x
d o c t o r s 2 4
03 Nov

লুপাস বা সিস্টেমিক লুপাস এরিথেম্যাটোসাস (SLE) – এই অটোইমিউন রোগটি শরীরের নিজস্ব ইমিউন সিস্টেমকে আক্রমণ করে, যা ত্বক, জয়েন্ট, কিডনি এবং অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, বিশ্বে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ এতে আক্রান্ত, এবং বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় এর প্রকোপ বাড়ছে, বিশেষ করে তরুণীদের মধ্যে। সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয় হলো, রোগ নির্ণয়ের গড়ে ৬ মাস থেকে কয়েক বছর লাগে, কারণ লক্ষণগুলো ধীরে ধীরে দেখা দেয়।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, লুপাসের প্রোড্রোমাল ফেজে – অর্থাৎ পূর্ণ রোগের ৩ মাস আগেই – শরীরে ৪টি সূক্ষ্ম লক্ষণ উদ্ভাসিত হয়, যা উপেক্ষা করলে জটিলতা বাড়ায়। এই লক্ষণগুলো চিনে নেওয়া যায় যদি সচেতন হই, এবং সময়মতো চিকিৎসা নিলে জীবনমান ৬০-৭০ শতাংশ উন্নত হয়। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করব সেই ৪টি আগাম সংকেত নিয়ে, সাথে নতুন গবেষণার আলোকপাত।

লুপাস কী এবং কেন এটি এত জটিল?

লুপাস একটি ক্রনিক অটোইমিউন ডিসঅর্ডার, যেখানে ইমিউন সিস্টেম ভুল করে সুস্থ টিস্যুকে আক্রমণ করে। মায়ো ক্লিনিকের মতে, এটি জেনেটিক, পরিবেশগত ফ্যাক্টর (যেমন UV রশ্মি, সংক্রমণ) এবং হরমোনাল পরিবর্তনের সমন্বয়ে হয়। মহিলারা পুরুষদের তুলনায় ৯ গুণ বেশি আক্রান্ত, এবং ১৫-৪৪ বছর বয়সে সবচেয়ে সাধারণ। লক্ষণগুলো ফ্লেয়ার (তীব্রতা বৃদ্ধি) এবং রিমিশন (শান্ত) চক্রে চলে, যা নির্ণয়কে কঠিন করে। নতুন তথ্য: ২০২৫ সালের একটি রিভিউতে দেখা গেছে, SLE-এর প্যাথোজেনেসিসে ইন্টারফেরন সিগন্যালিং পথের ভূমিকা বেড়েছে, যা আগাম বায়োমার্কার হিসেবে ব্যবহারযোগ্য। এছাড়া, নিউরোসাইকিয়াট্রিক লক্ষণগুলো (যেমন অ্যাঙ্গজাইটি) প্রায়শই প্রথম দেখা দেয়, যা ২৫-৭৫ শতাংশ রোগীতে ঘটে।

৩ মাস আগের ৪টি প্রোড্রোমাল লক্ষণ:

গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, লুপাসের প্রথম ৩ মাসে লক্ষণগুলো মৃদু থাকে, কিন্তু এগুলো অন্য রোগের (যেমন ফ্লু বা আর্থ্রাইটিস) সাথে মিলে যায়। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুসারে, এই সময়ে ৪টি প্রধান সংকেত দেখা দিতে পারে:

  • অকারণীয় ক্লান্তি এবং দুর্বলতা: ঘুমের পরেও শরীর ভারী লাগা, যা দৈনন্দিন কাজে বাধা দেয়। এটি ৮০ শতাংশ রোগীর প্রথম লক্ষণ, কারণ ইমিউন অ্যাকটিভিটি শুরু হয়।
  • জয়েন্ট এবং মাসলের হালকা ব্যথা: হাত-পা বা কাঁধে শক্ততা বা ব্যথা, যা সকালে বেশি হয়। এটি ৬ মাস আগে শুরু হতে পারে এবং আর্থ্রালজিয়া হিসেবে পরিচিত।
  • ত্বকের সংবেদনশীলতা বা মৃদু র্যাশ: সূর্যের আলোয় লালচে দাগ বা চুলকানি, যা বাটারফ্লাই র্যাশের প্রাক-অবস্থা। ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে এটি প্রথম সতর্কতা।
  • লো-গ্রেড ফিভার বা ফ্লু-লাইক সিম্পটম: ৩৮-১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের জ্বর, যা কয়েক দিন থাকে এবং চলে যায়। এটি ইমিউন ফ্লেয়ারের প্রথম ইঙ্গিত।

এই লক্ষণগুলো ৩ মাসের মধ্যে তীব্র হলে রিউম্যাটোলজিস্টের কাছে যান।

২০২৪ সালের INSPIRE স্টাডিতে দেখা গেছে, নিউরোসাইকিয়াট্রিক লক্ষণ (যেমন ঘুমের ব্যাঘাত বা অ্যাঙ্গজাইটি) SLE-এর ১ বছর আগে প্রোড্রোম হিসেবে কাজ করে, যা ডায়াগনস্টিক ডিলে কমাতে সাহায্য করে।

এছাড়া, ২০২৫ সালের রিভিউতে নতুন বায়োমার্কার (যেমন অ্যান্টি-ডিএনএ অ্যান্টিবডি লেভেল) আগাম মনিটরিংয়ে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। গ্লোবাল অটোইমিউন ইনস্টিটিউটের মতে, প্রিক্লিনিকাল স্টেজে ভ্যাগ সিম্পটম যেমন ফ্যাটিগ ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে ৩-৬ মাস আগে দেখা দেয়। এই আবিষ্কারগুলো টেলর-মেড থেরাপির পথ খুলেছে।

Leave A Comment