x
d o c t o r s 2 4
সিন্ড্যাকটিলি সিন্ড্রোম কী? জেনে নিন কারণ, লক্ষণ ও বিস্তারিত
09 Feb

সিন্ড্যাকটিলি (Syndactyly) মূলত একটি জন্মগত অবস্থা, যেখানে শিশুর হাত বা পায়ের আঙুলগুলো একে অপরের সাথে জোড়া লাগানো থাকে। সাধারণত গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের বিকাশের সময় আঙুলগুলো আলাদা হতে না পারলে এই সমস্যা দেখা দেয়। তবে অনেক সময় কিছু বিশেষ সিন্ড্রোমের (যেমন: অ্যাপার্ট সিন্ড্রোম বা পোল্যান্ড সিন্ড্রোম) অংশ হিসেবে এটি প্রকাশ পায়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, যদি এটি কোনো সিন্ড্রোমের অংশ হয়, তবে শিশুর শারীরিক গঠনের চূড়ান্ত পরিবর্তনের আগে থেকেই শরীরে ৪টি বিশেষ সূক্ষ্ম লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। এই লক্ষণগুলো শনাক্ত করা গেলে ভবিষ্যতে হাড়ের বিকৃতি বা চলনশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

সিন্ড্যাকটিলি সাধারণত জন্মের সময়ই দৃশ্যমান হয়, কিন্তু এর সাথে জড়িত অভ্যন্তরীণ জটিলতাগুলো আগে থেকেই নিম্নলিখিত উপায়ে সংকেত দেয়:

১. আঙুলের মধ্যবর্তী চামড়ার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি (Webbing Evolution):

সিন্ড্যাকটিলি যদি আংশিক হয়, তবে ২ বছর আগে থেকেই লক্ষ্য করা যায় যে দুটি আঙুলের মধ্যবর্তী চামড়া বা ‘ওয়েব স্পেস’ ক্রমান্বয়ে শক্ত হয়ে যাচ্ছে। শিশু বড় হওয়ার সাথে সাথে আঙুলগুলো আলাদা হওয়ার পরিবর্তে একে অপরের দিকে ঝুঁকে পড়ে, যা নির্দেশ করে যে ভেতরের টিস্যুগুলো অস্বাভাবিকভাবে সংকুচিত হচ্ছে।

২. আঙুলের সূক্ষ্ম কাজ করার ক্ষমতা হ্রাস:

২ বছর বয়সের দিকে শিশুরা পেন্সিল ধরা বা ছোট খেলনা নিয়ে কাজ করতে শেখে। সিন্ড্যাকটিলির ঝুঁকি থাকলে দেখা যায় শিশু তার আঙুলগুলো স্বাধীনভাবে নাড়াতে পারছে না। একটি আঙুল নাড়াতে গেলে পাশের আঙুলটিও অনিচ্ছাকৃতভাবে নড়ে ওঠে। এই ‘সিনক্রোনাইজড মুভমেন্ট’ ভবিষ্যতে আঙুলগুলো আরও আড়ষ্ট হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ।

৩. নখের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও গঠন (Nail Dysplasia):

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশুর আঙুল জোড়া লাগার প্রবণতা থাকে, তাদের নখের গঠনে ২ বছর আগে থেকেই পরিবর্তন আসে। নখগুলো খুব পাতলা, ভঙ্গুর অথবা দুটি আঙুলের নখ একসাথে সংযুক্ত হওয়ার মতো দেখায়। এটি মূলত আঙুলের প্রান্তীয় হাড়ের (Distal Phalanx) অস্বাভাবিক বিন্যাসের কারণে ঘটে।

৪. হাত ও পায়ের পাতার সমান্তরাল হাড়ের বিচ্যুতি:

২ বছর আগে থেকেই এক্স-রে বা আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে দেখা যেতে পারে যে হাত বা পায়ের মেটাকার্পাল হাড়গুলো একে অপরের খুব কাছাকাছি চলে আসছে। এছাড়া শিশুর হাতের তালু স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা গভীর বা ‘কাপ’ আকৃতির হতে শুরু করে। এটি বিশেষ করে জটিল সিন্ড্যাকটিলির ক্ষেত্রে একটি বড় সংকেত।

জেনেটিক মিউটেশন ও ‘ব্রেকিং পয়েন্ট’

সাম্প্রতিক জেনেটিক গবেষণায় দেখা গেছে, FGF (Fibroblast Growth Factor) নামক একটি প্রোটিনের ত্রুটির কারণে সিন্ড্যাকটিলি হয়। নতুন তথ্য অনুযায়ী, এই প্রোটিনের প্রভাবে কেবল আঙুল নয়, বরং শরীরের অন্যান্য জয়েন্টেও ২ বছর আগে থেকেই কিছুটা শক্ত ভাব (Stiffness) দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এই শিশুদের মাথার খুলির হাড়ও সময়ের আগে জোড়া লেগে যাওয়ার (Craniosynostosis) ঝুঁকি থাকে।

চিকিৎসা ও প্রতিকার

সিন্ড্যাকটিলির মূল চিকিৎসা হলো অস্ত্রোপচার, যা সাধারণত শিশুর বয়স ১ থেকে ২ বছরের মধ্যে করা সবচেয়ে নিরাপদ।

  • সার্জিক্যাল রিলিজ: প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে জোড়া লাগানো টিস্যু আলাদা করা হয়।

  • স্কিন গ্রাফটিং: আঙুল আলাদা করার পর সেখানে শরীরের অন্য অংশ থেকে চামড়া নিয়ে লাগানো হয়।

  • অকুপেশনাল থেরাপি: অস্ত্রোপচারের পর আঙুলের কার্যক্ষমতা এবং গ্রিপিং পাওয়ার বাড়ানোর জন্য বিশেষ থেরাপি দেওয়া হয়।

সিন্ড্যাকটিলি কেবল একটি কসমেটিক সমস্যা নয়; এটি শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশের সাথে জড়িত। ২ বছর আগে থেকে দেখা দেওয়া এই ৪টি লক্ষণ সম্পর্কে বাবা-মা সচেতন থাকলে সঠিক সময়ে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।

Leave A Comment