x
d o c t o r s 2 4
20 Jan

মেলানোমা বা ত্বকের ক্যানসার হলো অন্যতম ভয়াবহ একটি রোগ, যা শুরুতে ধরা পড়লে নিরাময়যোগ্য হলেও দেরি হলে প্রাণঘাতী হতে পারে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, রোগ নির্ণয়ের অন্তত ৪ মাস আগেই শরীরে বিশেষ কিছু লক্ষণ ফুটে ওঠে, যা সাধারণ মানুষ অবহেলা করেন।

এখানে মেলানোমা শনাক্তকরণে ‘ABCDE’ রুল এবং বিশেষ একটি লক্ষণসহ মোট ৬টি সতর্কবার্তা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়া হলো।

ত্বকের যেকোনো তিল বা দাগ ক্যানসার কিনা, তা বোঝার জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ABCDE’ সূত্রটি খুবই কার্যকর। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ‘আগলি ডাকলিং’ বা ‘কুৎসিত হাঁসের ছানা’ লক্ষণ।

১. অসামঞ্জস্যতা (Asymmetry)

সাধারণ তিল বা আঁচিল সাধারণত গোলাকার ও সমান হয়। কিন্তু মেলানোমার ক্ষেত্রে তিলটি মাঝখান থেকে কাল্পনিকভাবে ভাগ করলে দুই পাশ দেখতে একরকম হয় না। একপাশ অন্যপাশের চেয়ে বড় বা বাঁকা হতে পারে।

২. অনিয়মিত সীমানা (Border)

সাধারণ তিলের সীমানা বা বর্ডার মসৃণ হয়। কিন্তু ক্যানসারযুক্ত তিলের সীমানা অমসৃণ, খাঁজকাটা বা ঢেউখেলানো হতে পারে। এটি দেখতে অনেকটা ঝাপসা বা অপরিষ্কার মনে হতে পারে।

৩. রঙের পরিবর্তন (Color)

মেলানোমার অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো রঙের বৈচিত্র্য। সুস্থ তিল সাধারণত এক রঙের (বাদামী বা কালো) হয়। কিন্তু আক্রান্ত তিলে একাধিক রঙ দেখা দিতে পারে—যেমন কালো, বাদামী, লাল, সাদা, এমনকি নীলচে আভা। একই তিলে বিভিন্ন রঙের উপস্থিতি বিপদের লক্ষণ।

৪. আকার বা ব্যাস (Diameter)

তিলের আকার যদি পেন্সিলের পেছনের রবারের চেয়ে বড় হয় (সাধারণত ৬ মিলিমিটারের বেশি), তবে এটি মেলানোমা হতে পারে। তবে ছোট আকারের তিলও ক্যানসারে রূপ নিতে পারে, তাই আকার বাড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা জরুরি।

৫. বিবর্তন বা পরিবর্তন (Evolving)

এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। যদি কোনো তিল বা দাগের আকার, আকৃতি বা রঙে গত কয়েক সপ্তাহ বা মাসে দ্রুত পরিবর্তন আসে, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অনেক রোগী রোগ নির্ণয়ের ৩-৪ মাস আগেই এই পরিবর্তন লক্ষ্য করেন।

৬. ‘আগলি ডাকলিং’ সাইন (Ugly Duckling)

আপনার শরীরে হয়তো অনেক তিল আছে এবং সেগুলো দেখতে প্রায় একই রকম। কিন্তু এর মধ্যে যদি এমন একটি তিল থাকে যা অন্যদের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা (বেশি গাঢ়, বড় বা অদ্ভুত দেখতে), তবে সেটিই মেলানোমা হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। একে ‘কুৎসিত হাঁসের ছানা’ বা আগলি ডাকলিং সাইন বলা হয়।

কেন ‘৪ মাস’ সময়টি গুরুত্বপূর্ণ?

গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক রোগী চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার গড়ে ৩ থেকে ৪ মাস আগেই তাদের ত্বকে পরিবর্তন লক্ষ্য করেন কিন্তু গুরুত্ব দেন না। মেলানোমা খুব দ্রুত লিম্ফ নোড বা রক্তনালীর মাধ্যমে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে ‘নোডুলার মেলানোমা’ মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তাই ৪ মাস আগের এই প্রাথমিক লক্ষণগুলো চিনতে পারলে জীবন বাঁচানো সম্ভব।

করণীয়

  • সেলফ এক্সামিনেশন: মাসে অন্তত একবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শরীর পরীক্ষা করুন। পিঠ বা যেসব জায়গা দেখা যায় না, সেখানে পরিবারের কারো সাহায্য নিন।

  • ছবি তুলে রাখা: সন্দেহজনক তিলের ছবি তুলে রাখুন এবং ১ মাস পর আবার মিলিয়ে দেখুন কোনো পরিবর্তন হয়েছে কিনা।

  • রক্তপাত বা চুলকানি: কোনো তিল থেকে রক্তপাত হলে, চুলকানি থাকলে বা ঘা না শুকালে দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের (Dermatologist) শরণাপন্ন হোন।

সচেতনতাই মেলানোমা প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার। ত্বকের সামান্য পরিবর্তনকেও অবহেলা করবেন না।

Leave A Comment