থাইরয়েড গ্রন্থির ঠিক পেছনেই লুকিয়ে থাকে মটরদানার মতো চারটি ছোট গ্রন্থি, যাদের নাম প্যারাথাইরয়েড। আকারে ক্ষুদ্র হলেও শরীরের ক্যালসিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এদের ক্ষমতা অপরিসীম। যখন এই গ্রন্থিগুলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে হরমোন নিঃসরণ শুরু করে, তখন শরীরে ক্যালসিয়ামের সুনামি বয়ে যায়—চিকিৎসাবিজ্ঞানে একেই বলা হয় হাইপারপ্যারাথাইরয়েডিজম। আমাদের রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা ঠিক কত থাকবে, তা সেকেন্ডে সেকেন্ডে মেপে চলে প্যারাথাইরয়েড […]
ভিটামিন-কে আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চর্বি-দ্রবণীয় ভিটামিন। এটি মূলত রক্ত জমাট বাঁধার (blood clotting) প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে এবং হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরে ভিটামিন K–এর ঘাটতি হলে ছোট আঘাতেও দীর্ঘক্ষণ রক্তপাত, সহজে রক্তক্ষরণ এবং হাড়ের দুর্বলতার মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, গুরুতর উপসর্গ প্রকাশের অন্তত দুই মাস আগে শরীর […]
ভিটামিন ই (Vitamin E) শরীরের জন্য একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। এটি চর্বিতে দ্রবণীয় একটি ভিটামিন, যা লিভারে দীর্ঘসময় জমা থাকতে পারে। এ কারণেই এর ঘাটতি হুট করে ধরা পড়ে না। যখন শরীরে ভিটামিন ই-এর সঞ্চয় ফুরিয়ে আসতে শুরু করে, তখন প্রায় ৬ মাস আগে থেকেই শরীর অত্যন্ত সূক্ষ্ম কিছু […]
রক্তে ফসফেটের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে যে অবস্থা তৈরি হয় তাকে বলা হয় হাইপোফসফেটেমিয়া। ফসফেট শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান, যা হাড় ও দাঁত গঠনে, কোষে শক্তি উৎপাদনে (ATP তৈরি), পেশি ও স্নায়ুর কার্যক্রমে এবং কোষ বিভাজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাধারণত রক্তে ফসফেটের মাত্রা ২.৫–৪.৫ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার থাকে। এই মাত্রা দীর্ঘদিন কমে গেলে ধীরে ধীরে […]
হাইপারফসফেটেমিয়া (Hyperphosphatemia) বা রক্তে ফসফরাসের আধিক্য একটি নিরব ঘাতকের মতো। বিশেষ করে যারা কিডনির জটিলতায় ভুগছেন, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সাধারণত ফসফরাস আমাদের হাড় ও দাঁত মজবুত করতে সাহায্য করে, কিন্তু এর মাত্রা বেড়ে গেলে তা হাড় থেকে ক্যালসিয়াম শুষে নেয় এবং রক্তনালীতে পাথর বা ক্যালসিফিকেশন তৈরি করে। সবচেয়ে ভীতিজনক বিষয় হলো, হাইপারফসফেটেমিয়া মারাত্মক […]
ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস বা DVT হলো একটি গম্ভীর শারীরিক অবস্থা, যেখানে পায়ের গভীর শিরায় রক্ত জমাট বাঁধে। সাধারণত এটি হ্যামস্ট্রিং বা কালভ অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। DVT শুধুমাত্র স্থানীয় সমস্যাই তৈরি করে না, বরং যদি জমাট রক্ত প্রবাহ ধরে লাংসে চলে যায়, তবে পালমোনারি এমবোলিজম (PE) হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই প্রাথমিক […]
রক্তে ক্লোরাইডের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে যে অবস্থা তৈরি হয় তাকে বলা হয় হাইপোক্লোরেমিয়া। ক্লোরাইড একটি গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রোলাইট, যা শরীরের তরল ভারসাম্য, অ্যাসিড-ক্ষার সমতা (pH balance) এবং স্নায়ু ও পেশির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাধারণত রক্তে ক্লোরাইডের মাত্রা ৯৮–১০৬ মিলিমোল/লিটার থাকে। এর নিচে নেমে গেলে ধীরে ধীরে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের […]
হাইপারক্লোরেমিয়া হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে রক্তে ক্লোরাইডের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যায় (স্বাভাবিক মাত্রা সাধারণত ৯৬-১০৬ mEq/L)। এটি সরাসরি কোনো রোগ নয়, বরং শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনো বড় সমস্যার প্রাথমিক সংকেত। অনেক সময় এই ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা মারাত্মক হওয়ার ১ সপ্তাহ আগে থেকেই শরীর কিছু সূক্ষ্ম লক্ষণ দেখাতে শুরু করে। আমাদের শরীরে জল এবং লবণের […]
রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে যে অবস্থা তৈরি হয়, তাকে বলা হয় হাইপোন্যাট্রেমিয়া। সোডিয়াম শরীরের তরল ভারসাম্য, স্নায়ুর সংকেত আদান-প্রদান এবং পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাধারণত রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা ১৩৫–১৪৫ মিলিমোল/লিটার থাকে। এর নিচে নেমে গেলে শারীরিক ও মানসিক নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, গুরুতর জটিলতা শুরুর […]
হাইপারন্যাট্রেমিয়া বা রক্তে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা। শরীরের কোষ থেকে জল বের হয়ে যাওয়ার ফলে সোডিয়ামের ঘনত্ব বেড়ে গেলে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। অনেক সময় লক্ষণগুলো প্রকট হওয়ার আগেই শরীর কিছু সংকেত দেয়। যখন রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে (১৪৫ mEq/L) বেশি হয়ে যায়, তখন তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় হাইপারন্যাট্রেমিয়া (Hypernatremia) […]