পায়ে নীলাভ-বেগুনি রঙের মাকড়সার জালের মতো শিরা ফুলে ওঠা বা ভ্যারিকোজ ভেইনস এখন বাংলাদেশে প্রতি ৪ জনের মধ্যে ১ জনের সমস্যা। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করা শিক্ষক, নার্স, দোকানদার, গৃহিণী ও গর্ভবতী মায়েদের মধ্যে এই সমস্যা দ্রুত বাড়ছে।
সবচেয়ে বড় সুখবর হলো – ভ্যারিকোজ ভেইনস পুরোপুরি দৃশ্যমান হওয়ার প্রায় ২ মাস আগেই শরীর নিজেই ৭টি গোপন সংকেত দেয়। এই লক্ষণগুলো চিনতে পারলে ডাক্তারের কাছে গিয়ে সহজ চিকিৎসায় (স্টকিংস, ব্যায়াম, লাইফস্টাইল পরিবর্তন) রোগকে পুরোপুরি আটকে দেওয়া সম্ভব।
ভ্যারিকোজ ভেইনস দৃশ্যমান হওয়ার ২ মাস আগের ৭টি লক্ষণ যা ৯০% রোগীই উপেক্ষা করেন:
১. পায়ে অকারণে ভারী ভারী অনুভূতি (Heavy legs syndrome) সন্ধ্যার দিকে পা দুটো যেন সিসার মতো ভারী লাগে, বিশ্রাম নিলেও কমে না। এটি শিরায় ভালভের দুর্বলতার প্রথম লক্ষণ।
২. হাঁটু থেকে গোড়ালি পর্যন্ত হালকা ঝিনঝিন অনুভূতি বা পিন ফোটার মতো ব্যথা অনেকে ভাবেন এটা সারাদিন কাজের কারণে হচ্ছে। কিন্তু এটি ভেইনের ভিতর রক্ত জমে চাপ পড়ার কারণে হয়।
৩. বিকেল বা রাতের দিকে পায়ের গোড়ালি ফুলে যাওয়া, সকালে আবার স্বাভাবিক এই ফোলা ভ্যারিকোজ ভেইনসের সবচেয়ে নিশ্চিত প্রাথমিক লক্ষণ। গোড়ালির চারপাশে আঙুল চেপে ধরলে গর্ত হয়ে যায় (Pitting edema)।
৪. পায়ের ত্বকে হঠাৎ চুলকানি, বিশেষ করে বাছুরের নিচের অংশে শিরার ভিতর চাপ বাড়ার জন্য ত্বকের নিচে ছোট ছোট প্রদাহ হয়, যা চুলকানি সৃষ্টি করে।
৫. রাতে পায়ে খিল ধরা বা ক্র্যাম্প (Leg cramps at night) ঘুমের মধ্যে হঠাৎ পায়ের পাতা বা বাছুরে তীব্র খিল – এটি রক্ত চলাচল কমে যাওয়ার কারণে হয়। প্রতি রাতে ২-৩ বার হলে সতর্ক হোন।
৬. পায়ে অল্প গরম অনুভূতি বা জ্বালাপোড়া অনেকে ভাবেন এটা গরমের কারণে। কিন্তু ভ্যারিকোজ ভেইনসের শুরুতে শিরার চারপাশে হালকা ইনফ্লামেশন হয়, যা গরম লাগার অনুভূতি দেয়।
৭. দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর পা তুললে আরাম লাগা যাদের শুরু হয়েছে, তারা অজান্তেই পা উঁচু করে রাখতে ভালোবাসেন – কারণ এতে রক্ত ফিরে যায় এবং ব্যথা কমে। এটি শরীরের নিজস্ব সতর্কবার্তা।
প্রতিরোধের সহজ উপায়:
- প্রতি ১ ঘণ্টা অন্তর ৫ মিনিট হাঁটুন
- পা উঁচু করে শোয়ার অভ্যাস করুন
- ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
- লবণ কম খান
- গর্ভাবস্থায় কম্প্রেশন স্টকিংস ব্যবহার করুন
এই ৭টি লক্ষণ দেখলে আর অপেক্ষা করবেন না। আজই একজন ভাস্কুলার সার্জন বা ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজিস্টের কাছে যান। সময়মতো চিকিৎসা নিলে ভ্যারিকোজ ভেইনস শুধু নিয়ন্ত্রণই নয়, পুরোপুরি সারিয়ে তোলা সম্ভব।
