x
d o c t o r s 2 4
07 Jan

সিস্টিক ফাইব্রোসিস (Cystic Fibrosis) একটি জেনেটিক বা বংশগত রোগ, যা প্রধানত ফুসফুস, পরিপাকতন্ত্র ও ঘামগ্রন্থিকে প্রভাবিত করে। এই রোগে শরীরের শ্লেষ্মা (মিউকাস) অস্বাভাবিকভাবে ঘন ও আঠালো হয়ে যায়, ফলে শ্বাসনালী ও হজমনালিতে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হয়।

অনেকের ধারণা, সিস্টিক ফাইব্রোসিস হঠাৎ করে ধরা পড়ে, কিন্তু সাম্প্রতিক চিকিৎসা গবেষণা বলছে—রোগটি চূড়ান্তভাবে শনাক্ত হওয়ার প্রায় এক বছর আগেই শরীরে কিছু সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ সময়মতো চিনতে পারলে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব।

সিস্টিক ফাইব্রোসিস কেন হয়

এই রোগের মূল কারণ হলো CFTR জিনের ত্রুটি। এই জিন শরীরে লবণ ও পানির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। জিনটি সঠিকভাবে কাজ না করলে শ্লেষ্মা ঘন হয়ে যায় এবং বিভিন্ন অঙ্গে জমে সমস্যা সৃষ্টি করে। যদিও এটি জন্মগত, তবে লক্ষণ সব সময় শৈশবেই স্পষ্ট হয় না; অনেক ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়।

নিচে সিস্টিক ফাইব্রোসিসের ১ বছর আগে প্রায়ই দেখা দেওয়া ৪টি লক্ষণ তুলে ধরা হলো—

১. বারবার শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ ও দীর্ঘস্থায়ী কাশি

রোগ প্রকাশের অনেক আগেই শিশু বা প্রাপ্তবয়স্কদের ঘন ঘন সর্দি, কাশি, ব্রঙ্কাইটিস বা নিউমোনিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। কাশির সঙ্গে ঘন কফ বের হয় এবং অ্যান্টিবায়োটিকেও সমস্যা পুরোপুরি সারে না। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ঘন মিউকাস ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়া জমার জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।

২. হজমের সমস্যা ও ওজন না বাড়া

সিস্টিক ফাইব্রোসিসের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ডায়রিয়া, তেলতেলে বা দুর্গন্ধযুক্ত মল এবং পেট ফাঁপা দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত খাবার খাওয়ার পরও ওজন না বাড়া বা শিশুদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক বৃদ্ধি না হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। কারণ, এই রোগে অগ্ন্যাশয় থেকে হজম এনজাইম ঠিকমতো নিঃসৃত হয় না, ফলে পুষ্টি শোষণে বাধা সৃষ্টি হয়।

৩. ঘামে অতিরিক্ত লবণাক্ততা

অনেক অভিভাবক বা রোগী খেয়াল করেন, ঘাম শুকিয়ে গেলে ত্বকে সাদা লবণের দাগ পড়ে বা চুমু দিলে ঘাম অস্বাভাবিকভাবে নোনতা লাগে। এটি সিস্টিক ফাইব্রোসিসের একটি ক্লাসিক কিন্তু প্রাথমিক লক্ষণ। নতুন তথ্য অনুযায়ী, এই অস্বাভাবিক লবণ নিঃসরণ শরীরকে পানিশূন্যতার দিকে ঠেলে দিতে পারে, যা গরম আবহাওয়ায় আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

৪. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও শারীরিক দুর্বলতা

রোগ প্রকাশের এক বছর আগেই অনেকের মধ্যে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, কম সহনশীলতা এবং শারীরিক দুর্বলতা দেখা যায়। অল্প পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে যাওয়া বা খেলাধুলায় আগ্রহ কমে যাওয়া এর লক্ষণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অক্সিজেন গ্রহণে সমস্যা ও পুষ্টি ঘাটতির যৌথ প্রভাবেই এই উপসর্গ তৈরি হয়।

কখন সতর্ক হওয়া জরুরি

উপরের একাধিক লক্ষণ যদি দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে দেখা যায়, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে, তাহলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সুইট টেস্ট, জেনেটিক টেস্ট ও ফুসফুসের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে সিস্টিক ফাইব্রোসিস নির্ণয় করা সম্ভব।

সিস্টিক ফাইব্রোসিস হঠাৎ ধরা পড়া কোনো রোগ নয়—শরীর অনেক আগেই সংকেত দেয়। সেই সংকেতগুলো সময়মতো বুঝতে পারলে উন্নত চিকিৎসা ও জীবনযাপনের মাধ্যমে রোগীর জীবনমান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব।

Leave A Comment