বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো চোখেও আসে নানা পরিবর্তন। সবচেয়ে সাধারণ এবং বিশ্বজুড়ে অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ক্যাটারাক্ট বা ছানি। সাধারণভাবে এটি চোখের লেন্সে মেঘের মতো আবছা পর্দা সৃষ্টি করে, যার ফলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়। তবে সুখবর হলো— আধুনিক চিকিৎসা এবং সঠিক জীবনযাপনের মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকটাই প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
কীভাবে হয় ক্যাটারাক্ট?
ক্যাটারাক্ট মূলত চোখের লেন্সের প্রোটিনের গঠন পরিবর্তনের কারণে হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রোটিনগুলো জমাট বাঁধতে শুরু করে এবং লেন্সের স্বচ্ছতা হারায়।
তবে বয়স ছাড়াও আরও কিছু কারণ আছে, যেমন:
- ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকা
- অতিরিক্ত রোদে থাকা, বিশেষ করে UV রশ্মির সংস্পর্শে বেশি সময় থাকা
- ধূমপান ও মদ্যপান
- চোখে আঘাত পাওয়া বা পুরনো চোখের প্রদাহ
- স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার
চিকিৎসকদের মতে, ৬০ বছরের পর প্রায় ৭০% মানুষ কোনো না কোনোভাবে ক্যাটারাক্টের প্রভাব অনুভব করেন।
প্রাথমিক লক্ষণগুলো
ক্যাটারাক্ট ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে, ফলে অনেকেই শুরুতে বুঝতে পারেন না। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে সতর্ক হওয়া উচিত—
- দৃষ্টি ঝাপসা বা ঘোলা দেখা
- আলোতে চোখে ঝিলমিল বা গ্লেয়ার
- রাতে গাড়ি চালাতে বা কম আলোতে দেখতে অসুবিধা
- রঙের পার্থক্য বোঝায় সমস্যা
- চশমার পাওয়ার ঘন ঘন পরিবর্তন
প্রতিরোধে কী করবেন
যদিও বয়সজনিত ছানি পুরোপুরি রোধ করা যায় না, কিছু পদক্ষেপে এটি বিলম্বিত করা সম্ভব।
চিকিৎসকরা কিছু কার্যকর উপায় উল্লেখ করেছেন:
- সূর্যের আলো থেকে চোখ রক্ষা করুন: বাইরে বের হলে UV প্রটেকশনযুক্ত সানগ্লাস ব্যবহার করুন।
- পুষ্টিকর খাবার খান: ভিটামিন C, E, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও বিটা-ক্যারোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন— গাজর, পালং শাক, টমেটো, মাছ, বাদাম ইত্যাদি চোখের স্বাস্থ্যে উপকারী।
- ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করুন।
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
- নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করুন: বছরে অন্তত একবার একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যান।
আধুনিক চিকিৎসা:
ক্যাটারাক্টের একমাত্র স্থায়ী চিকিৎসা হলো সার্জারি। বর্তমানে ফেকো সার্জারি (Phaco Surgery) বা লেন্স রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি অত্যন্ত আধুনিক ও নিরাপদ পদ্ধতি। এতে চোখের মেঘাচ্ছন্ন লেন্সটি অপসারণ করে কৃত্রিম স্বচ্ছ লেন্স স্থাপন করা হয়।
এই অস্ত্রোপচারের কিছু বৈশিষ্ট্য—
- ১৫–২০ মিনিটে সম্পন্ন হয়
- সেলাই ছাড়াই করা সম্ভব
- সাধারণত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দৃষ্টি ফিরে আসে
- সফলতার হার ৯৫% এরও বেশি
বাংলাদেশে এখন অনেক সরকারি হাসপাতাল ও প্রাইভেট চক্ষু ক্লিনিকে এই অস্ত্রোপচার সহজলভ্য ও তুলনামূলক কম খরচে করা যাচ্ছে।
