x
d o c t o r s 2 4
03 Nov

মাইগ্রেন শুধু মাথাব্যথা নয়, এটি একটি জটিল স্নায়বিক আক্রমণ যা লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনকে অন্ধকার করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মাইগ্রেন বিশ্বের তৃতীয় সাধারণ রোগ, যা নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়—মাথাব্যথা শুরু হওয়ার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে শরীরে ‘প্রড্রোমাল ফেজ’ শুরু হয়, যেখানে অস্পষ্ট লক্ষণগুলো আক্রমণের আগমনী বার্তা দেয়। ২০২৫ সালের সাম্প্রতিক গবেষণায় (PRODROME ট্রায়াল) দেখা গেছে, ৮৪% রোগীর এই ফেজে লক্ষণ দেখা যায়, এবং এগুলো চিহ্নিত করে প্রাথমিক চিকিৎসা নিলে আক্রমণ ৭০% কমানো যায়।

বিশেষ করে ১ দিন আগে ৩টি সাধারণ লক্ষণ প্রকাশ পায়, যা জেনে রাখলে ওষুধ খেয়ে মাইগ্রেন থামানো সম্ভব। চলুন জেনে নিই সেগুলো এবং নতুন গবেষণার আলোকে কী করবেন।

মাইগ্রেনের প্রড্রোমাল ফেজ:

মাইগ্রেনের চারটি ফেজ—প্রড্রোম, অরা, হেডেক এবং পোস্টড্রোম। প্রড্রোম হলো প্রথম ফেজ, যা ২-৪৮ ঘণ্টা আগে শুরু হয়। এতে হাইপোথ্যালামাস সক্রিয় হয়ে নিউরোট্রান্সমিটার (যেমন ডোপামিন, সেরোটোনিন) ছাড়ে, যার ফলে শরীরে পরিবর্তন ঘটে।

আমেরিকান মাইগ্রেন ফাউন্ডেশনের মতে, এই ফেজে লক্ষণগুলোকে ট্রিগার ভেবে ভুল করেন অনেকে, কিন্তু এগুলো আসলে আক্রমণের অংশ। ২০২৫-এর PRODROME ট্রায়ালে প্রমাণিত, উব্রোজেপ্যান্টের মতো ওষুধ প্রড্রোমে খেলে হেডেক ফেজের ব্যথা ১ ঘণ্টায় কমে। এই ফেজ চিহ্নিত করলে ট্রিপট্যান বা সি জিআরপি ইনহিবিটর দিয়ে আক্রমণ রোধ করা যায়।

১ দিন আগের ৩টি মূল লক্ষণ:

গবেষণায় চিহ্নিত এই ৩টি লক্ষণ ১ দিন আগে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এগুলো একসঙ্গে দেখলে সতর্ক হোন:

অবিরাম ক্লান্তি ও ঘন ঘন হাই তোলা: সাধারণ কাজে অতিরিক্ত ক্লান্তি, যা বিশ্রামে সারে না। হাই তোলা ৭২% রোগীর মধ্যে দেখা যায়—এটি ডোপামিনের পরিবর্তনের কারণে। মেয়ো ক্লিনিকের মতে, এটি ২৪ ঘণ্টা আগে শুরু হয়।

মেজাজের পরিবর্তন (ইরিটেবিলিটি বা ডিপ্রেশন): হঠাৎ খিটখিটে ভাব, উদ্বেগ বা বিষণ্ণতা। ৪২% রোগীর মধ্যে এটি প্রথম সংকেত। নেচার মেডিসিনের ২০২৫ গবেষণায় দেখা গেছে, এটি হাইপোথ্যালামাসের সক্রিয়তার ফল।

গলা শক্ত হওয়া ও খাবারের লোভ: ঘাড়ে শক্ততা বা ব্যথা, সাথে মিষ্টি/লবণাক্ত খাবারের অদম্য ইচ্ছা। ৪৪% রোগীর মধ্যে ঘাড়ের সমস্যা দেখা যায়, যা কর্টিক্যাল স্প্রেডিং ডিপ্রেশনের প্রথম লক্ষণ।

এই লক্ষণগুলো একা অন্য কারণেও হতে পারে, কিন্তু একসঙ্গে দেখলে মাইগ্রেন ডায়েরি রাখুন এবং ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।

২০২৫-এর PRODROME ট্রায়ালে (নেচার মেডিসিন) উব্রোজেপ্যান্ট প্রড্রোমে খাওয়ালে ৬৩% রোগীর আক্রমণ থেমে যায়। আরেক গবেষণায় (সেফালালজিয়া) দেখা গেছে, প্রড্রোমে ডিএইচই ন্যাজাল স্প্রে ব্যথা ৫০% কমায়।

নতুন বায়োমার্কার (যেমন সি জিআরপি লেভেল) দিয়ে রক্ত পরীক্ষায় প্রড্রোম শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে ৬৭% প্রড্রোম দেখা যায়, যা প্রাথমিক হস্তক্ষেপে জীবনমান বাড়ায়।

লক্ষণ দেখলে অন্ধকার ঘরে বিশ্রাম নিন, হাইড্রেটেড থাকুন এবং ট্রিগার (স্ট্রেস, ঘুমের অভাব) এড়ান।

Leave A Comment