x
d o c t o r s 2 4
02 Jan

ফোলিক অ্যাসিড বা ভিটামিন B9 শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি পুষ্টি উপাদান। এটি রক্তকণিকা তৈরিতে, ডিএনএ সংশ্লেষে, কোষ বিভাজনে এবং গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আধুনিক জীবনে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে ফোলিক অ্যাসিডের ঘাটতি ক্রমেই বাড়ছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, তীব্র ঘাটতি ধরা পড়ার প্রায় ৩–৪ সপ্তাহ আগেই শরীর কিছু স্পষ্ট সতর্ক সংকেত দিতে শুরু করে, যা অনেক সময় সাধারণ ক্লান্তি বা মানসিক চাপ ভেবে উপেক্ষা করা হয়।

১. অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও শক্তিহীনতা

ফোলিক অ্যাসিড ঘাটতির সবচেয়ে প্রাথমিক লক্ষণগুলোর একটি হলো সব সময় ক্লান্ত লাগা। পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরও শরীর চাঙ্গা লাগে না, কাজ করতে আগ্রহ কমে যায়। কারণ ফোলিক অ্যাসিডের অভাবে লোহিত রক্তকণিকা সঠিকভাবে তৈরি হতে পারে না, ফলে শরীরের কোষে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়। এই অবস্থাকে মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়ার প্রাথমিক ধাপ বলা হয়।

২. মাথা ঘোরা ও মনোযোগে সমস্যা

রক্তস্বল্পতার প্রাথমিক প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কে। ফলে হালকা মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা, সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হওয়া বা কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা হতে পারে। অনেকেই এটিকে স্ট্রেস বা অতিরিক্ত কাজের চাপ মনে করেন, কিন্তু নিয়মিত এমন সমস্যা হলে তা ফোলিক অ্যাসিড ঘাটতির আগাম ইঙ্গিত হতে পারে।

৩. জিহ্বা ও মুখের ভেতরে পরিবর্তন

ফোলিক অ্যাসিড ঘাটতির একটি তুলনামূলক কম পরিচিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো জিহ্বা লালচে ও ফোলা হয়ে যাওয়া, মুখে ঘা বা জ্বালাভাব। জিহ্বা মসৃণ ও চকচকে দেখাতে পারে এবং খাওয়ার সময় অস্বস্তি হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে “গ্লসাইটিস” বলা হয়, যা B-ভিটামিন ঘাটতির একটি ক্লাসিক লক্ষণ।

৪. মুড সুইং ও মানসিক অস্থিরতা

ফোলিক অ্যাসিড মস্তিষ্কে সেরোটোনিন ও ডোপামিনের মতো নিউরোট্রান্সমিটার তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ঘাটতির শুরুতেই অনেকের মধ্যে অকারণ বিরক্তি, উদ্বেগ, মন খারাপ বা হালকা বিষণ্নতার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ফোলেট কম থাকলে ডিপ্রেশনের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

৫. ক্ষুধামান্দ্য ও হজমের সমস্যা

ফোলিক অ্যাসিড ঘাটতির এক মাস আগে অনেকেরই খাবারে অনীহা দেখা দেয়। অল্প খেলেই পেট ভরে যাওয়া, বমি বমি ভাব বা হালকা ডায়রিয়া হতে পারে। অন্ত্রের কোষ দ্রুত বিভাজিত হয় বলে ফোলেটের অভাবে হজমতন্ত্রে এর প্রভাব দ্রুত পড়ে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে

গর্ভবতী নারী, অ্যালকোহল গ্রহণকারী, দীর্ঘদিন গ্যাস্ট্রিক বা অন্ত্রের রোগে ভোগা ব্যক্তি, এবং যারা মেথোট্রেক্সেট বা কিছু অ্যান্টি-এপিলেপটিক ওষুধ খান—তাদের ফোলিক অ্যাসিড ঘাটতির ঝুঁকি বেশি। তাই এই গোষ্ঠীর মানুষদের জন্য আগাম লক্ষণ জানা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিরোধ ও করণীয়

সবুজ শাকসবজি (পালং, লেটুস), ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি, লেবু জাতীয় ফল, কমলা, অ্যাভোকাডো ও কলিজা ফোলিক অ্যাসিডের ভালো উৎস। নিয়মিত এসব খাবার খাদ্যতালিকায় রাখলে ঘাটতির ঝুঁকি কমে। তবে উপসর্গ থাকলে নিজে নিজে সাপ্লিমেন্ট না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

শরীরের এই সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলোকে গুরুত্ব দিলে ফোলিক অ্যাসিড ঘাটতির মতো নীরব সমস্যাকে বড় আকার নেওয়ার আগেই শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা সম্ভব।

Leave A Comment