x
d o c t o r s 2 4
30 Jan

প্রাদার-উইলি সিন্ড্রোম (Prader-Willi Syndrome বা PWS) একটি অত্যন্ত জটিল এবং বিরল জেনেটিক অবস্থা, যা মূলত মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশকে প্রভাবিত করে। এই রোগের সবচেয়ে পরিচিত দিক হলো “হাইপারফেজিয়া” বা অতিরিক্ত ক্ষুধা, যার ফলে রোগী কখনোই পেট ভরার অনুভূতি পায় না।

২০২৬ সালের আধুনিক এন্ডোক্রিনোলজি গবেষণা বলছে, এই সিন্ড্রোমটি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে বা ওবেসিটির (স্থূলতা) দিকে মোড় নেয়, তার প্রায় ১ বছর আগে থেকেই শরীর চারটি বিশেষ সংকেত দিতে শুরু করে। সময়মতো এই লক্ষণগুলো শনাক্ত করতে পারলে হরমোন থেরাপি এবং কঠোর খাদ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্থূলতাজনিত জটিলতা রোধ করা সম্ভব।

প্রাদার-উইলি সিন্ড্রোম সাধারণত শৈশব থেকেই শুরু হয়, তবে এর লক্ষণগুলো বয়সের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। রোগের জটিল পর্যায় শুরু হওয়ার ১ বছর আগে যে লক্ষণগুলো দেখা যায়:

১. খাবারের প্রতি অস্বাভাবিক আসক্তি ও মেজাজ পরিবর্তন

হাইপারফেজিয়া বা মাত্রাতিরিক্ত ক্ষুধা শুরু হওয়ার প্রায় ১ বছর আগে থেকেই শিশুর আচরণে পরিবর্তন দেখা দেয়। শিশু খাবারের জন্য জেদ করা, লুকিয়ে খাবার খাওয়া বা খাবার না পেলে অতিরিক্ত রাগান্বিত হয়ে পড়ার মতো লক্ষণ দেখায়। ২০২৬ সালের নতুন ডায়েটারি স্টাডি বলছে, এই সময় মস্তিষ্কে ‘ঘেরলিন’ (Ghrelin) হরমোনের মাত্রা হঠাৎ বাড়তে শুরু করে, যা এই অস্বাভাবিক ক্ষুধার সংকেত দেয়।

২. ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট বা স্লিপ অ্যাপনিয়া (Sleep Apnea)

ওজন খুব বেশি বাড়ার আগেই ১ বছর আগে থেকে লক্ষ্য করা যায় যে, শিশু ঘুমের মধ্যে নাক ডাকছে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। এটি হাইপোথ্যালামাসের সমস্যার কারণে শরীরের পেশির শিথিলতা এবং শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের অসামঞ্জস্যতার ফলে ঘটে। দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব থাকাও এর একটি বড় উপসর্গ।

৩. ব্যথা অনুভব করার ক্ষমতা কমে যাওয়া (High Pain Threshold)

প্রাদার-উইলি সিন্ড্রোমের একটি অদ্ভুত এবং নতুন আবিষ্কৃত আগাম লক্ষণ হলো ব্যথার প্রতি অসংবেদনশীলতা। ১ বছর আগে থেকেই লক্ষ্য করা যেতে পারে যে, শিশু বড় কোনো আঘাত পেলেও আগের মতো কান্নাকাটি করছে না বা ব্যথার তীব্রতা বুঝতে পারছে না। এটি স্নায়বিক সংকেত পরিবহনের ত্রুটির কারণে ঘটে।

৪. চর্মরোগ এবং নখ দিয়ে চামড়া খুঁটে তোলা (Skin Picking)

২০২৬ সালের ক্লিনিকাল পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পিডব্লিউএস রোগীরা ১ বছর আগে থেকেই একটি বিশেষ অভ্যাসে জড়িয়ে পড়ে—তা হলো নখ দিয়ে নিজের চামড়া বা পুরনো ক্ষত খুঁটে তোলা। এটি এক ধরণের উদ্বেগজনিত বা কম্পালসিভ আচরণ যা হাইপোথ্যালামাসের ত্রুটির সাথে সরাসরি যুক্ত।

অক্সিটোসিন থেরাপি

আগে প্রাদার-উইলি সিন্ড্রোমের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকর ওষুধ ছিল না। কিন্তু ২০২৬ সালে ‘অক্সিটোসিন নাসাল স্প্রে’ ক্লিনিকাল ট্রায়ালে দারুণ সাফল্য দেখাচ্ছে। এটি কেবল ক্ষুধার তীব্রতাই কমায় না, বরং রোগীদের সামাজিক আচরণ এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করছে। এছাড়া গ্রোথ হরমোন থেরাপি এখন আরও উন্নত এবং সহজলভ্য হয়েছে যা পেশির শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

করণীয় ও রোগ নির্ণয়

যদি আপনার শিশুর মধ্যে এই লক্ষণগুলো দেখা দেয় বা জন্মের সময় পেশির চরম শিথিলতা (Floppy baby) থেকে থাকে, তবে দ্রুত যা করবেন:

  • জেনেটিক টেস্টিং: ডিএনএ মেথিলেশন টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়।

  • এন্ডোক্রিনোলজিস্ট পরামর্শ: হরমোনের ভারসাম্য পরীক্ষা করা।

  • কঠোর খাদ্য নিয়ন্ত্রণ: বাড়িতে খাবারের আলমারি বা ফ্রিজে লক ব্যবহার করা এবং ক্যালরি মেপে খাবার দেওয়া।

প্রাদার-উইলি সিন্ড্রোম একটি আজীবনের চ্যালেঞ্জ, কিন্তু সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনতে পারে। ১ বছর আগে থেকে দেখা দেওয়া আচরণের পরিবর্তন বা ব্যথার প্রতি উদাসীনতাকে সাধারণ মনে করবেন না।

Leave A Comment