x
d o c t o r s 2 4
05 Oct

পুষ্টি নিয়ে ভুল ধারণা আমাদের খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যের উপর বড় প্রভাব ফেলে। “চর্বি খেলে মোটা হয়”, “কার্বোহাইড্রেট শত্রু”, বা “ডিম খেলে কোলেস্টেরল বাড়ে”—এমন অনেক মিথ বাংলাদেশে প্রচলিত। বাংলাদেশ নিউট্রিশন সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০% মানুষ পুষ্টি সম্পর্কিত ভুল তথ্যের কারণে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস থেকে বিচ্যুত হচ্ছেন। এই প্রতিবেদনে আমরা সাধারণ পুষ্টির মিথ ভাঙব এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য তুলে ধরব, যাতে আপনি সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।

মিথ ১: সব চর্বি ক্ষতিকর

ভুল ধারণা: চর্বিযুক্ত খাবার খেলে ওজন বাড়ে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।
বৈজ্ঞানিক তথ্য: সব চর্বি ক্ষতিকর নয়। ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ, বাদাম, অ্যাভোকাডো এবং জলপাই তেলের মতো স্বাস্থ্যকর চর্বি হৃদয়ের জন্য উপকারী এবং প্রদাহ কমায়। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণ কোলেস্টেরলের ‘খারাপ’ LDL লেভেল কমাতে সাহায্য করে। তবে ট্রান্স ফ্যাট এবং অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট (যেমন ফাস্ট ফুডে) এড়ানো উচিত।
পরামর্শ: সপ্তাহে ২-৩ বার মাছ বা এক মুঠো বাদাম খান।

মিথ ২: কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলতে হবে

ভুল ধারণা: ভাত, রুটি বা পাস্তা খেলে ওজন বাড়ে।
বৈজ্ঞানিক তথ্য: কার্বোহাইড্রেট শরীরের প্রধান শক্তির উৎস। গোটা শস্য যেমন লাল চাল, ওটস, বা কুইনোয়া ফাইবার, ভিটামিন এবং খনিজ সরবরাহ করে। হার্ভার্ডের একটি স্টাডি বলছে, গোটা শস্য ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। তবে পরিশোধিত কার্ব যেমন সাদা ভাত বা চিনিযুক্ত খাবার সীমিত করুন।
পরামর্শ: বাংলাদেশে সহজলভ্য লাল চাল বা ডাল দিয়ে সুষম খাবার তৈরি করুন।

মিথ ৩: ডিম খেলে কোলেস্টেরল বাড়ে

ভুল ধারণা: ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল থাকায় এটি হৃদরোগের কারণ।
বৈজ্ঞানিক তথ্য: ডিম প্রোটিন, ভিটামিন B12 এবং কোলিনের চমৎকার উৎস। একটি গবেষণায় (Journal of Clinical Nutrition) দেখা গেছে, দিনে ১-২টি ডিম সুস্থ মানুষের কোলেস্টেরল লেভেলে খারাপ প্রভাব ফেলে না। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের পরিমিত খাওয়া উচিত।
পরামর্শ: সপ্তাহে ৪-৫টি ডিম সিদ্ধ বা পোচ করে খান।

মিথ ৪: ডিটক্স ডায়েট শরীর পরিষ্কার করে

ভুল ধারণা: জুস ক্লিনজ বা ডিটক্স ডায়েট শরীর থেকে টক্সিন বের করে।
বৈজ্ঞানিক তথ্য: লিভার এবং কিডনি স্বাভাবিকভাবেই শরীর পরিষ্কার করে। ডিটক্স ডায়েটে পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বলছে, ফলমূল, শাকসবজি এবং পানি দিয়ে সুষম খাদ্যই শরীরের জন্য যথেষ্ট।
পরামর্শ: প্রতিদিন ২-৩ লিটার পানি এবং শাকসবজি খান।

মিথ ৫: সাপ্লিমেন্ট সব সমস্যার সমাধান

ভুল ধারণা: ভিটামিন বা খনিজ সাপ্লিমেন্ট সব পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে।
বৈজ্ঞানিক তথ্য: সাপ্লিমেন্ট শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ঘাটতির ক্ষেত্রে প্রয়োজন, যেমন ভিটামিন D বা B12। অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট কিডনি বা লিভারের ক্ষতি করতে পারে। একটি গবেষণায় (European Journal of Nutrition) বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক খাবার থেকে পুষ্টি গ্রহণ সবচেয়ে কার্যকর।
পরামর্শ: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট এড়ান।

Leave A Comment