x
d o c t o r s 2 4
12 Nov

চোখ আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান ইন্দ্রিয়গুলোর একটি, কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই চোখের সমস্যাকে অবহেলা করেন—যতক্ষণ না দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে। চিকিৎসকদের মতে, দৃষ্টিশক্তি হারানো (Vision Loss) কখনও হঠাৎ করে ঘটে না। অনেক ক্ষেত্রেই শরীর অন্তত দুই মাস আগেই বেশ কিছু সূক্ষ্ম সংকেত পাঠায়, যা চিহ্নিত করতে পারলে বড় ধরনের ক্ষতি ঠেকানো সম্ভব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীতে প্রায় ২.২ বিলিয়ন মানুষ কোনো না কোনো দৃষ্টিশক্তি সমস্যায় ভুগছেন, যার প্রায় অর্ধেকই প্রতিরোধযোগ্য ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডায়াবেটিস, গ্লুকোমা, রেটিনার সমস্যা, বা উচ্চ রক্তচাপজনিত পরিবর্তনের কারণে ধীরে ধীরে দৃষ্টি হারাতে পারে।

চলুন জেনে নিই—ভিশন লস বা দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের ২ মাস আগে শরীরে যে ৪টি সতর্ক সংকেত দেখা দিতে পারে, সেগুলো কীভাবে চিনবেন এবং কী করবেন।

১. ঝাপসা দৃষ্টি বা ফোকাস করতে সমস্যা

দৃষ্টিশক্তি হারানোর প্রথম লক্ষণগুলোর একটি হলো দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া বা দূরের জিনিসে ফোকাস করতে কষ্ট হওয়া।
প্রথমে এটি সাময়িক মনে হলেও ধীরে ধীরে স্থায়ী হয়ে ওঠে।

বিশেষত যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাদের ক্ষেত্রে এটি ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির আগাম সংকেত হতে পারে।
চোখের ভেতরে রক্তনালির ক্ষতির কারণে রেটিনা পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না, ফলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়।
যদি হঠাৎ আলো কমে গেলে বা পড়তে গিয়ে শব্দগুলো মিশে যায়—তাহলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

২. আলো বা রঙ দেখার পরিবর্তন

ভিশন লসের আগের মাসগুলোতে অনেকেই লক্ষ্য করেন, আলোর প্রতি অতিসংবেদনশীলতা (photophobia) বা রঙ বিভ্রান্তি দেখা দিচ্ছে।
যে জিনিসগুলো আগে উজ্জ্বল বা স্পষ্ট দেখাত, সেগুলো ধূসর বা ফিকে মনে হতে শুরু করে।

এটি গ্লুকোমা বা অপটিক নার্ভের (optic nerve) ক্ষতির ইঙ্গিত হতে পারে।
চিকিৎসকরা বলেন, অপটিক নার্ভের ক্ষতি হলে মস্তিষ্ক চোখ থেকে যথাযথ সংকেত পায় না, ফলে আলো ও রঙের পার্থক্য ধীরে ধীরে মুছে যায়।

৩. চোখের ভেতর ছায়া বা ভাসমান দাগ দেখা (Floaters)

চোখের ভেতরে ছোট ছোট ভাসমান দাগ বা ছায়া দেখা অনেকেরই হয়, কিন্তু যদি এগুলো হঠাৎ করে বৃদ্ধি পায় বা আলোর ঝলকানির সঙ্গে দেখা যায়, তবে এটি রেটিনা ডিটাচমেন্ট বা টিয়ার-এর সূচনা হতে পারে—যা দৃষ্টিশক্তি হারানোর অন্যতম বড় কারণ।

গবেষণায় দেখা গেছে, ৪০ বছরের পর প্রতি ১০ জনের মধ্যে অন্তত ২ জনের রেটিনার পরিবর্তন দৃষ্টি ক্ষতির দিকে নিয়ে যায়।
এই ধরনের দাগ বা ছায়া যদি দুই সপ্তাহের বেশি থাকে, তাহলে অবিলম্বে চোখ পরীক্ষা করানো জরুরি।

৪. মাথাব্যথা, চোখে চাপ ও ফোকাসে ক্লান্তি

দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের আগের দিকে অনেকেই ঘন ঘন মাথাব্যথা, চোখে ভারী লাগা বা চোখ ঘষার প্রবণতা অনুভব করেন।
এই লক্ষণ সাধারণত গ্লুকোমা বা চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ বৃদ্ধির কারণে হয়।

চোখের অভ্যন্তরে তরল (aqueous humor) ঠিকমতো নিষ্কাশিত না হলে চাপ বাড়ে, যা অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত করে দৃষ্টি ঝুঁকি তৈরি করে।
মাথার সামনের অংশে বা চোখের চারপাশে চাপ অনুভূত হলে অবিলম্বে চোখের প্রেসার (IOP) টেস্ট করানো উচিত।

চিকিৎসকদের পরামর্শ

  • বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করুন, বিশেষত যদি আপনার ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকে।
  • দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে ২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করুন (প্রতি ২০ মিনিটে ২০ সেকেন্ড ২০ ফুট দূরে তাকান)।
  • সানগ্লাস ব্যবহার করুন যাতে UV রশ্মি থেকে চোখ সুরক্ষিত থাকে।
  • ধূমপান এড়িয়ে চলুন, কারণ এটি রেটিনার রক্তপ্রবাহে বাধা দেয়।

চোখ কখনও হঠাৎ অন্ধকার হয় না—শরীর আগেই সংকেত পাঠায়। ঝাপসা দৃষ্টি, আলোয় অসহিষ্ণুতা, চোখে চাপ বা ছায়া দেখা—এই উপসর্গগুলো অবহেলা না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করতে পারে।

Leave A Comment