ফাইব্রোইডস (Fibroids) হলো মহিলাদের জরায়ুতে হওয়া অপ্রাণবন্ত, সাধারণত স্বাভাবিক বা ক্যান্সারবিহীন টিউমার। এটি বিশেষত প্রজননবয়সী মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ। যদিও অনেক সময় ফাইব্রোইডস ছোট ও লক্ষণহীন থাকে, তবে বড় বা সক্রিয় ফাইব্রোইডের ক্ষেত্রে শরীর ছয় মাস আগেও কিছু সতর্ক সংকেত প্রদান করে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ফাইব্রোইড ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। রোগের প্রাথমিক অবস্থায় যদি এই লক্ষণগুলো চিহ্নিত করা যায়, তবে চিকিৎসা সময়মতো শুরু করা সম্ভব, যা জটিলতা—যেমন অতিরিক্ত রক্তপাত বা প্রজনন সমস্যা—প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
নিচে ফাইব্রোইডসের ৬ মাস আগে শরীরে দেখা দিতে পারে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ তুলে ধরা হলো—
১. অতিরিক্ত বা অনিয়মিত মাসিক
ফাইব্রোইডসের সবচেয়ে সাধারণ পূর্বলক্ষণ হলো মাসিক চক্রে অস্বাভাবিকতা। রোগী ৬ মাস আগেই লক্ষ্য করতে পারেন—
- মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত বা দীর্ঘদিন রক্তপাত,
- কখনও মাসিক খুব হালকা বা অনিয়মিত হওয়া।
এর কারণ হলো জরায়ুর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা ফাইব্রোইডের চাপ, যা জরায়ুর অভ্যন্তরীণ স্তরকে প্রভাবিত করে।
২. তলপেট বা পিঠে চাপ ও ব্যথা
ফাইব্রোইড বৃদ্ধির কারণে জরায়ু বা আশেপাশের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে চাপ সৃষ্টি হয়। অনেক নারী ৬ মাস আগেই—
- তলপেটে ভারী চাপ অনুভব করেন,
- মাঝে মাঝে পিঠ বা কোমরে ব্যথা অনুভূত হয়।
ব্যথা সাধারণত স্থায়ী নয়, কিন্তু ক্রমবর্ধমান ফাইব্রোইডের সাথে ধীরে ধীরে বেড়ে যায়।
৩. প্রজনন অস্বস্তি ও প্রস্রাবের সমস্যা
বড় ফাইব্রোইড প্রস্রাব বা মূত্রাশয়কে চাপ দিতে পারে। ফলে দেখা দেয়—
- প্রায়শই প্রস্রাবের ইচ্ছা,
- প্রস্রাব শুরু করতে কষ্ট হওয়া,
- গ্যাস বা পেট ফাঁপা অনুভূতি।
এটি শরীরের সতর্ক সংকেত যে জরায়ুতে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটছে।
৪. ক্লান্তি ও রক্তাল্পতা
অনিয়মিত বা অতিরিক্ত রক্তপাতের কারণে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমতে পারে। ফলে রোগী ৬ মাস আগেই—
- সাধারণ ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব করেন,
- মাথা ঘোরা বা নিঃশ্বাসের অসুবিধা দেখা দেয়।
এই লক্ষণ প্রায়শই উপেক্ষিত হয়, তবে এটি ফাইব্রোইডসের প্রাথমিক সতর্কবার্তা।
প্রতিরোধ ও করণীয়
- নিয়মিত মাসিকের হিসাব রাখা এবং অনিয়ম দেখলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া।
- পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ও পর্যাপ্ত লোহিত খাদ্য (Iron-rich diet) নিশ্চিত করা।
- তলপেটের ব্যথা বা চাপ অনুভূত হলে হালকা ব্যায়াম বা ভ্যাজাল কমপ্রেস ব্যবহার করা।
- বড় ফাইব্রোইড থাকলে আল্ট্রাসাউন্ড বা মেডিকেল ইমেজিং পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া।
- চিকিৎসক পরামর্শক্রমে ঔষধ বা ছোট অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলে তা সময়মতো গ্রহণ করা।
