় বারবার শ্বাস বন্ধ হওয়ার ফলে শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি হয়, যা ক্যানসার কোষের বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, এই সমস্যার সঙ্গে ফুসফুস, মুখগহ্বর এবং প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে।

গবেষক দল জানিয়েছেন, এই ফলাফল নিশ্চিত করতে এবং ক্যানসারের সঙ্গে নাক ডাকার সম্পর্ক আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন। তবে এই তথ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে পারে এবং যারা নাক ডাকেন, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে পারে।

প্রতিরোধের উপায়

ওএসএ-এর চিকিৎসায় সিপিএপি (কন্টিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেসার) মেশিন ব্যবহার, ওজন নিয়ন্ত্রণ, এবং কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার কার্যকর হতে পারে। এছাড়া, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

Leave A Comment