শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এমন একটি বিরল জেনেটিক রোগ আছে, যেখানে ধীরে ধীরে শরীরের মাংসপেশি, লিগামেন্ট ও টিস্যু হাড়ে পরিণত হতে শুরু করে। এই রোগের নাম ফাইব্রোডিসপ্লাসিয়া অসিফাইক্যান্স প্রোগ্রেসিভা (Fibrodysplasia Ossificans Progressiva বা FOP)। বিশ্বজুড়ে প্রতি ২০ লাখে প্রায় একজন এই রোগে আক্রান্ত হন। একে চিকিৎসকেরা ‘স্টোন ম্যান ডিজিজ’ বলেও উল্লেখ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগটি সাধারণত শৈশবে ধরা পড়লেও পূর্ণ উপসর্গ প্রকাশের অন্তত তিন বছর আগেই কিছু ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ দেখা দিতে পারে। পরিবার সচেতন হলে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জটিলতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
নিচে তুলে ধরা হলো FOP-এর ৪টি প্রাথমিক সতর্ক সংকেত, যেগুলো অবহেলা করা বিপজ্জনক—
১. জন্মগতভাবে পায়ের বুড়ো আঙুল বাঁকা বা ছোট হওয়া
FOP-এর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও প্রথম লক্ষণ হলো পায়ের বড় আঙুল অস্বাভাবিকভাবে ছোট, বাঁকা বা ভেতরের দিকে মোড়ানো থাকা। অনেক সময় এটিকে সাধারণ জন্মগত ত্রুটি মনে করে এড়িয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এটি এই রোগের ‘রেড ফ্ল্যাগ’।
২. শরীরে শক্ত বা ফুলে যাওয়া গিঁট (Soft Tissue Lumps)
শিশুর ঘাড়, কাঁধ বা পিঠে হঠাৎ শক্ত গিঁট বা ফুলে যাওয়া অংশ দেখা যেতে পারে। প্রথমে ব্যথাযুক্ত ফোলা মনে হলেও কয়েক সপ্তাহ পর তা শক্ত হয়ে যায়। এগুলোই পরবর্তীতে হাড়ে পরিণত হতে পারে। এই অস্বাভাবিক ফোলা অনেক সময় ভুল করে টিউমার বা ইনফেকশন ভেবে অস্ত্রোপচার করা হয়—যা রোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।
৩. ঘাড় ও কাঁধ নাড়াতে অসুবিধা
ছোটবেলা থেকেই শিশুর ঘাড় শক্ত লাগা, হাত তুলতে সমস্যা বা জয়েন্টের নড়াচড়া কমে যাওয়া FOP-এর প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। কারণ ধীরে ধীরে মাংসপেশির জায়গায় অস্বাভাবিক হাড় তৈরি হয়।
৪. সামান্য আঘাতে অস্বাভাবিক প্রদাহ বা ব্যথা
হালকা ধাক্কা, ইনজেকশন বা পেশিতে চাপ পড়লে অস্বাভাবিক ব্যথা ও ফুলে যাওয়া দেখা দেয়। অন্যদের তুলনায় দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ থাকলে সতর্ক হওয়া উচিত। কারণ ট্রমা FOP-এ নতুন হাড় তৈরির প্রক্রিয়া দ্রুত করে।
কেন আগাম শনাক্তকরণ এত জরুরি?
অর্থোপেডিক ও জেনেটিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন—
- ভুল অস্ত্রোপচার বা ইনজেকশন এড়ানো যায়
- আঘাত কমাতে বিশেষ জীবনধারা অনুসরণ করা যায়
- ফিজিওথেরাপি ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়া যায়
- পরিবার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য জেনেটিক কাউন্সেলিং নিতে পারে
চিকিৎসা কি আছে?
বর্তমানে FOP পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য নয়। তবে নতুন গবেষণায় কিছু ওষুধ ও থেরাপি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা হাড় গঠনের গতি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই আগাম শনাক্তকরণই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।
