x
d o c t o r s 2 4
10 Dec

শীতকাল এলেই অনেক মানুষের অ্যালার্জির সমস্যা হঠাৎ বেড়ে যায়—হাঁচি, নাক বন্ধ, চুলকানি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে শ্বাসকষ্ট পর্যন্ত দেখা দিতে পারে। যদিও সারা বছরই অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে, তবে গবেষণা বলছে—শীতের শুষ্ক বাতাস, ধুলোবালুর পরিমাণ বাড়া এবং ঘরে বেশি সময় কাটানোর কারণে শীতকালীন অ্যালার্জি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অ্যালার্জি-সংশ্লিষ্ট রোগীর সংখ্যা বাড়ে প্রায় ৩০–৪০ শতাংশ।

শীতকালে বাতাস শুষ্ক হয়ে নাকের ভেতরের মিউকাস মেমব্রেন পাতলা হয়ে যায়। এর ফলে অ্যালার্জেন সহজেই শরীরে প্রবেশ করে। নতুন গবেষণা বলছে—শীতের দিনে ঘরের ভেতর ধুলোমাইট ও ছত্রাকের বিস্তার বেড়ে যায়, যা অ্যালার্জির প্রধান কারণ। বিশেষ করে কার্পেট, সোফা এবং ভারী শীতের পোশাকে থাকা অণুজীব শ্বাসতন্ত্রে জ্বালা তৈরি করতে পারে।

শীতকালীন অ্যালার্জির প্রধান লক্ষণ

১) বারবার হাঁচি ও নাক দিয়ে পানি পড়া: শীতের শুষ্ক বাতাসে নাকের মিউকাস কমে যায়, ফলে অ্যালার্জি ট্রিগার সহজে সক্রিয় হয়।
২) শ্বাস নিতে কষ্ট বা হুইজিং: অ্যাজমা রোগীদের ক্ষেত্রে শীতের ঠান্ডায় শ্বাসনালী সংকুচিত হয়ে পড়ে।
৩) চোখ লাল হওয়া, পানি পড়া, চুলকানি: বায়ুবাহিত ধুলা ও ফাঙ্গাস সবচেয়ে বড় কারণ।
৪) ত্বকে র‍্যাশ বা ডার্মাটাইটিস: শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বকের ব্যারিয়ার দুর্বল হয় বলে অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে র‍্যাশ বাড়ে।
৫) খুসখুসে কাশি: বিশেষ করে রাতে বেড়ে যায়, কারণ ঘরের ধুলা ও শুষ্ক বাতাস শ্বাসনালী উত্তেজিত করে।

একটি সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে—শীতের কারণে নাকের ভেতরের প্রতিরোধী ইমিউন সেল (cold-induced epithelial immunity) কম সক্রিয় হয়ে পড়ে। এর ফলে ভাইরাস ও অ্যালার্জেন উভয়ের প্রতিক্রিয়াই তীব্র হয়।

শীতে কারা বেশি ঝুঁকিতে?

– যাদের ধুলোমাইট অ্যালার্জি আছে
– অ্যাজমা রোগী
– শিশু
– বয়স্ক ব্যক্তি
– যাদের স্কিন অ্যালার্জি বা একজিমার ইতিহাস আছে

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা: কী বলে গবেষণা?

হোমিওপ্যাথি দীর্ঘদিন ধরে অ্যালার্জির বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে জনপ্রিয়। তবে বিজ্ঞানসম্মত গবেষণায় এখনো এর কার্যকারিতা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন—অনেকে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় উপসর্গ কম অনুভব করলেও এটি মূলত ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া ও প্লাসিবো ইফেক্ট–এর ওপর নির্ভরশীল হতে পারে। তাই অ্যালার্জি গুরুতর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

তবুও অনেক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক শীতকালীন অ্যালার্জিতে কয়েকটি ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন—
১) নাকের অ্যালার্জির জন্য: Allium Cepa, Arsenicum Album
২) ধুলোমাইট অ্যালার্জির জন্য: Dulcamara, Sabadilla
৩) চোখের অ্যালার্জির জন্য: Euphrasia
৪) ত্বকের অ্যালার্জিতে: Sulphur, Graphites

এই ওষুধগুলো সাধারণত ব্যক্তির লক্ষণ, শারীরিক প্রবণতা এবং অ্যালার্জির ধরন অনুযায়ী দেওয়া হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন—হোমিওপ্যাথি কখনোই গুরুতর শ্বাসকষ্ট, তীব্র অ্যাজমা অ্যাটাক বা ত্বকের সংক্রমণের চিকিৎসার বিকল্প নয়।

প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা

১) ঘরের ধুলা নিয়ন্ত্রণ: সপ্তাহে অন্তত ২–৩ বার পরিষ্কার করুন।
২) হিউমিডিফায়ার ব্যবহার: শুষ্ক বাতাস অ্যালার্জিকে ৫০% পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে।
৩) গরম কাপড় নিয়মিত ধোয়া: শীতের ভারী পোশাকে ধুলোমাইট জমে থাকে।
৪) মাস্ক ব্যবহার: ধুলাবালুময় এলাকায় বাইরে গেলে মাস্ক খুব কার্যকর।
৫) হালকা গরম পানি পান ও বাষ্প নেওয়া: শ্বাসনালীর প্রদাহ কমায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কারণ শনাক্ত করা। তাই প্রতিটি শীতেই একই লক্ষণ দেখা দিলে অ্যালার্জি টেস্ট করানো উচিত।

Leave A Comment