x
d o c t o r s 2 4
15 Sep

ক্যান্সার চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী অগ্রগতি এনেছে রাশিয়ার নতুন ভ্যাকসিন ‘এন্টারোমিক্স’। আধুনিক এমআরএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি এই ভ্যাকসিন প্রথম পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ১০০ শতাংশ কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা প্রদর্শন করেছে। এটি কাস্টমাইজড ইমিউনোথেরাপি হিসেবে কাজ করে, যেখানে প্রতিটি ডোজ রোগীর টিউমারের জিনগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়, যা এটিকে অত্যন্ত কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতিতে পরিণত করেছে।

প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালে সাফল্য

রাশিয়ার ন্যাশনাল মেডিক্যাল রিসার্চ রেডিওলজিক্যাল সেন্টার এবং এঙ্গেলহার্ড ইনস্টিটিউট অব মলিকুলার বায়োলজির নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় ৪৮ জন স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন।

ফলাফলে দেখা গেছে, ভ্যাকসিনটি টিউমারের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে সঙ্কুচিত করেছে এবং কোনো গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই কাজ করেছে। বিশেষ করে কলোরেকটাল ক্যান্সারের বিরুদ্ধে এই ভ্যাকসিনের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল, যা বিশ্বব্যাপী ক্যান্সার মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।

গবেষকরা জানান, এই ভ্যাকসিন অন্যান্য ক্যান্সার, যেমন ফুসফুস, স্তন ও প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও কার্যকর হতে পারে।

কীভাবে কাজ করে এন্টারোমিক্স?

এন্টারোমিক্স ভ্যাকসিনের বিশেষত্ব হলো এটি রোগীর ইমিউন সিস্টেমকে ক্যান্সার কোষ চিনতে ও ধ্বংস করতে শক্তিশালী করে। এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভ্যাকসিনটি টিউমারের নির্দিষ্ট প্রোটিন বা অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে ইমিউন প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, যা ক্যান্সার কোষকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করে। এই পদ্ধতি ঐতিহ্যবাহী কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির তুলনায় কম ক্ষতিকর এবং বেশি কার্যকর বলে বিবেচিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ভ্যাকসিন বাংলাদেশ, ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার মতো অঞ্চলে বিশাল পরিবর্তন আনতে পারে, যেখানে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান এবং চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা সীমিত।

তবে, এর ব্যাপক প্রয়োগে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যেমন জিনগত প্রোফাইলিংয়ের জন্য উন্নত ল্যাবরেটরি, কোল্ড-চেইন সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং সাশ্রয়ী মূল্যে ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করা।

গবেষকরা আশাবাদী যে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সফল হলে এন্টারোমিক্স ক্যান্সার চিকিৎসায় এক নতুন যুগের সূচনা করবে। এটি কেবল কলোরেকটাল ক্যান্সার নয়, অন্যান্য জটিল ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও কার্যকর সমাধান হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্প্রদায় এই ভ্যাকসিনের পরবর্তী ফলাফলের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

Leave A Comment