ভিটামিন B2, যার বৈজ্ঞানিক নাম রিবোফ্লাভিন (Riboflavin), আমাদের শরীরের শক্তি উৎপাদনের কারখানায় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। এটি কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং ফ্যাট ভেঙে শক্তিতে রূপান্তর করতে সাহায্য করে। যেহেতু শরীর এই ভিটামিনটি সঞ্চয় করে রাখতে পারে না, তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এর উপস্থিতি অপরিহার্য। আমাদের সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি লুকিয়ে থাকে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সব পুষ্টি উপাদানে। ভিটামিন B2 বা রিবোফ্লাভিন […]
ভিটামিন B1, যার বৈজ্ঞানিক নাম থায়ামিন, শরীরের শক্তি উৎপাদন ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য অপরিহার্য। আমরা যে কার্বোহাইড্রেটজাত খাবার খাই, তা শক্তিতে রূপান্তর করতে থায়ামিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ভিটামিনের ঘাটতি দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলে বেরিবেরি রোগ, স্নায়ুর ক্ষতি এমনকি হৃদ্যন্ত্রের জটিলতা পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুতর জটিলতা দেখা দেওয়ার অন্তত এক মাস আগে শরীর […]
সাবক্লিনিক্যাল হাইপোথাইরয়েডিজম হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোনের মাত্রা কিছুটা কম থাকে, কিন্তু অনেক সময় তা দৈনন্দিন লক্ষণ স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় না। এটি প্রাথমিক বা অদৃশ্য হাইপোথাইরয়েডিজমের একটি ধাপ, যা সময়মতো শনাক্ত না হলে হরমোনজনিত জটিলতা, হৃদরোগ এবং মানসিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধান লক্ষণগুলো তিন মাস আগে থেকেই ধীরে ধীরে […]
প্যানক্রিয়াটাইটিস হলো একটি জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা, যেখানে অগ্ন্যাশয় (প্যানক্রিয়াস) প্রদাহিত হয়। অগ্ন্যাশয় শরীরের হজম প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম উৎপাদন করে এবং ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন তৈরি করে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। প্যানক্রিয়াটাইটিসের ফলে অগ্ন্যাশয় সংক্রমণ, এনজাইমের অতিরিক্ত স্রাব এবং হজমজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এটি হঠাৎ (acute) বা দীর্ঘমেয়াদী (chronic) হতে পারে, এবং সময়মতো চিকিৎসা […]
সেলেনিয়াম (Selenium) শরীরের জন্য একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খনিজ, যা থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা এবং ডিএনএ সুরক্ষায় অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। এটি একটি ‘ট্রেস মিনারেল’, যার অর্থ শরীরে খুব সামান্য পরিমাণে এটি প্রয়োজন হলেও এর অভাব হলে পুরো সিস্টেম ভেঙে পড়তে পারে। সেলেনিয়ামের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ার প্রায় ২ মাস আগে থেকেই শরীর কিছু সতর্কতামূলক […]
ভিটামিন B6 (পাইরিডক্সিন) শরীরের প্রোটিন বিপাক, নিউরোট্রান্সমিটার তৈরি, হিমোগ্লোবিন উৎপাদন এবং হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি ট্রিপটোফ্যান থেকে সেরোটোনিন, গ্লুটামেট থেকে GABA এবং হোমোসিস্টেইন বিপাকে সহায়তা করে। দীর্ঘদিন ঘাটতি থাকলে রক্তস্বল্পতা, স্নায়বিক জটিলতা ও ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুতর জটিলতা শুরুর প্রায় চার মাস আগেই শরীর কিছু সূক্ষ্ম সতর্কবার্তা দেয়। […]
ভিটামিন সি বা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড আমাদের শরীরের জন্য একটি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান, যা শরীর নিজে তৈরি করতে পারে না। এটি কোলাজেন তৈরি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং আয়রন শোষণে প্রধান ভূমিকা পালন করে। যেহেতু ভিটামিন C জলে দ্রবণীয়, তাই শরীর এটি দীর্ঘক্ষণ জমা রাখতে পারে না। ফলস্বরূপ, যখনই শরীরে এর ঘাটতি তৈরি হতে শুরু করে, […]
থাইরয়েড গ্রন্থির ঠিক পেছনেই লুকিয়ে থাকে মটরদানার মতো চারটি ছোট গ্রন্থি, যাদের নাম প্যারাথাইরয়েড। আকারে ক্ষুদ্র হলেও শরীরের ক্যালসিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এদের ক্ষমতা অপরিসীম। যখন এই গ্রন্থিগুলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে হরমোন নিঃসরণ শুরু করে, তখন শরীরে ক্যালসিয়ামের সুনামি বয়ে যায়—চিকিৎসাবিজ্ঞানে একেই বলা হয় হাইপারপ্যারাথাইরয়েডিজম। আমাদের রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা ঠিক কত থাকবে, তা সেকেন্ডে সেকেন্ডে মেপে চলে প্যারাথাইরয়েড […]
ভিটামিন-কে আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চর্বি-দ্রবণীয় ভিটামিন। এটি মূলত রক্ত জমাট বাঁধার (blood clotting) প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে এবং হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরে ভিটামিন K–এর ঘাটতি হলে ছোট আঘাতেও দীর্ঘক্ষণ রক্তপাত, সহজে রক্তক্ষরণ এবং হাড়ের দুর্বলতার মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, গুরুতর উপসর্গ প্রকাশের অন্তত দুই মাস আগে শরীর […]
ভিটামিন ই (Vitamin E) শরীরের জন্য একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। এটি চর্বিতে দ্রবণীয় একটি ভিটামিন, যা লিভারে দীর্ঘসময় জমা থাকতে পারে। এ কারণেই এর ঘাটতি হুট করে ধরা পড়ে না। যখন শরীরে ভিটামিন ই-এর সঞ্চয় ফুরিয়ে আসতে শুরু করে, তখন প্রায় ৬ মাস আগে থেকেই শরীর অত্যন্ত সূক্ষ্ম কিছু […]