x
d o c t o r s 2 4
03 Dec

স্কলিয়োসিস বা মেরুদণ্ডের একটি জটিল অবস্থা, যার ফলে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক স-আকৃতি থেকে তরল আকৃতিতে রূপান্তরিত হয় এবং একদিকে বেঁকে যায়। এই অবস্থাটি প্রায়শই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির সময় বিকশিত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণগুলি সূক্ষ্ম থাকে। চিকিৎসা গবেষণায় দেখা গেছে যে, স্কলিয়োসিসের স্পষ্ট অবস্থা গ্রহণের প্রায় এক বছর আগে শরীরে ছয়টি প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকে।

এই লক্ষণগুলি যদি সময়মতো চিহ্নিত করা যায়, তবে প্রাথমিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে রোগের অগ্রগতি রোধ করা এবং মেরুদণ্ডের বক্রতা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

স্কলিয়োসিসের বিকাশ একটি ধীর প্রক্রিয়া, যেখানে মেরুদণ্ডের এক বা একাধিক ভার্সিব্রার অসম বৃদ্ধি ঘটে। এই প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে শরীর যে ছয়টি লক্ষণ প্রকাশ করে, তা নিম্নরূপ:

১. কাঁধের উচ্চতার অসমতা: একটি কাঁধ অন্যটির তুলনায় সামান্য উঁচু হয়ে যায়। এটি প্রথমে খুব সূক্ষ্ম হতে পারে এবং সাধারণ ভঙ্গির অসমতা বলে মনে হতে পারে, কিন্তু এটি মেরুদণ্ডের প্রাথমিক বক্রতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।

২. কোমরের অসমতা: একদিকের কোমরের রেখা অন্যদিকের তুলনায় স্পষ্টভাবে ভিন্ন হয়ে যায়। এই অসমতা স্থায়ী হতে থাকে এবং বসা বা দাঁড়ানোর সময় স্পষ্ট হয়।

৩. একপাশে নিতম্বের উন্নতি: দাঁড়িয়ে থাকার সময় একদিকের নিতম্ব অন্যদিকের তুলনায় উঁচু দেখায়। এটি মেরুদণ্ডের বক্রতার কারণে হিপের অবস্থানের পরিবর্তনের ফলে ঘটে।

৪. পিঠের অসম মাংসপেশীর বিকাশ: পিঠের একপাশের মাংসপেশী অন্যপাশের তুলনায় বেশি উন্নত বা ফোলা হয়ে যায়। এটি মেরুদণ্ডের বক্রতার কারণে একপাশের মাংসপেশীতে অতিরিক্ত চাপ পড়ার ফলে সৃষ্টি হয়।

৫. সামনে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা: দাঁড়িয়ে থাকার সময় শরীর সামনে ঝুঁকে পড়ার একটি সূক্ষ্ম প্রবণতা দেখা যায়। এটি মেরুদণ্ডের সামনের অংশে সামান্য বক্রতা তৈরির প্রথম লক্ষণ।

৬. কমর বা পিঠে স্থায়ী অস্বস্তি: কমর বা মাঝামাঝি পিঠে একটি অস্পষ্ট অস্বস্তি বা হালকা ব্যথা অনুভূত হয়, যা নির্দিষ্ট ভঙ্গি বা অবস্থানে বৃদ্ধি পায়। এই অস্বস্তি প্রথমে অনিয়মিত হলেও ধীরে ধীরে স্থায়ী হয়ে ওঠে।

এই লক্ষণগুলি একত্রিতভাবে বা আংশিকভাবে দেখা দিলে স্কলিয়োসিসের প্রাথমিক পর্যায়ের সম্ভাবনা থাকে। এই পর্যায়ে যদি সময়মতো হস্তক্ষেপ করা যায়, তবে মেরুদণ্ডের বক্রতার ডিগ্রি উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

প্রাথমিক পর্যায়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ফিজিওথেরাপি এবং নির্দিষ্ট ব্যায়ামের মাধ্যমে বক্রতার অগ্রগতি রোধ করা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ২০-২৫ ডিগ্রি বক্রতার ক্ষেত্রে অ-অস্ত্রোপচার পদ্ধতি দিয়ে রোগের অগ্রগতি ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

অ্যাডামস ফরওয়ার্ড বেন্ডিং টেস্ট এবং স্কোলিওমিটারের মাধ্যমে এই প্রাথমিক লক্ষণগুলি সহজেই সনাক্ত করা যায়। বাবুল স্কলিয়োসিসের ক্ষেত্রে এই লক্ষণগুলি বৃদ্ধির সময়কালে বিশেষভাবে স্পষ্ট হয়। এছাড়াও, নিয়মিত এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে বক্রতার ডিগ্রি পরিমাপ করা যায় এবং প্রয়োজনে ব্রেসিং শুরু করা যায়।

এই ছয়টি লক্ষণের প্রতি সচেতনতা বিশেষত শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্কলিয়োসিসের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বৃদ্ধির সময়কালে এই অবস্থা বিকশিত হয়। অভিভাবকদের উচিত সন্তানের ভঙ্গি এবং শারীরিক গঠনের প্রতি নিয়মিত নজর রাখা। প্রাথমিক পর্যায়ে স্কলিয়োসিস সনাক্ত করলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা অনেক কমে যায় এবং জীবনযাত্রার মান রক্ষা করা সম্ভব।

Leave A Comment