x
d o c t o r s 2 4
07 Oct

আধুনিক জীবনযাত্রায় স্থূলতা একটি নীরব মহামারী হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে প্রায় ৩০% প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৫% শিশু-কিশোর স্থূলতায় ভুগছে, বলছে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য গবেষণা ইনস্টিটিউট। এই অবস্থা শুধু চেহারার বিষয় নয়, এটি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং জয়েন্টের সমস্যার মতো গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে সঠিক জীবনযাত্রা এবং খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে স্থূলতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আসুন জেনে নিই স্থূলতার কারণ, ঝুঁকি এবং স্বাস্থ্যকর ওজন কমানোর উপায়।

স্থূলতার কারণ

স্থূলতা সাধারণত শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি জমা হওয়ার ফলে হয়, যখন গ্রহণ করা ক্যালরি ব্যয় হওয়া ক্যালরির চেয়ে বেশি হয়। এর পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে:

  • অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: ফাস্ট ফুড, চিনিযুক্ত পানীয় এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খাওয়া।
  • শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা: বসে থাকা জীবনযাপন, যেমন ডেস্ক জব বা অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম।
  • জিনগত কারণ: পরিবারের স্থূলতার ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়ে।
  • মানসিক চাপ: স্ট্রেস বা বিষণ্ণতার কারণে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা।
  • অন্যান্য: ঘুমের অভাব, হরমোনজনিত সমস্যা এবং কিছু ওষুধ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ফাস্ট ফুডের জনপ্রিয়তা এবং শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া স্থূলতার হার বাড়ার অন্যতম কারণ।

স্থূলতার ঝুঁকি

স্থূলতা শুধু ওজন বাড়ায় না, এটি একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে:

  • হৃদরোগ: অতিরিক্ত ওজন রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল বাড়ায়, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • টাইপ-২ ডায়াবেটিস: স্থূলতা ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • জয়েন্টে ব্যথা: হাঁটু এবং কোমরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
  • মানসিক স্বাস্থ্য: আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া এবং বিষণ্ণতা।
  • ক্যান্সার: স্তন, কোলন এবং লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।

একটি হার্ভার্ড গবেষণায় দেখা গেছে, ৫ কেজি ওজন কমালে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ১৫% কমে।

স্বাস্থ্যকর ওজন কমানোর উপায়

ওজন কমানোর জন্য ক্র্যাশ ডায়েট বা অতিরিক্ত ব্যায়াম এড়িয়ে স্থায়ী জীবনযাত্রার পরিবর্তন গ্রহণ করুন। এখানে কিছু কার্যকর উপায়:

  • সুষম খাদ্য গ্রহণ:
    • ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য এবং চর্বিহীন প্রোটিন খান।
    • প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং চিনিযুক্ত পানীয় কমান।
    • বাংলাদেশে সহজলভ্য লাল চাল, ডাল এবং সবুজ শাক দিয়ে পুষ্টিকর খাবার তৈরি করুন।
  • নিয়মিত ব্যায়াম:
    • প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা, সাইক্লিং বা যোগব্যায়াম করুন।
    • সপ্তাহে ২-৩ দিন শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম, যেমন ওজন উত্তোলন।
  • পর্যাপ্ত ঘুম: ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  • পানি পান: দিনে ২-৩ লিটার পানি খান, যা বিপাক বাড়ায়।
  • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: ধ্যান বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন।

একটি আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনের গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতি সপ্তাহে ০.৫-১ কেজি ওজন কমানো সবচেয়ে নিরাপদ। দ্রুত ওজন কমানো পেশি হ্রাস এবং পুষ্টির ঘাটতি সৃষ্টি করতে পারে।

Leave A Comment