x
d o c t o r s 2 4
07 Nov

ভিটামিন কে প্রধানত দুই প্রকার—কে১ (ফাইলোকুইনন) এবং কে২ (মেনাকুইনন)। কে১ পাওয়া যায় সবুজ শাকসবজিতে, যেমন পালং শাক, ব্রকোলি এবং কেল। এটি মূলত রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। অন্যদিকে, কে২ পাওয়া যায় ফার্মেন্টেড খাবারে যেমন নাটো (জাপানি সয়াবিন ডিশ), চিজ এবং ডিমের কুসুমে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, কে২ হাড়ের স্বাস্থ্যে আরও কার্যকর। ২০২৪ সালের একটি মেটা-অ্যানালাইসিস (জার্নাল অফ বোন অ্যান্ড মিনারেল রিসার্চ) অনুসারে, কে২ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকারীদের মধ্যে হিপ ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি ২২% কমে যায়, যা কে১-এর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

রক্ত জমাট বাঁধায় ভিটামিন কে-এর ভূমিকা

রক্ত জমাট বাঁধা একটি জটিল প্রক্রিয়া, যেখানে ভিটামিন কে প্রোটিন ফ্যাক্টর II, VII, IX এবং X-এর সংশ্লেষণে সাহায্য করে। এই প্রোটিনগুলো ছাড়া রক্তক্ষরণ বন্ধ হয় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুসারে, বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর ১০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ হেমোফিলিয়া বা অন্যান্য জমাট বাঁধা সমস্যায় ভোগেন। নতুন তথ্য: ২০২৫ সালের প্রিলিমিনারি স্টাডি (ইউরোপিয়ান জার্নাল অফ হেমাটোলজি) দেখিয়েছে, ভিটামিন কে-এর অভাবে অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট ওষুধ (যেমন ওয়ারফারিন) গ্রহণকারীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি ৩০% বাড়ে। তবে, স্বাভাবিক মানুষের জন্য দৈনিক ৯০-১২০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন কে যথেষ্ট।

হাড়ের স্বাস্থ্যে ভিটামিন কে-এর ভূমিকা

হাড়ের স্বাস্থ্যে ভিটামিন কে-এর ভূমিকা আরও আকর্ষণীয়। এটি অস্টিওক্যালসিন প্রোটিনকে সক্রিয় করে, যা ক্যালসিয়ামকে হাড়ে আবদ্ধ করে। অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্তদের মধ্যে ভিটামিন কে-এর অভাব সাধারণ। ২০২৩ সালের একটি র‍্যান্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়াল (দ্য ল্যানসেট) অনুসারে, ১৮০ মাইক্রোগ্রাম কে২ সাপ্লিমেন্ট ১২ মাস গ্রহণে মেনোপজাল মহিলাদের হাড়ের ঘনত্ব ১.৫% বেড়েছে। নতুন তথ্য: ২০২৫ সালের জাপানি গবেষণা (নিউট্রিশন জার্নাল) প্রকাশ করেছে, নাটো-ভিত্তিক কে২ গ্রহণে বয়স্কদের ফ্র্যাকচার ঝুঁকি ৪০% কমে, কারণ এটি ভিটামিন ডি-এর সাথে সিনার্জি তৈরি করে ক্যালসিয়াম শোষণ বাড়ায়।

ভিটামিন কে-এর অভাবে সহজে রক্তপাত, নাক দিয়ে রক্ত পড়া বা হাড় দুর্বল হওয়া দেখা যায়। শিশুদের মধ্যে এটি ভিটামিন কে ডেফিসিয়েন্সি ব্লিডিং (VKDB) সৃষ্টি করতে পারে।

Leave A Comment