আধুনিক জীবনযাত্রার কারণে বিশ্বজুড়ে স্থূলতার সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় একটি আশ্চর্যজনক তথ্য উঠে এসেছে—বাদাম শুধু ওজন কমাতেই সাহায্য করে না, বরং হৃদযন্ত্র ও কার্ডিওমেটাবলিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ অস্ট্রেলিয়ার গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাটি ওবেসিটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি তিনজনের মধ্যে দুজনই অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় ভুগছেন। ওজন কমানোর কথা আসলেই বাদামকে প্রায়ই উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার হিসেবে এড়িয়ে চলা হয়। কিন্তু গবেষক ডঃ শারায়া কার্টারের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণা বলছে, বাদাম খেয়েও ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তিনি জানান, বাদাম ওজন কমানোর পাশাপাশি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করতে অত্যন্ত কার্যকর।
বাদামের পুষ্টিগুণ
বাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ। যদিও বাদামে চর্বির পরিমাণ বেশি, তবে এটি স্বাস্থ্যকর চর্বি, যা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রদাহ কমিয়ে হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাদাম এবং কম চর্বিযুক্ত খাবার উভয়ই শরীরের ওজন প্রায় ৯.৩ শতাংশ কমাতে সহায়ক। তবে বাদামের অতিরিক্ত সুবিধা হলো এটি হৃদযন্ত্রের জন্য বিশেষভাবে উপকারী।
বাদামের অন্যান্য উপকারিতা
- ত্বকের যত্ন: বাদামে থাকা ভিটামিন ই শুষ্ক ত্বককে কোমল ও মসৃণ করতে সহায়ক।
- মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য: প্রোটিন সমৃদ্ধ বাদাম মস্তিষ্কের কোষ মেরামত ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে।
- হজমশক্তি উন্নত: বাদামে প্রচুর ফাইবার থাকায় এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং হজমশক্তি উন্নত করে।
- কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত বাদাম খাওয়া খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বাড়াতে সহায়ক।
- চোখের স্বাস্থ্য: ভিটামিন ই সমৃদ্ধ বাদাম চোখের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে এবং চোখের রোগ প্রতিরোধে কার্যকর।
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: বাদামে থাকা ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
গবেষকরা পরামর্শ দেন, দিনে এক মুঠো (৩০-৫০ গ্রাম) বাদাম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে ভাজা বা অতিরিক্ত লবণযুক্ত বাদাম এড়িয়ে কাঁচা বা হালকা ভাজা বাদাম বেছে নেওয়া উচিত। বাদাম সালাদ, স্মুদি বা সকালের নাস্তায় যোগ করে খাওয়া যায়।
