x
d o c t o r s 2 4
09 Oct

শিশুদের ইমিউন সিস্টেম তাদের স্বাস্থ্য ও বিকাশের মূল চাবিকাঠি। এটি শিশুদের সংক্রমণ, ভাইরাস এবং রোগ থেকে রক্ষা করে। বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর হার কমলেও, নিউমোনিয়া, ডায়ারিয়া এবং হামের মতো রোগ এখনও হুমকি হিসেবে রয়েছে। সঠিক পুষ্টি এবং সময়মতো টিকাদান শিশুদের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে এই রোগগুলো প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানায়, টিকা ও পুষ্টিকর খাবার শিশুমৃত্যু ৩০% কমাতে পারে। আসুন জেনে নিই শিশুদের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করতে পুষ্টি ও টিকার গুরুত্ব।

শিশুদের ইমিউন সিস্টেম জন্মের পর থেকে ধীরে ধীরে বিকশিত হয়। এটি শরীরে রোগজীবাণু চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে। তবে শিশুদের ইমিউন সিস্টেম প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় দুর্বল, তাই তারা সংক্রমণের ঝুঁকিতে বেশি থাকে। বাংলাদেশে, প্রায় ২৫% শিশু অপুষ্টির শিকার, যা তাদের ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে। জাতীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ৪০,০০০ শিশু নিউমোনিয়া এবং ডায়ারিয়ার কারণে মারা যায়, যা প্রতিরোধযোগ্য।

পুষ্টির ভূমিকা

সুষম পুষ্টি শিশুদের ইমিউন সিস্টেমের ভিত্তি। প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ ইমিউন কোষের কার্যকারিতা বাড়ায়। মূল পুষ্টি উপাদানগুলো হলো:

  • ভিটামিন এ: চোখ ও শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক। পালং শাক, গাজর এবং কুমড়ায় পাওয়া যায়।
  • ভিটামিন সি: ইমিউন কোষ শক্তিশালী করে। কমলা, টমেটো এবং পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে থাকে।
  • জিঙ্ক: সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ। বাদাম, ডাল এবং মাছ জিঙ্কের ভালো উৎস।
  • প্রোটিন: অ্যান্টিবডি তৈরিতে সহায়ক। ডিম, মুরগি এবং দুধে প্রোটিন প্রচুর।

গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন এ-এর ঘাটতি শিশুদের হামের ঝুঁকি ২০% বাড়ায়। বাংলাদেশে সরকারি উদ্যোগে ভিটামিন এ ক্যাপসুল বিতরণ কর্মসূচি ৮০% শিশুকে কভার করছে। তবে গ্রামীণ এলাকায় পুষ্টিকর খাবারের প্রাপ্যতা বাড়ানো প্রয়োজন।

টিকার গুরুত্ব

টিকা শিশুদের ইমিউন সিস্টেমকে নির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে প্রস্তুত করে। বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) হাম, পোলিও, ডিপথেরিয়া, নিউমোনিয়া এবং হেপাটাইটিস বি-এর মতো রোগের বিরুদ্ধে টিকা প্রদান করে। ডব্লিউএইচও’র তথ্য অনুযায়ী, টিকা শিশুমৃত্যু ৪০% কমিয়েছে। বাংলাদেশে ৯০% শিশু ইপিআই’র আওতায় টিকা পাচ্ছে, তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই হার কম।

  • নিউমোকক্কাল টিকা: নিউমোনিয়া প্রতিরোধে ৬০% কার্যকর।
  • হামের টিকা: হামের ঝুঁকি ৯৫% কমায়।
  • বিসিজি টিকা: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কার্যকর।

চট্টগ্রামের একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, টিকা গ্রহণকারী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণজনিত রোগ ৫০% কম। সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে ৯৮% শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে।

বাংলাদেশে চ্যালেঞ্জ

  • অপুষ্টি: গ্রামীণ এলাকায় ৩০% শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে, যা ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে।
  • টিকার প্রাপ্যতা: প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকা সরবরাহ ও সংরক্ষণে সমস্যা।
  • সচেতনতার অভাব: অনেক অভিভাবক টিকার গুরুত্ব সম্পর্কে অজ্ঞ।
  • অর্থনৈতিক বাধা: পুষ্টিকর খাবারের উচ্চ মূল্য।

শিশুদের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করতে পুষ্টি ও টিকা অপরিহার্য। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, শিশুদের নিয়মিত টিকা এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করুন। বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে এই প্রচেষ্টা জোরদার হচ্ছে। সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে শিশুদের জন্য সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব।

 

Leave A Comment