x
d o c t o r s 2 4
09 Jul

বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি একটি নতুন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পেয়েছেন, যা কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এই আবিষ্কার ক্যান্সার চিকিৎসা ও প্রতিরোধে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। নেচার জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মুখে পাওয়া একটি নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রে পৌঁছে ক্যান্সারের টিউমার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং চিকিৎসার কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।

ফুসোব্যাকটেরিয়াম নিউক্লিয়াটাম: ক্যান্সারের নতুন শত্রু

গবেষণায় দেখা গেছে, ফুসোব্যাকটেরিয়াম নিউক্লিয়াটাম নামক একটি ব্যাকটেরিয়া, যা সাধারণত মুখের মধ্যে পাওয়া যায়, কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের টিউমারে উপস্থিত থেকে এর বৃদ্ধিতে অবদান রাখে। এই ব্যাকটেরিয়ার একটি নির্দিষ্ট উপ-প্রকার, যাকে Fna C2 বলা হয়, টিউমার টিস্যুতে সুস্থ টিস্যুর তুলনায় বেশি পরিমাণে পাওয়া গেছে। এটি ক্যান্সার প্রতিরোধকারী ওষুধের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় এবং রোগীদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা হ্রাস করে।

গবেষণার মূল তথ্য
  • ২০০ জন কোলোরেক্টাল ক্যান্সার রোগীর টিউমার পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৫০% ক্ষেত্রে Fna C2 উপ-প্রকারটি টিউমারে প্রচুর পরিমাণে ছিল।
  • ক্যান্সার রোগীদের মলের নমুনায় এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি সুস্থ মানুষের তুলনায় বেশি ছিল।
  • এই ব্যাকটেরিয়া মুখ থেকে পাকস্থলীর অ্যাসিড সহ্য করে অন্ত্রে পৌঁছে এবং টিউমারের মধ্যে বৃদ্ধি পায়।

কীভাবে ব্যাকটেরিয়া ক্যান্সারের বৃদ্ধি ঘটায়?

ফুসোব্যাকটেরিয়াম নিউক্লিয়াটাম মুখে দাঁতের ফলক এবং মাড়ির রোগের সঙ্গে যুক্ত। এটি পাকস্থলীর কঠোর পরিবেশ সহ্য করার জন্য শক্তিশালী অ্যাসিড-প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে এই ব্যাকটেরিয়া:

  • টিউমারকে রক্ষা করে: ক্যান্সার প্রতিরোধকারী ওষুধের বিরুদ্ধে টিউমার কোষকে ঢাল হিসেবে কাজ করে।
  • প্রদাহ সৃষ্টি করে: প্রদাহের মাধ্যমে ক্যান্সারের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে।
  • ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে: ইমিউন কোষের কার্যকারিতা হ্রাস করে, যা ক্যান্সারের বিস্তারে সহায়তা করে।
ব্যাকটেরিয়ার যাত্রা: মুখ থেকে অন্ত্রে

গবেষকরা জানিয়েছেন, এই ব্যাকটেরিয়া মুখ থেকে রক্তপ্রবাহ বা খাদ্যনালীর মাধ্যমে অন্ত্রে পৌঁছায়। এটি কোলনের টিউমারে প্রবেশ করে এবং সেখানে বংশবিস্তার করে। এই প্রক্রিয়ায় এটি ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ও বিস্তারে সহায়তা করে।

এই আবিষ্কারের তাৎপর্য

গবেষক সুসান বুলম্যান বলেন, “যেসব রোগীর কোলোরেক্টাল টিউমারে ফুসোব্যাকটেরিয়াম নিউক্লিয়াটাম থাকে, তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা এবং রোগের পূর্বাভাস অন্যদের তুলনায় খারাপ। এই নির্দিষ্ট উপ-প্রকারটি ক্যান্সারের বৃদ্ধির জন্য দায়ী।”

সম্ভাব্য প্রভাব
  • নতুন চিকিৎসা: এই ব্যাকটেরিয়াকে লক্ষ্য করে অ্যান্টিবায়োটিক বা মাইক্রোবিয়াল থেরাপি তৈরি করা যেতে পারে, যা ক্যান্সারের চিকিৎসার কার্যকারিতা বাড়াবে।
  • প্রাথমিক সনাক্তকরণ: মুখের লালা বা মলের নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি শনাক্ত করে ক্যান্সারের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা সম্ভব।
  • প্রতিরোধ: এই ব্যাকটেরিয়াকে মুখে থাকতেই নিয়ন্ত্রণ করলে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো যেতে পারে।

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?

  • সুষম খাদ্য: ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন।
  • মুখের স্বাস্থ্য: নিয়মিত দাঁত ব্রাশ ও ডেন্টাল চেকআপের মাধ্যমে মুখের ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করুন।
  • নিয়মিত স্ক্রিনিং: ৪৫ বছর বয়সের পর কোলনোস্কোপি করান।
  • জীবনযাত্রা: ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন এবং নিয়মিত ব্যায়াম করুন।

 

Leave A Comment