অ্যালার্জি মানেই কি কেবল চুলকানি বা একটু হাঁচি-কাশি? মোটেও না। কখনো কখনো শরীরের সাধারণ একটি অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়ায় জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় অ্যানাফাইলেক্সিস (Anaphylaxis)। এটি এমন এক মারাত্মক পরিস্থিতি যেখানে অ্যালার্জেন (যেমন: বাদাম, চিংড়ি, মৌমাছির হুল বা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ) শরীরের সংস্পর্শে আসার কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে […]
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হঠাৎ করেই জীবনঝুঁকিপূর্ণ জটিলতা দেখা দিতে পারে। তেমনই একটি মারাত্মক অবস্থা হলো হাইপারওসমোলার হাইপারগ্লাইসেমিক স্টেট, Hyperosmolar Hyperglycemic State (এইচএইচএস)। এটি মূলত টাইপ–২ ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং দ্রুত চিকিৎসা না পেলে কোমা বা মৃত্যুঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবস্থার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আগে শরীরে কিছু সতর্ক সংকেত […]
দুর্লভ হলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রোগ হলো Hyper IgE Syndrome বা হাইপার ইমিউনোগ্লোবুলিন ই সিন্ড্রোম (এইচআইইএস)। এটি এক ধরনের প্রাইমারি ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি, যেখানে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে বারবার সংক্রমণ, ত্বকের সমস্যা এবং ফুসফুসজনিত জটিলতা দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগটি ধরা পড়ার অন্তত তিন মাস আগে শরীরে কিছু সতর্কতামূলক লক্ষণ দেখা দিতে […]
একজন মানুষ ভিড়ের মধ্যে সবসময় আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে চাইছেন, অতিরঞ্জিত অঙ্গভঙ্গি করছেন কিংবা খুব দ্রুত আবেগ পরিবর্তন করছেন—একে আমরা অনেক সময় ‘নাটকীয়তা’ বলে এড়িয়ে যাই। কিন্তু মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এটি একটি জটিল মানসিক অবস্থা, যার নাম হিস্ট্রিওনিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার (HPD)। এটি মূলত ‘ক্লাস্টার বি’ ঘরানার ব্যক্তিত্বের ব্যাধি, যা একজন ব্যক্তির চিন্তা ও আচরণের ধরণকে অস্বাভাবিকভাবে প্রভাবিত […]
নিয়মিত সর্দি-কাশি, হজমের সমস্যা বা অ্যালার্জি—এসবকে আমরা সাধারণ অসুখ ভেবেই এড়িয়ে যাই। কিন্তু কখনও কখনও এই উপসর্গগুলো হতে পারে শরীরের গভীরতর রোগপ্রতিরোধ ঘাটতির ইঙ্গিত। এমনই একটি নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো Selective IgA Deficiency বা সিলেকটিভ আইজিএ ডেফিসিয়েন্সি। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগটি শনাক্ত হওয়ার প্রায় এক বছর আগে শরীরে কিছু সতর্ক সংকেত দেখা দিতে পারে। সিলেকটিভ […]
আমাদের শরীর একটি যন্ত্রের মতো, যেখানে পাকস্থলী হলো প্রধান প্রসেসর। কিন্তু ভাবুন তো, যদি আপনার পাকস্থলী খাবার হজম করতে গিয়ে ‘অলস’ হয়ে পড়ে? চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় গ্যাস্ট্রোপ্যারেসিস (Gastroparesis)। এটি এমন এক রোগ যেখানে পাকস্থলীর পেশীগুলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না, ফলে খাবার ক্ষুদ্রান্ত্রে পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়ে যায়। আধুনিক জীবনে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস […]
আমাদের শরীরের রক্তে অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য বজায় রাখা জীবনের জন্য অপরিহার্য। যখন শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীর থেকে অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড বেরিয়ে যায়, তখন রক্তে ক্ষারের পরিমাণ বেড়ে যায়—এই অবস্থাকেই চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হয় রেসপিরেটরি অ্যালকালোসিস। এটি সাধারণত হাইপারভেন্টিলেশন বা দ্রুত শ্বাস নেওয়ার কারণে ঘটে। অনেকে মনে করেন এটি কেবল তাৎক্ষণিক আতঙ্কের (Panic Attack) কারণে […]
রক্তের শ্বেত রক্তকণিকার একটি বিশেষ ধরণ হলো প্লাজমা সেল, যা মূলত অ্যান্টিবডি তৈরি করে আমাদের শরীরকে সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে। তবে যখন এই প্লাজমা সেলগুলো অস্বাভাবিকভাবে এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে শুরু করে, তখন তাকে ‘প্লাজমা সেল ডিসঅর্ডার’ (Plasma Cell Disorder) বলা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত এবং জটিল অবস্থা হলো ‘মাল্টিপল মাইলোমা’। এই রোগটি শনাক্ত […]
লিম্ফোসাইটোসিস (Lymphocytosis) মূলত রক্তে শ্বেত রক্তকণিকার একটি বিশেষ ধরণ ‘লিম্ফোসাইট’-এর মাত্রা বেড়ে যাওয়াকে বোঝায়। লিম্ফোসাইট আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার মূল প্রহরী, যা ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে আমাদের রক্ষা করে। তবে যখন এর মাত্রা অস্বাভাবিক হয়ে যায়, তখন বুঝতে হবে শরীর কোনো বড় ধরণের অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ে লিপ্ত। অনেক সময় লিউকেমিয়া বা লিম্ফোমার মতো গুরুতর সমস্যার […]
ইওসিনোফিল বা মোনোসাইটের তুলনায় বাসোফিল (Basophil) আমাদের রক্তে সংখ্যায় খুবই কম থাকে—মোট শ্বেত রক্তকণিকার মাত্র ১ শতাংশেরও কম। কিন্তু এই নগণ্য কোষটিই যখন অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে, তখন তাকে ‘বাসোফিলিয়া’ (Basophilia) বলা হয়। বাসোফিলিয়া মূলত শরীরের কোনো গভীর অ্যালার্জি, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বা এমনকি হাড়ের মজ্জার বড় কোনো সমস্যার সংকেত হতে পারে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, রোগটি […]