x
d o c t o r s 2 4
20 Jan

ত্বকের ক্যানসারের মধ্যে স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা (Squamous Cell Carcinoma বা SCC) দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রচলিত ধরন। সাধারণত মেলানোমার মতো এটি তিল থেকে শুরু হয় না, বরং এটি ত্বকের উপরিভাগের ক্ষত বা দাগ হিসেবে দেখা দেয়। চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন যে, রোগটি শনাক্ত হওয়ার অন্তত ২ মাস আগে থেকেই ত্বকে এমন কিছু পরিবর্তন দেখা দেয়, যা সাধারণ চর্মরোগ বা অ্যালার্জি ভেবে মানুষ এড়িয়ে যান।

দেরি হলে এই ক্যানসার ত্বকের গভীর স্তরে, এমনকি লসিকা গ্রন্থিতে (Lymph Nodes) ছড়িয়ে পড়তে পারে। নিচে স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমার ৪টি প্রধান লক্ষণ আলোচনা করা হলো, যা সাধারণত ২ মাস বা তার বেশি সময় ধরে ত্বকে বিদ্যমান থাকে।

ত্বকে হঠাৎ কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে তা সবসময় সাধারণ র‍্যাশ নাও হতে পারে। বিশেষ করে যদি নিচের ৪টি লক্ষণের কোনোটি আপনার ত্বকে ৮ সপ্তাহ বা ২ মাসের বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয়, তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

১. নিরাময় অযোগ্য ক্ষত (Persistent Open Sores)

সাধারণত শরীরের কোনো জায়গা কেটে গেলে বা ছিলে গেলে তা ১-২ সপ্তাহের মধ্যে শুকিয়ে যায়। কিন্তু স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমার ক্ষেত্রে ক্ষতটি ২ মাসের বেশি সময় ধরে কাঁচা থাকে।

  • এই ক্ষতটি দেখতে অনেকটা আলসারের মতো হতে পারে।

  • এটি কিছুদিন শুকায়, মামড়ি পড়ে, কিন্তু আবার রক্তপাত শুরু হয় বা ঘা হয়ে যায়।

  • বিশেষ করে ঠোঁটে বা মুখে এমন ক্ষত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা ক্যানসারের পূর্বলক্ষণ হতে পারে।

২. খসখসে লালচে আস্তরণ (Rough, Scaly Red Patches)

শরীরের যেসব অংশে রোদ বেশি লাগে (যেমন মুখ, কান, ঘাড়, হাত), সেখানে লালচে বা গোলাপি রঙের খসখসে দাগ দেখা দেওয়া SCC-র অন্যতম প্রধান লক্ষণ।

  • অনেকে একে একজিমা বা শুষ্ক ত্বক (Dry Skin) ভেবে ভুল করেন এবং ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে থাকেন।

  • সাধারণ শুষ্ক ত্বক লোশন বা ক্রিমে ভালো হয়ে যায়, কিন্তু ক্যানসারযুক্ত এই দাগ বা ‘প্যাচ’ কোনোভাবেই মসৃণ হয় না।

  • এই দাগগুলোর ওপরের চামড়া মাছের আঁশের মতো উঠে আসতে পারে।

৩. গর্তযুক্ত বা আগ্নেয়গিরির মতো বৃদ্ধি (Elevated Growth with Central Depression)

ত্বকের ওপর হঠাৎ কোনো মাংসপিণ্ড বা পিণ্ড দেখা দেওয়া, যা খুব দ্রুত বড় হচ্ছে—এটি বিপদের সংকেত।

  • এই ধরনের বৃদ্ধির মাঝখানটা কিছুটা ডেবে বা গর্তের মতো হয়ে থাকে (Central Depression), যা দেখতে অনেকটা ছোট আগ্নেয়গিরির মতো।

  • এর চারপাশে উঁচু বর্ডার বা সীমানা থাকে।

  • মাঝখানের নিচু অংশে রক্ত জমাট বাঁধা বা মামড়ি পড়া থাকতে পারে।

৪. আঁচিল বা পুরনো ক্ষতের পরিবর্তন (Wart-like Growths or Scar Changes)

স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা কখনো কখনো আঁচিলের মতো দেখতে হয়। তবে সাধারণ আঁচিল যেমন মসৃণ হয়, এটি তেমন হয় না; বরং এর উপরিভাগ অমসৃণ এবং শক্ত হয়।

অনেক সময় শরীরের কোনো পুরনো পোড়া দাগ বা আঘাতের চিহ্নের (Scar tissue) ওপর নতুন করে ঘা বা পরিবর্তন দেখা দিলে সেটিও SCC হতে পারে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘মার্জোলিন্স আলসার’ (Marjolin’s Ulcer) বলা হয়, যা স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমার একটি আগ্রাসী রূপ।

কেন ‘২ মাস’ সময়টি গুরুত্বপূর্ণ?

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের সাধারণ সমস্যা সাধারণত ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায় বা উন্নতি ঘটে। কিন্তু যদি কোনো লক্ষণ ৮ সপ্তাহ বা ২ মাসের বেশি সময় ধরে অপরিবর্তিত থাকে বা আরও খারাপ হয়, তবে সেটি সাধারণ কোনো সংক্রমণ নয়। এই ২ মাসের মধ্যে যদি সঠিক চিকিৎসা শুরু করা না যায়, তবে স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা ত্বকের নিচে থাকা নার্ভ বা স্নায়ুর ক্ষতি করতে পারে, যার ফলে ওই স্থানে অসাড়তা বা তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

কাদের ঝুঁকি বেশি?

  • যাদের গায়ের রঙ ফর্সা এবং রোদে ত্বক সহজেই পুড়ে যায়।

  • যারা দীর্ঘসময় কড়া রোদে কাজ করেন।

  • যাদের অতীতে ‘অ্যাক্টিনিক কেরাটোসিস’ (সূর্যালোকজনিত ত্বকের ক্ষতি) এর ইতিহাস আছে।

  • দীর্ঘদিন ধরে যারা আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করেছেন।

সচেতনতাই প্রতিরোধের প্রথম ধাপ। উপরের লক্ষণগুলো নিজের বা পরিবারের কারো শরীরে দেখা দিলে ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার না করে দ্রুত বায়োপসি বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Leave A Comment