রক্তে ক্লোরাইডের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে যে অবস্থা তৈরি হয় তাকে বলা হয় হাইপোক্লোরেমিয়া। ক্লোরাইড একটি গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রোলাইট, যা শরীরের তরল ভারসাম্য, অ্যাসিড-ক্ষার সমতা (pH balance) এবং স্নায়ু ও পেশির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাধারণত রক্তে ক্লোরাইডের মাত্রা ৯৮–১০৬ মিলিমোল/লিটার থাকে। এর নিচে নেমে গেলে ধীরে ধীরে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের […]
হাইপারক্লোরেমিয়া হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে রক্তে ক্লোরাইডের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যায় (স্বাভাবিক মাত্রা সাধারণত ৯৬-১০৬ mEq/L)। এটি সরাসরি কোনো রোগ নয়, বরং শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনো বড় সমস্যার প্রাথমিক সংকেত। অনেক সময় এই ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা মারাত্মক হওয়ার ১ সপ্তাহ আগে থেকেই শরীর কিছু সূক্ষ্ম লক্ষণ দেখাতে শুরু করে। আমাদের শরীরে জল এবং লবণের […]
রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে যে অবস্থা তৈরি হয়, তাকে বলা হয় হাইপোন্যাট্রেমিয়া। সোডিয়াম শরীরের তরল ভারসাম্য, স্নায়ুর সংকেত আদান-প্রদান এবং পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাধারণত রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা ১৩৫–১৪৫ মিলিমোল/লিটার থাকে। এর নিচে নেমে গেলে শারীরিক ও মানসিক নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, গুরুতর জটিলতা শুরুর […]
হাইপারন্যাট্রেমিয়া বা রক্তে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা। শরীরের কোষ থেকে জল বের হয়ে যাওয়ার ফলে সোডিয়ামের ঘনত্ব বেড়ে গেলে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। অনেক সময় লক্ষণগুলো প্রকট হওয়ার আগেই শরীর কিছু সংকেত দেয়। যখন রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে (১৪৫ mEq/L) বেশি হয়ে যায়, তখন তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় হাইপারন্যাট্রেমিয়া (Hypernatremia) […]
ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি একটি জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যখন ঠিকমতো কাজ করে না, তখন শরীর খুব সহজেই বিভিন্ন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হয়। অনেক ক্ষেত্রে মূল রোগ ধরা পড়ার প্রায় এক বছর আগে থেকেই শরীর কিছু সতর্কতামূলক লক্ষণ দিতে শুরু করে। এই লক্ষণগুলো সময়মতো চিনতে পারলে বড় […]
ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অভাবজনিত রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘কমন ভ্যারিয়েবল ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি’ বা CVID। এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে না। ফলে শরীর বারবার বিভিন্ন জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগের চূড়ান্ত লক্ষণগুলো প্রকট হওয়ার প্রায় ৬ মাস আগে থেকেই শরীর কিছু সূক্ষ্ম সংকেত পাঠাতে শুরু […]
ইমিউন সিস্টেমের বিরল ও বংশগত রোগগুলোর মধ্যে এক্স-লিঙ্কড অ্যাগামাগ্লোবুলিনেমিয়া (XLA) বা ‘ব্রুটনস ডিজিজ’ অত্যন্ত জটিল। সাধারণত এই রোগটি শিশুদের (মূলত ছেলেদের) ক্ষেত্রে ৬ থেকে ৯ মাস বয়সের পর থেকে ধরা পড়তে শুরু করে। তবে অনেক ক্ষেত্রে রোগটি পূর্ণরূপে শনাক্ত হওয়ার প্রায় ২ বছর আগে থেকেই শরীর এমন কিছু সংকেত দেয়, যা সাধারণ সর্দি-কাশি মনে করে […]
সেভিয়ার কম্বাইন্ড ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি (SCID), যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে ‘বাবল বয় ডিজিজ’ নামেও পরিচিত, এটি একটি অত্যন্ত বিরল এবং জীবনঘাতী জেনেটিক ব্যাধি। এই রোগে আক্রান্ত শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম বলতে গেলে প্রায় থাকেই না। সাধারণত জন্মের সময় শিশুকে সুস্থ মনে হলেও, শরীরের সুরক্ষা কবজ না থাকায় পরবর্তী কয়েক মাস তাদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ […]
ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস (DKA) হলো ডায়াবেটিসের এমন একটি জটিলতা যা অত্যন্ত দ্রুত এবং ভয়াবহভাবে শরীরে দানা বাঁধতে পারে। এটি মূলত টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা দিলেও ইনসুলিন-নির্ভর টাইপ-২ রোগীদের ক্ষেত্রেও এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। শরীরে ইনসুলিনের চরম অভাব দেখা দিলে কোষগুলো শক্তির জন্য গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে না, ফলে শরীর চর্বি বা ফ্যাট ভাঙতে শুরু […]
আমাদের শরীরের রক্তে অম্ল (Acid) এবং ক্ষারের (Base) একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় থাকে। যখন রক্তে ক্ষারের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তখন সেই অবস্থাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হয় মেটাবলিক অ্যালকালোসিস। এটি সাধারণত শরীরে ইলেকট্রোলাইট বা খনিজ লবণের ভারসাম্য নষ্ট হলে, অতিরিক্ত বমি হলে বা কিডনির সমস্যায় দেখা দেয়। অনেকে মনে করেন এটি হঠাৎ করেই ঘটে, কিন্তু […]