x
d o c t o r s 2 4
15 Dec

শীতকাল এলেই ত্বকের শুষ্কতা, ঠোঁট ফাটা বা সর্দি-কাশির পাশাপাশি আরেকটি নীরব সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে—ড্রাই আইজ বা চোখের শুষ্কতা। অনেকেই বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেন না, অথচ অবহেলা করলে এটি দৃষ্টিশক্তি ও দৈনন্দিন স্বাচ্ছন্দ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আধুনিক জীবনযাপন, স্ক্রিন নির্ভরতা এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে শীতে ড্রাই আইজের সমস্যা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

ড্রাই আইজ কী এবং শীতে কেন বাড়ে?

ড্রাই আইজ এমন একটি অবস্থা, যেখানে চোখ পর্যাপ্ত অশ্রু উৎপাদন করতে পারে না, অথবা অশ্রুর মান ঠিক থাকে না। শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়, ঠান্ডা হাওয়া চোখের আর্দ্রতা দ্রুত শুকিয়ে দেয়। পাশাপাশি হিটার বা রুম হিটার ব্যবহারে ঘরের ভেতরের বাতাস আরও শুষ্ক হয়ে ওঠে, যা চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট করে।

শীতকালে ড্রাই আইজের সাধারণ লক্ষণ

চোখে জ্বালা, চুলকানি, লালচে ভাব, বালির মতো কিছু ঢুকে থাকার অনুভূতি, অতিরিক্ত পানি পড়া (হ্যাঁ, ড্রাই আইজে চোখে পানি পড়তেও পারে), ঝাপসা দেখা এবং দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন দেখার পর চোখ ভারী লাগা—এসবই ড্রাই আইজের লক্ষণ। অনেক ক্ষেত্রে সকালে ঘুম থেকে উঠেই চোখ খুলতে কষ্ট হয়।

চিকিৎসা: শুধু ড্রপ নয়, সমন্বিত যত্ন জরুরি

ড্রাই আইজের চিকিৎসা ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। সাধারণত চিকিৎসকরা প্রিজারভেটিভ-মুক্ত লুব্রিকেটিং আই ড্রপ বা ‘আর্টিফিশিয়াল টিয়ার্স’ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। তবে নতুন তথ্য অনুযায়ী, শুধু ড্রপ ব্যবহার করলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না।

বর্তমানে “মেইবোমিয়ান গ্ল্যান্ড ডিসফাংশন” (চোখের পাতার তেল গ্রন্থির সমস্যা) ড্রাই আইজের একটি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই ক্ষেত্রে উষ্ণ সেঁক (warm compress), চোখের পাতার নিয়মিত পরিষ্কার এবং প্রয়োজনে বিশেষ থেরাপি কার্যকর। গুরুতর ক্ষেত্রে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি আই ড্রপ বা বিশেষ চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে—সবই অবশ্যই চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শে।

প্রতিরোধ: দৈনন্দিন অভ্যাসেই লুকিয়ে আছে সমাধান

শীতে ড্রাই আইজ এড়াতে কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

প্রথমত, পর্যাপ্ত পানি পান করুন—শরীর হাইড্রেটেড থাকলে চোখও উপকৃত হয়।

দ্বিতীয়ত, স্ক্রিন ব্যবহারের সময় ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলুন—প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কিছু দেখুন।

তৃতীয়ত, বাইরে বের হলে সানগ্লাস ব্যবহার করুন, যা ঠান্ডা বাতাস ও ধুলো থেকে চোখকে রক্ষা করে।

চতুর্থত, ঘরের ভেতরে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলে বাতাসে আর্দ্রতা বজায় থাকে, যা চোখের জন্য উপকারী।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্যাভ্যাস ড্রাই আইজ প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখে। ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার যেমন সামুদ্রিক মাছ, আখরোট, তিসি বীজ চোখের অশ্রুর গুণমান উন্নত করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ভিটামিন এ ও ডি চোখের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সবশেষে বলা যায়, শীতের ড্রাই আইজ কোনো তুচ্ছ সমস্যা নয়। সময়মতো সচেতনতা, আধুনিক চিকিৎসা এবং সঠিক জীবনযাপন অভ্যাসের মাধ্যমে এই সমস্যাকে সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

Leave A Comment